প্রভাষক
২৭ আগস্ট, ২০২৪ ১০:২৮ অপরাহ্ণ
হিসাববিজ্ঞান ২য় পত্র ৪র্থ অধ্যায়- যৌথ মূলধনী কোম্পানির মূলধন Theory part 1 #HSC #Accounting
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দ্বাদশ
বিষয়ঃ হিসাববিজ্ঞান ২য় পত্র
অধ্যায়ঃ চতুর্থ অধ্যায়
হিসাববিজ্ঞান ২য় পত্র ৪র্থ অধ্যায়- যৌথ মূলধনী কোম্পানির মূলধন Theory part 1
#HSC #Accounting
Todays Topic- যৌথ মূলধনী কোম্পানির মূলধন
Chapter 04: Capital of Joint Stock Company
শিখনফলঃ-এই পাঠ শেষে শিক্ষার্থীরা -
• যৌথ মূলধনী কোম্পানির ধারণা ও বৈশিষ্ট্য;
• যৌথ মূলধনী কোম্পানির গঠন প্রণালি ও প্রয়োজনীয় দলিলপত্র;
• শেয়ার, স্টক ও ঋণপত্র সম্পর্কে ধারণা;
• শেয়ার ও ঋণপত্রের শ্রেণিবিভাগ এবং তাদের মধ্যকার পার্থক্য;
• প্রাইমারি শেয়ার (সমহার, অধিহার বা অবহার) ইস্যুকরণের হিসাবরক্ষণ প্রক্রিয়া।
Topics
• শেয়ার • অনুমোদিত শেয়ার মূলধন • স্টক • ইস্যুকৃত মূলধন • তলবকৃত মূলধন • অনাদায়ী তলব • আদায়কৃত মূলধন • অগ্রিম তলব • লভ্যাংশ • অন্তর্বর্তী লভ্যাংশ • সংরক্ষিত আয় • অবলেখক • ট্রেজারি শেয়ার • স্মারকলিপি • বিবরণপত্র • পরিমেল নিয়মাবলি
যৌথ মূলধনী কোম্পানির মূলধন:- যৌথ মূলধনী কোম্পানির মূলধন বলতে সাধারণত ব্যবসায়ে নিয়োজিত অর্থ বা সম্পদকে বোঝানো হয়। এই মূলধনের মধ্যে যেমন মালিক বা শেয়ারহোল্ডারদের প্রদত্ত অর্থ বা মূলধন থাকে তেমনি অন্যান্য উৎস (যেমন: ঋণপত্র, সঞ্চিতি তহবিল, বিনিয়োগকারী প্রতিষ্ঠান) থেকেও মূলধন সংগৃহীত হতে পারে। কোম্পানি তার মোট মূলধনকে ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র সমান অংশে বিভক্ত করে সেগুলো বিক্রির মাধ্যমে মূলধন সংগ্রহ করে। মূলধন সংগ্রহের জন্য Securities and Exchange Commission-এর অনুমোদন নিয়ে নির্দিষ্ট অবলেখকের মাধ্যমে শেয়ার বিক্রয় করতে হয়। বহুসংখ্যক লোক মুনাফা অর্জনের উদ্দেশ্যে প্রচলিত কোম্পানি আইন অনুসারে চিরন্তন অস্তিত্ব সম্পন্ন যে ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান গঠন করে, তাকে যৌথ মূলধনী কোম্পানি বলে। এ ধরনের ব্যবসায়ের মূলধন বিভিন্ন ব্যক্তির কাছ থেকে যৌথভাবে সংগ্রহ করা হয় বলে এ জাতীয় ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে যৌথ মূলধনী ব্যবসায় বলা হয়। আইন দ্বারা সৃষ্ট কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা বিশিষ্ট ব্যবসায়ই হলো যৌথ মূলধনী কোম্পানি। প্রত্যেক যৌথ মূলধনী কোম্পানির একটি নিজস্ব নাম থাকে। কোম্পানির যাবতীয় কাজ সেই নামে পরিচালিত ও সম্পাদিত হয়। কোম্পানি নিজস্ব নামে গঠিত ও নিবন্ধিত হওয়ার সাথে সাথে চিরন্তন অস্তিত্বের অধিকার লাভ করে। কোম্পানি ও মালিক পৃথক সত্তার অধিকারী হওয়ার কারণে কোম্পানির এক বা একাধিক সদস্যের মৃত্যু হলে বা দেউলিয়া হলেও যৌথ মূলধনী কোম্পানির বিলুপ্তি ঘটে না। বাংলাদেশে প্রচলিত ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইন ২ এর ১ (ঘ) ধারা অনুসারে "কোম্পানি বলতে এই অধীনে গঠিত এবং নিবন্ধিত কোন কোম্পানি বা বিদ্যমান কোম্পানিকে বোঝায়।"
উপরের আলোচনা থেকে বলা যায় যে, যৌথ মূলধনী কোম্পানি এমন এক ধরনের ব্যবসায় যা-
১. কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তার অধিকারী এবং আইন দ্বারা সৃষ্ট; ২. সদস্যদের দায় সীমাবদ্ধ; ৩. চিরন্তন বা আজীবন অস্তিত্ব সম্পন্ন; ৪. নিজস্ব নাম ও সীলমোহর দ্বারা পরিচালিত; ৫. শেয়ার অবাধে হস্তান্তরযোগ্য.
