Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৬ সেপ্টেম্বর, ২০২৩ ০৩:৪৩ পূর্বাহ্ণ

রসায়নের ধারণা

মাধ্যমিক রসায়ন

প্রথম অধ্যায় (রসায়নের ধারণা)


1.1 বিজ্ঞান : পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও পদ্ধতিগত ভাবে লব্ধ সুশৃঙ্খল ও সুসংবদ্ধ জ্ঞান এবং এই জ্ঞান অর্জনের প্রক্রিয়া ও পদ্ধতিই হল বিজ্ঞান।

(The systemic study of the nature and behavior of the material and physical universe based on observation , experiment and measurement and the formulation of laws to describe the facts in general terms is known as science. )


বিজ্ঞানের শাখা : বিজ্ঞানের প্রধান ও দুটি শাখা রয়েছে- যথা : (১) সামাজিক বিজ্ঞান (২) প্রাকৃতিক বিজ্ঞান।


প্রাকৃতিক বিজ্ঞান : বিজ্ঞানের যে শাখায় যুক্তি দিয়ে পর্যবেক্ষণ করে অথবা পরীক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমে প্রাকৃতিক কোন বিষয় সমন্ধে বোঝা বা তার ব্যাখ্যা দেওয়া বা সে সম্বন্ধে ভাবিষ্যদ্বানী করাই হলো প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের কাজ।


প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের দুইটি প্রধান ভাগ রয়েছে।

১. জীববিজ্ঞান ২.ভৌতবিজ্ঞান 


ভৌতবিজ্ঞান : প্রাকৃতিক বিজ্ঞানের যে শাখায় জড় বস্তুর গঠন, ধর্ম. অথবা শক্তি নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে ভৌতবিজ্ঞান বলে।

(Physical science is a branch of natural science that studies non living thing in contrast to life science. )


ভৌতবিজ্ঞানের অনেক শাখা রয়েছে। যেমনঃ পদার্থবিজ্ঞান, রসায়ন, মহাকাশ বিজ্ঞান, মৃত্তিকা বিজ্ঞান ইত্যাদি।


রসায়ন : বিজ্ঞানের যে শাখায় পদার্থের গঠন, পদার্থের ধর্ম ও পদার্থের পরিবর্তন নিয়ে আলোচনা করা হয় তাকে রসায়ন বলে।(Chemistry is the science that deals with the structure,  composition and properties of substances and changes they undergo to form new substances.)


মরিচা : আয়রণ  সক্রিয় ধাতু। তাই প্রকৃতিতে লোহাকে মুক্ত অবস্থায় পাওয়া যায় না। বিশুদ্ধ লোহা জলীয় বাষ্পের উপস্থিতিতে বাতাসের অক্সিজেনের সাথে বিক্রিয়া করে আয়রণ অক্সাইডে পরিণত হয় যা মরিচা নামে পরিচিত।


 Fe + O2 + H2O ---  Fe2 O3. nH2O


সংকর ধাতু : সংকর ধাতু হলো একাধিক ধাতুর সমসত্ব মিশ্রণ যাতে ধাতব পদার্থগুলোর নির্দিষ্ট সংযুক্তি বিদ্যমান। সংকর ধাতুতে ধাতব উপাদানগুলো ধাতব বন্ধন দ্বারা আবদ্ধ। যেমন - কপার ও টিন ধাতুকে গলিয়ে তরলে পরিণত করে একত্রে মিশিয়ে ব্রোঞ্জ নামক সংকর ধাতু তৈরি করা হয়।


পাকা আম মিষ্টি লাগার কারণ : কাঁচা আমে বিভিন্ন ধরনের জৈব এসিড থাকে যেমন - সাক্সিনিক এসিড, ম্যালেয়িক এসিড প্রভৃতি। ফলে কাঁচা আম টক। কিন্তু আম যখন পাকে তখন এই এসিডগুলোর রাসায়নিক পরিবর্তন ঘটে গ্লুকোজ ও ফ্রুক্টোজের সৃষ্টি হয়। তাই পাকা আম মিষ্টি।


এসিডিটির জন্য এন্টাসিড খাওয়ার কারণ : পাকস্থলিতে আতিরিক্ত হাইড্রোক্লোরিক এসিড জমা হলে পেটে এসিডিটির সৃষ্টি হয়। এন্টাসিডে থাকে অ্যালুমিনিয়াম হাইড্রোক্সাইড ও ম্যাগনেসিয়াম হাইড্রোক্সাইড। এ দুটি যৌগ এসিডকে প্রশমিত করে। ফলে পেটের জ্বালা দুর হয়।


 Hcl + Al (OH) 3 -- AlCl3 +  H2O

    (aq)           (s)              (aq)       (l)


 Hcl  + Mg (OH)2 -- Mgcl2  + H2O

  (aq)                (s)              (aq)   (l)


1.5 গবেষণা : সঠিক পদ্ধতিতে পরীক্ষা নীরিক্ষার মাধ্যমে কোন তথ্য অনুসন্ধান করা বা জ্ঞান অর্জনকে গবেষণা বলে।


গবেষণা প্রক্রিয়া ধাপ-

(১) সমস্যা চিহ্নিত করণ

(২) তথ্য সংগ্রহ ও বিশ্লেষণ 

(৩) পরীক্ষার পরিকল্পনা প্রনয়ন

(৪) পরীক্ষণ

(৫) পর্যবেক্ষণ

(৬) ফলাফল বিশ্লেষণ ও সিদ্ধান্ত গ্রহণ।


1.6 পরীক্ষাগারে ব্যবহৃত বিভিন্ন সাংকেতিক চিহ্ন :


বিস্ফোরিত বোমা :  টিএনটি, জৈব পারঅক্সাইড, নাইট্রোগ্লিসারিণ ইত্যাদি বিস্ফোরক পদার্থ। এসব পদর্থ সামান্য আঘাতে  খুব সহজেই (স্বতঃস্ফূর্তভাবে) বিক্রিয়া করে প্রচন্ড বিস্ফোরণ হতে পারে । তাই এ সকল পদার্থের বোতলে “বিস্ফোরিত বোমা” সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। যাতে ব্যবহারকারী এ দ্রব্যগুলো খুব সাবধানে নাড়া চাড়া করে এবং আগুন বা তাপ থেকে দূরে রাখে কিংবা ঘর্ষণ হতে পারে এমন স্থানে না রাখে।


আগুনের শিখা : অ্যালকোহল, ইথার, অ্যারোসল ইত্যাদি দাহ্য পদার্থ। এসব পদার্থে সহজেই আগুন ধরে যেতে পারে। তাই এ ধরনের পদার্থের বোতলে  "আগুনের শিখা " সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করে বাজারজাত করা হয় যাতে ব্যবহারকারী এটিকে আগুন বা তাপ থেকে দূরে রাখে কিংবা ঘর্ষণ হতে পারে এমন অবস্থায় না রাখে।


মাথার খুলি ও ক্রস চিহ্ন আকৃতির হাড় : বেনজিন, ক্লোরোবেনজিন, মিথানল ইত্যাদি পদার্থ  বিষাক্ত প্রকৃতির। এ সকল বিষাক্ত পদার্থ শরীরে লাগলে বা গ্রহণ করলে বা শ্বাস প্রশ্বাসের সাহায্যে শরীরে প্রবেশ করলে মৃত্যু ঘটতে পারে। । তাই এসব পদার্থ সনাক্ত করনের জন্য মাথার খুলি ও ক্রস চিহ্ন আকৃতির হাড় ( Skull and cross bones)  সাংকেতিক চিহ্ন অর্থাৎ মারাত্মক বিপদ চিহ্ন  ব্যবহার করা হয়। এ সকল পদার্থ ব্যবহার করার সময় ব্যবহারকারী যাতে মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস্ পরিধান করে সাবধানতার সাথে এসব পদার্থ ব্যবহার করে তাই এ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।


ক্রস চিহ্ন : সিমেন্ট ডাস্ট, লঘু এসিড, ক্ষার, নাইট্রাস অক্সাইড ইত্যাদি উত্তেজক পদার্থ। এসব পদার্থ  ত্বক, চোখ, শ্বাসতন্ত্র ইত্যাদির ক্ষতি করে। তাই এ ধরনের পদার্থ চিহ্নিত করার জন্য "ক্রস " সাংকোতক চিহ্ন ব্যবহার করা হয় যাতে ব্যবহারকারী খুব সাবধানে এ সকল পদার্থ ব্যবহার করে।


