Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৩ অক্টোবর, ২০২৩ ০৯:৪৮ অপরাহ্ণ

আল বেরুনির ভারততত্ত্ব

সুলতান মাহমুদের ভারত আক্রমণের সমসাময়িক সময়ে (১০০০-১০২৭ সাল) আল বেরুনী ভারতে এসেছিলেন। শিখেছিলেন সংস্কৃত। তিনি লক্ষ করেছিলেন তখন দু' ধরনের সংস্কৃত ভাষা প্রচলিত ছিল। একটি অভিজাতদের, অপরটি সাধারণ লোকের। তিনি নিশ্চয়ই অভিজাতদের সংস্কৃত শিখেছিলেন। সংস্কৃত শিখে আরবিতে লিখেছেন ভারতবিষয়ক বিখ্যাত গ্রন্থ ' তাহকিক-ই হিন্দ' তথা ভারততত্ত্ব।

আল বেরুনীর 'ভারততত্ত্ব'কে দুইটি দৃষ্টিকোণ থেকে দেখা যায়। প্রথমটি হলো হাজার বছর আগের এক মুসলিম মনীষীর বিজাতীয় দেশ,ধর্ম,সংস্কৃতি এবং তাদের জ্ঞানচর্চা নিয়ে জানার আগ্রহ বিবেচনা করা। অন্যদিকে, তিনি ভারতের হিন্দুদের রীতিনীতিকে শ্রদ্ধার চোখে দেখেনি। বারবার নিজ ধর্মের সাথে, গ্রিক দর্শনের, জ্ঞানের চর্চার বিষয়ের সাথে ভারতীয়দের তুলনা করেছেন। অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন ঠেস দেওয়া ভঙিতে। হাজার বছর আগের ভারতীয় হিন্দুদের জ্ঞানের বিভিন্ন শাখার চর্চা কিংবা ধর্মচর্চার বিষয়ে আল বেরুনীর আলোচনা আমার চিত্তাকর্ষক মনে হয়নি। বিষয়বস্তুর কাঠিন্যের সাথে যুক্ত হয়েছিল অনুবাদের প্রাঞ্জলহীনতা।আল বেরুনী জাতপাতের কঠোরতার কথা উল্লেখ করেছেন। তৎকালীন আইন ও প্রথা উচ্চবর্গের হিন্দুদের অতিরিক্ত সুযোগ দিত বলেও মত আল বেরুনীর। 

জ্ঞানচর্চা কিংবা ধর্মীয় মতাদর্শ নয়, আল বেরুনীর ভারতঅন্বেষার গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায় হলো ভারতীয়দের রীতিনীতি, ভাবনা, লোকাচার সম্পর্কে আল বেরুনীর পর্যবেক্ষণ। আল বেরুনির পূর্ণ নাম হলো- আবু রাইহান আল-বেরুনি।



মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট