সহকারী শিক্ষক
১৪ নভেম্বর, ২০২৪ ১২:০৫ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
লক্ষ্য করলাম স্কুলের শিক্ষার্থীরা টিফিনে বাইরের দোকানের খোলা খাবার খায়। ডাল, পুরি, পরোটা, সিংগাড়া, কেক, মুড়ি মাখা, বারো ভাজা। যেহেতু শিক্ষাার্থীরা দীর্ঘ সময় ধরে স্কুলে অবস্থান করে তাই 'মিড ডে ' কিছু খাওয়াই লাগে। কিন্তু শিক্ষার্থীরা বাইরের খাবার খেতেই বেশি অভ্যস্ত! এতে পেট ব্যথার কথা প্রায় শোনাই লাগে। আমি ও আমার কলিগকে দোকানদার বেশ কয়েকবার date expired পাউরুটি ও কেক দেয়। অভিযোগ দিলে পরিবর্তন করে দেয়। একদিন শিক্ষকার্থীরা জন্মদিন পালন করছিল ক্লাসে বন্ধুরা মিলে। আমি ক্লাসে যাওয়াই আমাকেও জোর পূর্বক কেক মুখে তুলে দিল শিক্ষার্থীরা। কেক মুখে দিতেই টক কেক বমি করে ফেলে দিই। জানতে চাইলাম কোন দোকান থেকে এই কেক কিনেছো। বলল, আকরামের দোকান থেকে। শিক্ষার্থীরা আরও বলল, আমাদের প্রায় এমন টক দুর্গন্ধযুক্ত কেক পাউরুটি দেয়। দোকানদার বলে " এগুলোর এমনই স্বাদ। টক ফ্লেভার! " টাকার জিনিস তাই আমরা না ফেলে দিয়ে কষ্ট করে খেয়ে নিই।
শুনে তো আমার রক্ত গরম হয়ে গেলো! জন্মদিনের ঐ কেক নিয়ে আমি আরও ২/৩ জন কলিগসহ ছাত্র ছাত্রীেদের নিয়ে ঐ দোকানির নিকট গেলাম। দেকানিকে বললাম, এই কেক আপনি একটু খান। দোকানি বলছে "ভুলক্রমে এটা হয়েছে। পরিবর্তন করে দিচ্ছি। " ভোক্তা অধিকার আইনের কথা দোকানিকে শুনালাম। হুমকি দিলাম এর পরে যদি এমন করে নিকটবর্তী থানায় অভিযোগ দিব। এই মার্কেট পরিদর্শন করার জন্য ভ্রাম্যমান আদালত / ম্যাজিস্ট্রেট/ ভোক্তা অধিকার কর্মকর্তা নামাবো। স্কুলের আশে পাশে সব দোকানে বিষয়টা জানালাম। তাদেরও হুমকিসহ সাবধান করে দিলাম। সবাই কথা দিলো এমন ভুল আর হবে না।
তাদের বুঝালাম, এই শিশুরা তো আপনাদের এলাকারই। শিশুদের দেখভাল করা, সার্বিক নিরাপত্তা দেওয়ার দায়িত্ব তো আমাদের সকলের।
সাধারণ লোকজন বললো, সাবাস ম্যাডাম !
এখন পর্যন্ত আর কেউ date expired খাবার বিক্রি করেনি। শিশুদের শিখিয়েছি তারিখ দেখে যেন খাবার কিনে। না দেখতে পারলে আমাদের দেখিয়ে তারপর যেন খায়।
বিষয়টা অভিভাবক মিটিং কল করে জানালাম। অভিভাবকদের বাড়ির তৈরি খাবার সন্তানকে টিফিন দেয়ার পরামর্শ দিলাম। নগদ টাকা সন্তানের হাতে দিতে নিষেধ করলাম। বাসা থেকে ছাতু, রুটি, ভাত, খিচুড়ি, নুডলস, চিড়ামুড়ি, বিস্কুট দেয়ার পরামর্শ দিলাম। সব অভিভাবক ইতিবাচক সাড়া দিল। একদিন সবাইকে খিচুড়ি রান্না করে আনতে বললাম, সবাই দেখলাম সত্যি সত্যিই খিচুড়ি রান্না করে বাটি ভর্তি করে খিচুড়ি এনেছে। আমি নিজেও খিচুড়ি রান্না করে আনলাম শিক্ষার্থীদের সাথে খাবো বলে। একটা একটা ক্লাস এই মিড ডে মিল চালু করলাম। সবাই পিকনিক আমেজে টিফিনে ঝাবার খেলাম। কোনো দিন ভর্তা ভাত, কোনদিন শাক ভাত, কোনো দিন সবজি ভাত, কোনো দিন ডাল ভাত, কোনো দিন ডিম ভাত, কোনো দিন রুটি, পরোটা,, কোনো দিন ইচ্ছে মত আইটেম খাওয়ার ব্যবস্থা করলাম। সবাই এখন প্রতিদিন পিকনিক করে আর মুখে স্লোগান বলে বাড়ির খাবার, করব আহার।
মিড ডে মিল গ্রহণের ভিডিও লিংক দেয়া আছে।