ঝুঁকিপূর্ণ সাস্থ্য : বেনজিন, টলুইন, জাইলিন ইত্যাদি পদার্থগুলো ত্বকে লাগলে বা শ্বাস প্রশ্বাসের সাথে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করলে শরীরের স্বল্পমেয়াদি বা দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতি হতে পারে এমন কি ক্যান্সার পর্যন্ত হতে পারে। তাই এসকল পদার্থ চিহিৃত করার জন্য এ চিহ্ন ব্যবহার করা হয় যাতে ব্যবহারকারী অ্যাপ্রোন, মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস্ , সেফটি গগলস, পরিধান করে সর্তকতার সাথে এ সকল পদার্থ ব্যবহার করে।


তিন পাখার নকশা (Trefoil):

ইউরোনিয়াম, রেডিয়াম ইত্যাদি তেজস্ক্রিয় পদার্থ । এসব পদার্থ থেকে ক্ষতিকারক  তেজস্ক্রিয় রশ্মি নির্গত হয় যা ক্যানসারের মত মরণ ব্যাধি সৃস্টি করতে পারে বা একজন মানুষকে বিকলাঙ্গ করে দিতে পারে। তাই ব্যবহারকারী যাতে অ্যাপ্রোন, মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস্ , সেফটি গগলস, পরিধান করে খুব সতর্কতার সাথে এসকল পদার্থ ব্যবহার করে এবং ব্যবহারকারীর শরীরের সংস্পর্শে না আশে সে কারনে এ চিহ্ন ব্যবহার করা হয়।


মৃত গাছ ও মাছ (Dead tree and fish) :

লেড, মার্কারি ইত্যাদি পদার্থ পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর । এসব পদার্থ উদ্ভিদ ও প্রানী উভয়ের জন্যই বিপজ্জনক । তাই পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর এসব পদার্থ সনাক্ত করার জন্য "মৃত গাছ ও মাছ"  সাংকেতিক চিহ্ন ব্যবহার করা হয় যাতে ব্যবহারকারী এসকল পদার্থ ব্যবহারের পর যেখানে সেখানে না ফেলে একটি নির্দিষ্ট স্থানে ফেলে এবং  যথাসম্ভব পুনরুদ্ধার করে আবার ব্যবহার করা যায়। ফলে এসব পদার্থ পরিবেশে সহজে ছরিয়ে পরতে পারে না। 


টেষ্টটিউব ও হাত (Test tube and hand):

হাইড্রোক্লোরিক এসিড, সালফিউরিক এসিড, ফসফরিক এসিড,ঘন সোডিয়াম হাই্ড্রোক্সাসাইড ইত্যাদি পদার্থ শরীরে লাগলে ক্ষত সৃষ্টি হয়। শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে গ্রহণ করলে শরীরের ভেতরের অঙ্গের ক্ষতি সাধন করতে পারে। তাই এসব  পদার্থের বোতলে বিশেষ সতর্কতা মূলক  সংকেতিক চিহ্ন "টেস্টটিউব ও ক্ষত হাত " ব্যবহার করা হয় যাতে ব্যবহারকারী এসকল পদার্থ খুব সাবধানে নাড়াচাড়া্ করে যেন ব্যবহারকারীর শরীরের সংস্পর্শে না আসতে পারে।


বৃত্তের উপর আগুনের শিখা (flame on circle): জারক পদার্থ যেমন- ক্লোরিন এবং হাইড্রোজোন পারঅক্সাইড সিলিন্ডারে "বৃত্তের উপর আগুনের শিখা" চিহ্ন ব্যবহার করা হয়। এসকল পদার্থ ত্বকে লাগালে বা শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে শরীরের ভেতরে প্রবেশ করলে ক্ষত সৃস্টি হতে  পারে বা শ্বাস-প্রশ্বাসে সমস্যা হতে পারে। এসকল পদার্থ ব্যবহার করার পূর্বে ব্যবহারকারী যাতে অ্যাপ্রোন, মাস্ক, হ্যান্ড গ্লাভস, সেফটি গগলস ব্যবহার করে সাবধানে ব্যবহার করে তাই এ চিহ্ন ব্যবহার  করা হয়।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট