সহকারী শিক্ষক
১৫ ফেব্রুয়ারি, ২০২৪ ০৯:০৫ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ পঞ্চম
বিষয়ঃ বাংলাদেশ ও বিশ্বপরিচয়
অধ্যায়ঃ প্রথম অধ্যায়
জগজিত সিং অরোরা ১৯১৬ সালের ১৩ ফেব্রুয়ারি তৎকালীন ব্রিটিশ ভারতের পাকিস্তানে ঝিলামে সম্ভ্রান্ত শিখ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন। তাঁর বাবা পেশায় ছিলেন একজন ইঞ্জিনিয়ার। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি বিবাহিত এবং এক ছেলে ও কন্যা সন্তানের জনক।
জগজিত সিং অরোরা ১৯৩৯ সালে ইন্ডিয়ান মিলিটারী একাডেমী থেকে স্নাতক ডিগ্রী অর্জন করেন এবং ২য় পাঞ্জাব রেজিমেন্টে কমিশনড্ পদ পান। ১৯৬১ সালে চীনা সামরিক বাহিনীকে মোকাবেলা করতে সীমান্ত এলাকায় সফলতার সাথে নেতৃত্ব দেন এবং ঐ সময়েই তিনি ব্রিগেডিয়ার হিসেবে পদোন্নতি পান।
২১শে নভেম্বর, ১৯৭১ সালে লেঃ জেনারেল অরোরা ভারতীয় পূর্বাঞ্চলীয় কমাণ্ডের প্রধান হিসেবে বাংলাদেশ-ভারতের মিত্র বাহিনীর প্রধান হিসেবেও মনোনীত হন। ভারত-বাংলাদেশের সরকার প্রধানদের রাজনৈতিক-সামরিক সহযোগীতা চুক্তির আওতায় তিনি প্রধান হন। বাংলাদেশ পক্ষীয় দলের প্রধান ছিলেন জেনারেল এম. এ. জি ওসমানী। [৩] তিনি পূর্ব-পাকিস্তানে যুদ্ধের চূড়ান্ত পর্যায়ে যাবতীয় আলাপ-আলোচনায় দায়বদ্ধ ছিলেন। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার দু'সপ্তাহ পূর্বে ভারতীয় সামরিক বাহিনী মুক্তিবাহিনীর সহায়তায় পাকিস্তানি সামরিক বাহিনীকে পাশ কাটিয়ে অগ্রসর হয় ও ঢাকা করায়ত্ত করেন। এর ফলে তিনি পূর্ব-পাকিস্তানে নিয়োজিত পাকবাহিনীর প্রধান লেঃ জেঃ এ. এ. কে. নিয়াজী ও তার সৈন্যবাহিনীকে আত্মসমর্পণের জন্য চাপ প্রয়োগ করেন। পাকিস্তানি সৈন্যদের অবস্থান ও আক্রমণ থাকা সত্ত্বেও অরোরা তার বাহিনীকে পাশ কাটিয়ে যেতে নির্দেশ দেন এবং যথাসম্ভব ও দ্রুততার সাথে ঢাকাগামী হবার আদেশ দেন। ফলে, এক পর্যায়ে নিয়াজী ও তার দলবল আত্মসমর্পণ করতে বাধ্য হয়। এতে নিয়াজী'র কোন শর্ত ছিল না এবং ঢাকা দখল হয়ে যাওয়ায় রসদভাণ্ডারও করায়ত্ত্ব করতে পারেননি। বাংলাদেশের স্বাধীনতা যুদ্ধে ভারতের ঘটনা পরম্পরায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ ও জড়িয়ে পড়ার ফলে পাকিস্তান সামরিক জান্তা তার পূর্ব-পাকিস্তান অংশের নিয়ন্ত্রণ রক্ষা করতে সম্পূর্ণভাবে ব্যর্থ হয়। বাংলাদেশ স্বাধীন হবার পাশাপাশি সামরিক আক্রমণে ভারতের মাসব্যাপী রণ পরিকল্পনা সফল হয়। অরোরা তার নৈতিক সহায়তা দিয়ে যুদ্ধক্ষেত্রে অংশগ্রহণ করে যুদ্ধ জয় করেন এবং যোগাযোগ ব্যবস্থার প্রভূত উন্নয়ন ঘটান।
১৬ ডিসেম্বর, ১৯৭১ সালে বাংলাদেশ ইতিহাস তথা বাংলাদেশীদের জন্য একটি চিরস্মরণীয় দিন। জেঃ অরোরা ভারত-বাংলাদেশের সমন্বয়ে গড়া মিত্রবাহিনীর প্রধান হিসেবে লেঃ জেঃ নিয়াজী'র আত্মসমর্পণ দলিল গ্রহণ করেন। দলিলে স্বাক্ষরের মাধ্যমে রক্তক্ষয়ী যুদ্ধ শেষ হয় এবং বাংলাদেশ নামক একটি নতুন দেশের অভ্যুদয় ঘটে।
আত্মসমর্পণের দলিলে উল্লেখ ছিল: "পাকিস্তান পূর্বাঞ্চলীয় কমাণ্ড বাংলাদেশে অবস্থানরত সকল সৈন্য মিত্রবাহিনীর প্রধান লেঃ জেঃ জগজিত সিং অরোরা'র কাছে অস্ত্র সমর্পণ করতে রাজী হয়েছেন।"
মহান স্বাধীনতা যুদ্ধে লেঃ জেঃ অরোরা'র কৃতিত্বপূর্ণ অংশগ্রহণ ও বীরত্বপূর্ণ ফলাফলের জন্য বাংলাদেশ সরকার তাকে বীরপ্রতীক পদকে ভূষিত করে সম্মানিত করেন।
যুদ্ধের ফলাফল হিসেবে নব্বই হাজারেরও বেশি পাকিস্তানিকে বন্দী করে ভারতে নিয়ে যাওয়া হয়। তন্মধ্যে প্রায় ৪৬,৮০০ জন (সেনা - ৩৫হাজার, প্যারামিলিটারী- ৫হাজার, পুলিশ-৫হাজার, বিমানবাহিনী-৮শত এবং নৌবাহিনী-১হাজার) ছিলেন সামরিক পোষাকধারী।
৩ মে, ২০০৫ সালে ৮৯ বছর বয়সে ভারতের দিল্লীতে অরোরা'র মহাপ্রয়াণ ঘটে বাংলাদেশের স্বাধীনতার ইতিহাসে জড়িয়ে পড়া চীরস্মরণীয় ব্যক্তিত্ব হিসেবে। তার মৃত্যু পরবর্তীকালে বাংলাদেশের পক্ষ থেকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী মোরশেদ খান গভীর শোক প্রকাশ ও বিদেহী আত্মার মাগফেরাত কামনা করেন। শোকবার্তায় তিনি বলেন যে, "অরোরা বাংলাদেশের ইতিহাসে চিরস্মরণীয় হয়ে থাকবেন। ১৯৭১ সালে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশের স্বাধীনতায় অংশগ্রহণ ও মুক্তিযুদ্ধে বলিষ্ঠ ভূমিকায় তার নেতৃত্ব ছিল অবিস্মরণীয় ও অসাধারণ।"