সহকারী প্রধান শিক্ষক
১৫ জানুয়ারি, ২০২৫ ১১:১৪ অপরাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
নেতৃত্বের গল্প(শিক্ষার্থীকে প্রতিটি কাজে আগ্রহী করতে সনাতন পদ্ধতি ১ম, ২য় প্রথা তুলে দিয়ে কাজ অনুযায়ী পুরস্কারের নতুন ক্যাটাগরী তৈরি করে শিক্ষার্থীকে পুরস্কৃত করা)
সম্মানিত শিক্ষকবৃন্দ আজ একটি ব্যতিক্রম বিষয়ে লিখবো। ভিডিও যুক্ত থাকবে, লেখাটি পড়ার ও ভিডিওটি দেখার আমন্ত্রণ রইল।
আগের কোন একটা গল্পে লিখেছিলাম আমার স্কুলে দরিদ্র শিক্ষার্থীদের জন্য আশা এনজিও কর্তৃক একটি শিক্ষাক কর্মসূচী আছে। এর মাধ্যমে স্কুল শুরুর আগে ৬ষ্ঠ থেকে ৮ম শ্রেণিতে তিনটি ক্লাস করানো হয়। এই কাজের মাধ্যমে আমি শিক্ষার্থী ও অভিভাবকের সাথে বেশি যুক্ত। এই বিশেষ ক্লাস নিয়ে একটি অভিভাবক মত বিনিময় সভার আয়োজন করতে হয়। সেখানে কিছু শিক্ষার্থীকে ভিন্ন প্রক্রিয়ায় তাদের বিভিন্ন কাজের জন্য পুরস্কৃত করি ব্যক্তিগত অর্থায়নে। আজ সেই গল্প শোনাবো।
আমি স্কুলে বই পড়া কর্মসূচী চালু করেছি, বিশ্বসাহিত্য কেন্দ্র বই দিয়েছে। সেটা খুব সক্রিয় আছে। বই পড়ায় আগ্রহী করতে ভাল বই পড়ুয়াদের পুরস্কারের জন্য আমি প্রথম, দ্বিতীয়, তৃতীয় তুলে দিয়ে সের পাঠক পুরস্কার ঘোষণা করি, পুরস্কারের সংখ্যাও বাড়িয়ে দেই। আমার স্কুলে তিনটি বাগান আছে। সেখানে শখের বসে কিছু শিক্ষার্থী কাজ করে। তাদের উৎসাহিত ও সম্মানিত করার জন্য সেরা বাগানীর পুরস্কার দেই। নিয়মিত উপস্থিতির জন্য পুরস্কার দেই।
সবচেয়ে সুন্দর হাতের লেখার জন্য পুরস্কৃত করি। সেরা উদীয়মান নির্বাচন করি। যারা ক্রমশ উন্নতি করছে, শিক্ষককে অনুসরণ করছে তাদের এখানে অন্তর্ভূক্ত করি। ক্লাসে অপ্রাসঙ্গিক কথা বলেনা কিন্তু ক্লাসে খুবই সক্রিয় এমন শিক্ষার্থী থেকে সেরা বিনীয় শিক্ষার্থীর পুরস্কার দেই।
ক্লাসে আমি কিছু শিক্ষার্থী পাই যারা ক্লাসে তাদের আকাঁ বিভিন্ন ছবি, পোস্টার সুন্দর ভাবে লাগিয়ে রাখে, রুম খুবই পরিস্কার রাখে, পাঠেও মনোযোগী। এমন শিক্ষার্থী থেকে সেরা সৃজনশীল পুরস্কার দেই। আমার ক্ষুদে এক শিক্ষার্থী(৬ষ্ঠ শ্রেণি) কয়েক মাসে তিনদিন করে তিনবার তবলিগে গিয়েছে এবং প্রতিবার আমার থেকে ছুটি নিয়েছে। তার এই কাজের জন্য আমি সেরা ভালকাজের পুরস্কার দিয়েছি।
৮ম শ্রেণির মাইমুনা নামের এক শিক্ষার্থী পাখির চোখে সান্দিকোনা স্কুল এন্ড কলেজ ড্রয়িং করে দিয়েছে(ভিডিওতে আছে)। আমি তার কাজটি আমার টেবিলে গ্লাসের নিচে রেখেছি। ছবিটিতে দেখা যায় ক্যাম্পাসে যা আছে ছবিতেও তাই আছে। কোন কিছুই বাদ দেয়নি। ক্যাম্পাসে আছে, ছবিতে নাই এমন কিছু আমরা খুঁজে পাইনি। পরবর্তীতে ছোয়া নামের আরেক শিক্ষার্থী এটা দেখে আরো সুন্দর করে অধ্যক্ষ স্যারের টেবিলে রাখার জন্য এটা আকেঁ। খুশি হয়ে অধ্যক্ষ বাবুল আহম্মেদ স্যার দুইজনকে নিজ বেতনের অর্থে পুরস্কৃত করেন।
এক মেয়ে শিক্ষার্থী পায়ে সমস্যা নিয়ে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে, ফলাফল অন্যদের মতোই ভাল। আরেক ছেলে শিক্ষার্থী টেইলার্সে কাজ করে পড়াশুনা চালিয়ে যাচ্ছে। এই দুইজনকে অদম্য শিক্ষার্থীর পুরস্কার দিয়েছি। প্রতিটি পুরস্কার তাদের অভিভাবকের হাতে তুলে দেই। অভিভাবকরা তাদের সন্তানের হাতে তুলে দেন। এ নিয়েও একটি গল্প আপলোড করেছি।
পুরস্কার হিসাবে দেয়া হয়: স্কুল ব্যাগ, পানির পট(প্রতিটি পটে শিক্ষার্থীর নাম ও স্কুলের ছবি আছে, ফিতায় স্কুলে নাম লেখা আছে), খাতা-কলম ও ক্রেস্ট। বিভিন্ন ক্যাটাগরী মিলিয়ে ৩৮জনকে পুরস্কৃত করা হয় এবং এই কাজে স্কুল ফান্ড থেকে কোন অর্থ গ্রহণ করিনি। বিশেষ ক্লাসের সাথে যুক্ত তিনজন শিক্ষক পুরো খরচ বহন করেছি। অর্থাৎ বিশেষ ক্লাসের জন্য পাপ্ত এক মাসের সম্মানী আমরা শিক্ষার্থীদের জন্য খরচ করেছি।
আমার এই উদ্ভাবনী আইডিয়ার ফলাফল আমি পেয়েছি। এ নিয়ে আরেকটি গল্প লিখবো।
শিক্ষক বাতায়নে ব্লগ বা বিভিন্ন গল্প আপলোড এর সুবিধা না থাকলে এই গল্পগুলো রিভিউ হতো না। ধন্যবাদ আর কৃতজ্ঞতা প্রিয় পোর্টাল শিক্ষক বাতায়ন ও তার জন্মদাতা এটুআই।
মো. আনোয়ার উদ্দীন হিরন
সহকারী প্রধান শিক্ষক
সান্দিকোনা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়
(স্কুল এন্ড কলেজ)
কেন্দুয়া, নেত্রকোণা।
01711129709
www.sumbk.edu.bd
15.01.2025