যৌথ মূলধনী কোম্পানির বৈশিষ্ট্য:- কোম্পানি আইন দ্বারা গঠিত ও নিবন্ধিত যেকোনো ব্যবসায় প্রতিষ্ঠানকে যৌথ মূলধনী কোম্পানি বলে। যেহেতু আইন দ্বারা গঠিত ও পরিচালিত সেহেতু এর কিছু আইনগত বৈশিষ্ট্য আছে। আইনগত বৈশিষ্ট্যের পাশাপাশি আরও কিছু বৈশিষ্ট্য লক্ষ্য করা যায়। যৌথ মূলধনী কোম্পানির বৈশিষ্ট্যকে দুইভাগে ভাগ করা যায়। যথা: ১. আইনানুগ বৈশিষ্ট্য; ২. সাধারণ বৈশিষ্ট্য।
আইনানুগ বৈশিষ্ট্য (Legal characteristics):
১. আইন সৃষ্ট প্রতিষ্ঠান (Law created concern)
২. কৃত্রিম ব্যক্তিসত্তা (Artificial personality)
৩. চিরন্তন অস্তিত্ব (Perpetual succession)
৪. সীমাবদ্ধ দায় (Limited liability)
৫. সাধারণ সীলমোহর (Common seal)
৬. শেয়ার হস্তান্তরযোগ্যতা (Transferability of share)
৭. সদস্য সংখ্যা (Number of shareholders)
৮. নিবন্ধন (Registration) ৯. বিধিবদ্ধ দায়িত্ব (Statutory responsibility)
সাধারণ বৈশিষ্ট্য (General characteristics):
1. পর্যাপ্ত মূলধন (Adequate capital)
২. মুনাফা বন্টন (Distribution of profit)
৩. স্বেচ্ছা প্রণোদিত সংগঠন (Voluntary association)
৪. কর প্রদান (Tax payment)
৫. স্বতন্ত্রধর্মী ব্যবস্থাপনা (Distinctive management)
৬. গণতন্ত্রের অনুসরণ (Following democracy) ।
কোম্পানি সংগঠনের প্রকারভেদ:- ১. সনদপ্রাপ্ত কোম্পানি (Chartered company): কোম্পানি আইন প্রণীত হওয়ার পূর্বে ইংল্যান্ডের রাজা বা রানীর বিশেষ সনদ (Royal charter) বা ঘোষণা বলে যে কোম্পানি গঠিত হতো, সে কোম্পানিকে সনদপ্রাপ্ত কোম্পানি বলা হয়। ইস্ট ইন্ডিয়া কোম্পানি, চার্টার্ড ব্যাংক অব ইংল্যান্ড, চার্টার্ড মার্কেন্টাইল ব্যাংক অব ইন্ডিয়া ইত্যাদি সনদপ্রাপ্ত কোম্পানির উদাহরণ। বাংলাদেশে এ জাতীয় কোম্পানি বর্তমানে নেই।
২. বিধিবদ্ধ কোম্পানি (Statutory company): দেশের আইন সভা বা সংসদের বিশেষ আইন অথবা রাষ্ট্রপতির অধ্যাদেশ বলে গঠিত, নিয়ন্ত্রিত ও পরিচালিত কোম্পানিকে বিধিবদ্ধ কোম্পানি বলা হয়। এ সব কোম্পানি দেশের প্রচলিত কোম্পানি আইন দ্বারা গঠিত ও নিয়ন্ত্রিত না হয়ে পাসকৃত বিশেষ আইন দ্বারা পরিচালিত ও নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকে। সাধারণত জনসাধারণের কল্যাণার্থে অথবা কোনো বিশেষ কার্য সম্পাদনের জন্য এসব কোম্পানি গঠন করা হয়ে থাকে। যেমন: বাংলাদেশ ব্যাংক, বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন সংস্থা, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড, ওয়াসা, রাজউক ইত্যাদি।
৩. নিবন্ধিত কোম্পানি (Registered company): কোম্পানি আইনের বিধান অনুযায়ী যেসব কোম্পানি গঠিত ও নিবন্ধিত হয়, তাকে নিবন্ধিত কোম্পানি বলে। বাংলাদেশে যৌথ মূলধনী কোম্পানিগুলো ১৯৯৪ সালের কোম্পানি আইনের আওতায় গঠিত, নিবন্ধিত ও পরিচালিত হয়ে থাকে।
নিবন্ধিত কোম্পানিকে দায়ের ভিত্তিতে আবার নিম্নোক্ত দুই ভাগে ভাগ করা যায়-
ক. সীমিত দায় কোম্পানি (Limited liability company): যে কোম্পানির সদস্যদের দায় সীমাবদ্ধ থাকে, তাকে সীমিত দায় কোম্পানি বলে। এরূপ কোম্পানির কোনো সদস্যকে নির্দিষ্ট দায়ের অতিরিক্ত দায় বহন করতে হয় না। সীমিত দায় কোম্পানি দুই ধরনের হয়ে থাকে, যথা: i. প্রতিশ্রুতি বা গ্যারান্টি দ্বারা সীমিত দায় কোম্পানি; এবং ii.শেয়ার দ্বারা সীমিত দায় কোম্পানি।
i. প্রতিশ্রুতি দ্বারা সীমিত দায় কোম্পানি (Company limited by guarantee): যে কোম্পানির শেয়ারহোল্ডারগণ তাদের ক্রয়কৃত শেয়ারের আঙ্কিক মূল্য ছাড়াও কোম্পানির অবসায়নকালে কোম্পানির একটি নির্দিষ্ট পরিমাণ দায় বহন করার প্রতিশ্রুতি প্রদান করে, তাকে প্রতিশ্রুতি দ্বারা সীমিত দায় বা গ্যারান্টি দ্বারা সীমিত দায় কোম্পানি বলে। বর্তমানে এ ধরনের কোম্পানির অস্তিত্ব নেই।
পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি (Public limited company): কমপক্ষে ৭ জন এবং সর্বোচ্চ শেয়ার দ্বারা সীমিত যেকোনো সংখ্যক সদস্য নিয়ে যে কোম্পানি গঠিত হয়ে থাকে, তাকে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি বলে। পাবলিক লিমিটেড কোম্পানি জনসাধারণের কাছে শেয়ার ও ঋণপত্র বিক্রয়ের আমন্ত্রণ জানাতে পারে এবং এর শেয়ার অবাধে হস্তান্তর করতে পারে।
মালিকানার প্রকৃতির ভিত্তিতে পাবলিক লিমিটেড কোম্পানিকে নিম্নোক্ত বিভিন্ন ভাগে ভাগ করা যায়।
যথা: সরকারি কোম্পানি (Government company): যে সীমিত দায় কোম্পানির সব শেয়ার অথবা অন্তত ৫১% শেয়ারের মালিকানা সরকারের হাতে থাকে, তাকে সরকারি কোম্পানি বলে। অর্থাৎ এরূপ কোম্পানির সংখ্যাগরিষ্ঠ সংখ্যক শেয়ারের মালিক থাকে সরকার। এ কারণে কোম্পানির পরিচালনা ও নিয়ন্ত্রণের দায়িত্ব সরকারের হাতেই থাকে। সাধারণত গুরুত্বপূর্ণ জনকল্যাণমূলক ও আর্থিক ঝুঁকিপূর্ণ ব্যবসায়ের দায়িত্ব সরকার নিয়ে থাকে।
#HSC #Accounting #Mohive_Virtual_Academy #Mohive #Accounting
#mohive_virtual_academy
#Mohive #Accounting