Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৩:০৪ অপরাহ্ণ

ক্রায়োসার্জারি

ক্রায়োসার্জারি হলো এমন একটি চিকিৎসা পদ্ধতি যার মাধ্যমে অত্যন্ত নিম্ন তাপমাত্রায় শরীরের অস্বাভাবিক বা রোগাক্রান্ত কোষগুলোকে ধবংস করা যায়। গ্রিক শব্দ ‘ক্রায়াে' (বরফের মতাে ঠাণ্ডা) এবং সার্জারি (হাতের। কাজ) শব্দ দুটি হতে ক্রায়ােসার্জারি শব্দটি এসেছে। একে ক্রায়োথেরাপি বা ক্রায়োবোলেশন ও বলে।

ব্যবহৃত গ্যাস ও তাপমাত্রাঃ

তরল নাইট্রোজেন: ( -196°C)

ডাই মিথাইল ইথার প্রােপেন: ( -41°C )

নাইট্রাস অক্সাইড: ( -89°C)

তরল অক্সিজেন: ( -182.9°C)

সলিড কার্বন-ডাই-অক্সাইড: ( -79°C)

আবিস্কারের ইতিহাসঃ

খ্রিষ্টপূর্ব ২৫০০ সালের দিকে মিশরীয়রা ত্বকের বিভিন্ন ধরনের ক্ষত ও প্রদাহের চিকিৎসায় শীতল তাপমাত্রা ব্যবহার করতাে। জেমস আরনট কর্তৃক মাইনাস ২০ ডিগ্রি সেলসিয়াস তাপমাত্রায় লবন পানিকে বরফে জমাকৃত করে ব্যবহার করার পদ্ধতি বর্ণিত হওয়ার মাধ্যমে১৮৪৫ সালে ইংল্যান্ডে প্রথম ক্রায়ােসার্জারির ব্যবহার শুরু হয়।তবে ত্বকের চিকিৎসায় ক্রায়ােসার্জারির ব্যাপক প্রয়ােগ শুরু হয় উনবিংশ শতাব্দীর প্রথম দিক থেকে। শিকাগোর চিকিৎসা বিজ্ঞানী ক্রায়ােসার্জারিতে প্রথম কার্বন ডাই অক্সাইডের ব্যবহার প্রবর্তন করেন এবং তার পর ক্রায়ােসার্জারির কাজে কার্বন ডাই অক্সাইডের ব্যাপক ব্যবহার পরিলক্ষিত হতে থাকে।

  • ১৯২০ সালের দিকে ক্রায়ােসার্জারিতে তরল অক্সিজেলের ব্যবহার শুরু হয়।
  • ১৯৫০ সালে ড. রে এলিংটন ক্রায়ােসার্জারিতে তরল নাইট্রোজেন প্রয়ােগ করেন।
  • আধুনিক ক্রায়ােসার্জারির পথ চলা শুরু হয় ডঃ ইরভিং কুপার এর হাত ধরে।
  • পরবর্তীতে অন্যান্য ক্রায়ােজনিক এজেন্ট যেমন— নাইট্রাস অক্সাইড, কার্বন ডাই-অক্সাইড, আর্গন, ইথাইল ক্লোরাইড এবং ফোরিনেটেড হাইড্রোকার্বন ব্যবহার করে ক্রায়ােসার্জিক্যাল চিকিৎসায় আরাে উন্নতি সাধন করা হয়।
  • ক্রায়ােসার্জারির ক্ষেত্রে সাধারণত পৃথক পৃথকভাবে তরল নাইট্রোজেন, কার্বন ডাই-অক্সাইডের তুষার, আর্গন এবং সমম্বিতভাবে ডাইমিথাইল ইথার ও প্রােপেন এর মিশ্রণ ব্যবহার করা হয়। এদের কোনাে কোনােটি -৪১° তাপমাত্রার উদ্ভব ঘটায়।


ক্রায়ােসার্জারির সুবিধা:

১. ক্যান্সারের চিকিৎসায় অন্য সব পদ্ধতির চেয়ে ক্রাইয়ােসার্জারি অনেক বেশি সুবিধাজনক। প্রকৃত সার্জারির চেয়ে এটি কম আক্রমণকারী; চামড়ার ভেতর দিয়ে ক্রায়ােপ্রােব ঢুকানাের জন্য অতি ক্ষুদ্র ছেদনের প্রয়ােজন পড়ে।

২. সার্জারির ক্ষেত্রে ব্যথা, রক্তপাত এবং অন্যান্য জটিলতাসমূহকে ক্রায়ােসার্জারিতে একেবারেই কমিয়ে আনা হয়।

৩. অন্যান্য চিকিৎসার চেয়ে এটি কম ব্যয়বহুল এবং সুস্থ হতেও খুব কম সময় নেয়।

৪. হাসপাতালে খুবই স্বল্প সময় অবস্থান করতে হয়। অনেক ক্ষেত্রে হাসপাতালে থাকতেই হয় না।

৫. অনেক সময় লােকাল অ্যানেসথেসিয়ার মাধ্যমেই ক্রায়ােসার্জারি সম্পন্ন করা যায়।

৬. চিকিৎসকগণ শরীরের সীমিত এলাকায় ক্রায়ােসার্জিক্যাল চিকিৎসা দেন, ফলে তারা নিকটবর্তী স্বাস্থ্যবান কোষকলাকে ধ্বংসের হাত থেকে রক্ষা করতে পারেন।

৭. এ চিকিৎসাটি নিরাপদে বার বার করা যায় এবং সার্জারি, কেমােথেরাপি, হরমােন থেরাপি ও রেডিয়েশনের মতাে স্ট্যান্ডার্ড চিকিৎসার পাশাপাশি করা সম্ভব।

৮. যেসব রােগীরা তাদের বয়স এবং অন্যান্য শারীরিক কারণে স্বাভাবিক সার্জারির ধকল নিতে অক্ষম তাদের জন্য ক্রায়ােসার্জারি হলাে আদর্শ।


ক্রায়ােসার্জারির অসুবিধা:

১. ক্রায়ােসার্জারির প্রধানতম অসুবিধা হলাে এর দীর্ঘমেয়াদি কার্যকারিতার অনিশ্চয়তা।

২, ইমেজিং পরীক্ষাসমূহের মাধ্যমে চিকিৎসকগণ টিউমারসমূহ দেখে নিয়ে তার ক্ষেত্রে ক্রায়ােসার্জারিকে কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে পারলেও এটি আণুবীক্ষণিক ক্যান্সার ছড়ানােকে প্রতিহত করতে পারে না।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট