Loading..

ভিডিও ক্লাস

রিসেট

২৯ মে, ২০২৪ ১০:৩৫ অপরাহ্ণ

শানে নুযুলের পরিচয় এবং মাক্কী ও মাদানী সুরার পরিচয় ও বৈশিষ্ট্য (মিউজিক)

পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা জানতে পারবে

  ১. শানে নুযুলের পরিচয়;

  ২. মাক্কী মাদানী সুরার  পরিচয়;

  ৩. মাক্কী মাদানী সুরার বৈশিষ্ট্য

সারসংক্ষেপ

·      শানে নুযুল-এর পরচয়

Ø শানে নুযুল : কোনো ঘটনা সংঘটিত হওয়ার প্রেক্ষাপট বা অন্তর্নিহিত কারণকে শানে নুযুল বলা হয়। এর শাব্দিক বিশ্লেষণ হচ্ছে-  'শান' শব্দের অর্থ : অবস্থা, মর্যাদা, কারণ, ঘটনা এবং পটভূমি; আর নুযুল অর্থ : অবতরণ। অতএব, শানে নুযুল অর্থ : অবতরণের কারণ বা পটভূমি।

Ø ইসলামি পরিভাষায়, আল-কুরআনের সুরা বা আয়াত নাজিলের কারণ বা পটভূমিকে 'শানে নুযুল' বলা হয়। একে 'সববে নুযুল'ও বলা হয়।’ যেমন : রাসুলুল্লাহ (স.)-এর শিশুপুত্র ইন্তিকাল করলে কাফিররা তাঁকে 'আবতার' বা নির্বংশ বলে ঠাট্টাবিদ্রূপ করতে লাগল। এর পরিপ্রেক্ষিতে আল্লাহ তাআলা মহানবি (স.)-কে সান্ত্বনা দিয়ে সুরা আল-কাওসার নাজিল করেন। অতএব, মহানবি (স.)-এর প্রতি কাফিরদের উপহাস করার ঘটনাটি সুরা আল-কাওসারের শানে নুযুল হিসেবে পরিচিত।

Ø শানে নুযুল জানার উপকারিতা : শানে নুযুল জানার উল্লেখযোগ্য উপকারিতা হলো-

      ক. এর দ্বারা শরিয়তের বিধান প্রবর্তনের রহস্য জানা যায়;

      খ. আয়াতের অর্থ, উদ্দেশ্য ও সঠিক মর্মার্থ অবগত হওয়া যায়।

v   মাক্কী ও মাদানী সুরা পরিচয় বৈশিষ্ট্য

কুরআন অবতরণের স্থান ও সময় বিবেচনা না-করলে কুরআনের অনেক আয়াতের অর্থ সুস্পষ্ট হয়ে ওঠে না। যে পরিবেশ ও যে প্রেক্ষাপটে কুরআন অবতীর্ণ হয়েছে; সেই বিশেষ প্রেক্ষাপটকে শানে নুযুল বলা হয়। শানে নুযূল জানা অত্যাবশ্যক। অবশ্য বহু আয়াত আছে যার কোনো বিশেষ শানে নুযুল নেই। তবুও এক্ষেত্রে যা জানা দরকার তা হচ্ছে অবতরণের স্থান ও সময়। কুরআন অবতরণকালে রাসূলুল্লাহ (স) প্রধানত দুই স্থানে অবস্থান করেছেন- মক্কা ও মদিনায়। এই মক্কা ও মদিনাকে কেন্দ্র করে কুরআন অবতরণের সঙ্গে দুটি বিশেষ পরিভাষার উৎপত্তি হয়েছে; যথা :

   ক. মাক্কী;

   খ. মাদানী।

* আল-কুরআনে মোট সুরার সংখ্যা-  ১১৪টি

* মাক্কী সুরার সংখ্যা ৮৬টি;

* মাক্কী সুরার সংখ্যা ২৮টি;

মাক্কী ও মাদানী সুরা সম্পর্কে আলোচনা করা হলো :

v মাক্কী সুরা পরচয়

মক্কা নগরীতে আল-কুরআনে যেসব সুরা নাজিল হয়েছে, সেগুলোকে মাক্কী সুরা বলে অন্যভাবে বলা যায়, মহানবি (স.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের পূর্বে নাজিল হওয়া সুরাসমূহকে মাক্কী সুরা বলা হয়।

§  মাক্কী সুরার বৈশিষ্ট্য

মাক্কী সুরার বৈশিষ্ট্যগুলো নিম্নরূপ :

১. শাব্দিক বৈশিষ্ট্য : যেসব সূরা বা আয়াতে  يَأَيُّهَا النَّاسُ   (হে মানব) অথবা   الْكَافِرُونَ يَأَيُّهَا (হে, কাফির) বা آدم يَبني (হে আদম সন্তান) বলে সম্বোধন করা হয়েছে সেগুলো মাক্কী;

২. মাক্কী সুরাসমূহে তাওহিদ ও রিসালাতের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে;

৩. মৃত্যুর পরবর্তী জীবন, কিয়ামত, জান্নাত-জাহান্নাম তথা আখিরাতের বর্ণনা এসব সুরায় প্রাধান্য লাভ করেছে এবং শিরক-কুফরের পরিচয় বর্ণনা করে এগুলোর অসারতা প্রমাণ করা হয়েছে;

৪. মুশরিক ও কাফিরদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে;

৫. এতে পূর্ববর্তী মুশরিক ও কাফিরদের হত্যাযজ্ঞের কাহিনি, ইয়াতিমদের সম্পদ হরণ, কন্যা সন্তানকে জীবন্ত কবর দেওয়া ইত্যাদি কুপ্রথা ও কু-আচরণের বিবরণ রয়েছে;

৬. পূর্ববর্তী নবি-রাসুলগণের সফলতা ও তাঁদের অবাধ্যদের শোচনীয় পরিণতির বর্ণনা রয়েছে। সাধারণ নীতিমালার উল্লেখ রয়েছে;

. এ সুরাগুলোতে উত্তম চরিত্র ও বৈশিষ্ট্যের বর্ণনা করা হয়েছে;

৮. এ সুরাসমূহ সাধারণত আকারে ছোট এবং আয়াতগুলোও তুলনামূলকভাবে ছোট;

৯. এর শব্দমালা শক্তিশালী, ভাবগম্ভীর ও অন্তরে প্রকম্পন সৃষ্টিকারী;

1০. এতে প্রসিদ্ধ বিষয়সমূহ শপথের মাধ্যমে উপস্থাপন করা হয়েছে;

মাক্কী সূরা বা আয়াতগুলোর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, এগুলোতে বেশি বেশি আল্লাহ, পরকাল, রিসালাত প্রভৃতি বিষয় আলোচিত হয়েছে। ইসলামের প্রতিপক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে মূর্তিপূজারী ও কাফিরদেরকে এর উৎপ্রেক্ষা বেশি, বর্ণাঢ্য বাচনভঙ্গি, সূরা ও আয়াতের পরিসর ছোট, সংক্ষিপ্ত প্রভৃতি।

 

 

v মাদানী সুরা পরিচয়

সাধারণ ভাষায় বলা যায়, মদিনাতে নাজিল হওয়া সুরাগুলোকে মাদানি সুরা বলে প্রসিদ্ধমতানুযায়ী, মহানবি (স.)-এর মদিনায় হিজরতের পর নাজিল হওয়া সকল সুরাকে মাদানি সুরা নামে আখ্যায়িত করা হয়। ইয়াহইয়া ইবনে সালাম বলে : "মহানবি (স.)-এর মদিনায় হিজরতের পর মদিনার বাইরে সফরে থাকাবস্থায় নাজিল হওয়া সুরাসমূহও মাদানি সুরা।" অর্থাৎ হিজরতের পর নাজিল হওয়া সকল সুরাই মাদানি সুরা।

মাদানী সুরার বৈশিষ্ট্যসমূহ নিম্নরূপ :

১. শাব্দিক বৈশিষ্ট্য : যেসব সূরা বা আয়াতে  يَأَيُّهَا النَّاسُ   (হে মানব) অথবা   الْكَافِرُونَ يَأَيُّهَا (হে, কাফির) বা  آدم يَبني (হে আদম সন্তান) বলে সম্বোধন করা হয়েছে সেগুলো মাক্কী

২. মাক্কী সুরাসমূহে তাওহিদ ও রিসালাতের প্রতি আহবান জানানো হয়েছে।

৩. মৃত্যুর পরবর্তী জীবন, কিয়ামত, জান্নাত-জাহান্নাম তথা আখিরাতের বর্ণনা এসব সুরায় প্রাধান্য লাভ করেছে এবং শিরক-কুফরের পরিচয় বর্ণনা করে এগুলোর অসারতা প্রমাণ করা হয়েছে।

৪. মুশরিক ও কাফিরদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেওয়া হয়েছে।

৫. আর মাদানী সূরা বা আয়াতগুলোর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি বেশি আলোচিত হয়েছে।

৬. হালাল-হারাম, ক্রয়-বিক্রয়, বিবাহ-তালাক প্রভৃতি ব্যক্তিগত, পারিবারিক ও সামাজিক বিষয় আলোচিত হয়েছে মাদানী সূরায়

৭. ইসলামের প্রতিপক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে ইয়াহুদী, খ্রিস্টান ও মুনাফেকদেরকে। উপমা ও বাচনভঙ্গি সহজ-সর

মাদানী সূরা বা আয়াতগুলোর বৈশিষ্ট্য হচ্ছে রাজনীতি, সমাজনীতি, অর্থনীতি বেশি আলোচিত হয়েছে। সলামের প্রতিপক্ষ হিসেবে উপস্থাপন করা হয়েছে ইয়াহুদী, খ্রিস্টান ও মুনাফেকদেরকে। উপমা ও বাচনভঙ্গি সহজ-সর, সূরা ও আয়াতের পরিসর বড় ও বিস্তৃত ইত্যাদি।

মন্তব্য করুন