প্রভাষক
১৬ ফেব্রুয়ারি, ২০২৫ ০৩:৫০ অপরাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ একাদশ
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ১
রোবটিক্স কী? এমন একটি যান্ত্রিক ব্যবস্থা, যার কাজকর্ম, চলাফেরা দেখলে মনে হবে এটি স্বয়ংক্রিয় ক্ষমতা সম্পন্ন বা নিজে থেকেই চিন্তা করে, বুদ্ধি খাটিয়ে কাজ করছে। কিন্তু আসলে এর কাজ চলে কম্পিউটার প্রোগ্রামের মাধ্যমে। যে প্রোগ্রামের নিয়ন্ত্রন আর কারো নয় বরং মানুষেরই দখলে। আর বিজ্ঞানের যে শাখায় এই রোবট নিয়ে আলোচনা, গবেষণা ও উৎপাদন সংক্রান্ত কাজ করা হয়, সেটিই রোবটিক্সের জগত।
এযুগের রোবটিক্স প্রায় পুরোটাই কম্পিউটারের উপর নির্ভরশীল হলেও, রোবটিক্সের ধারণা কিন্তু কম্পিউটার আবিষ্কারের বহু আগের। খ্রিষ্টপূর্ব ৪০০ সালেই গ্রীক গণিতবিদ আর্কিটাস একটি বাষ্পচালিত যান্ত্রিক পাখি তৈরি করেন। নাম দেন ‘The Pegion’। ১৯৫০ সালের দিকে আবিষ্কার হওয়া লিওনার্দো দ্যা ভিঞ্চির নোটবুকগুলোতেও পাওয়া যায় মাথা, চোয়াল নাড়াতে ও বসতে পারা যান্ত্রিক মানবের নকশা। এরপর পেরিয়ে গেছে বহু বছর, আবিষ্কার হয়েছে কম্পিউটারের মতো যুগান্তকারী যন্ত্র। ১৯৫৪ সালে, অর্থাৎ বিংশ শতাব্দিতেই প্রথম কম্পিউটার প্রোগ্রামকে কাজে লাগিয়ে ডিজিটাল রোবট তৈরি করেন জর্জ ডেভল। নাম দেন ‘ইউনিমেট’ (Unimate) । বিশ্বের প্রথম সফল ডিজিটাল রোবটিক্সের ফল ইউনিমেটের কাজ ছিলো জিনিসপত্র ওঠানামা করানো ও সরানো। তারপর ১৯৬৬ সালে আবিষ্কার হয় বিশ্বের প্রথম আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স বা কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা সম্পন্ন রোবট ‘শেকি রোবট’। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের আবিষ্কৃত রোবটটির বিশেষত্ব ছিলো- চারপাশের বাঁধা বিপত্তি দেখে চেনা এবং চলার পথে আসা বাঁধাকে এড়ানো বা অতিক্রম করা। এরপর তো রোবটিক্সের শুধুই এগিয়ে চলা। ঠিক মানুষের মতোই বুদ্ধিমান রোবট যে আর ভবিষ্যতবাণী না, তা তো ২০১৭ সালে বাংলাদেশে ঘুরে যাওয়া রোবট ‘সোফিয়া’কে দেখেই বুঝেছেন। আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্সের সাহায্যে সেন্সর ও ক্যামেরা ব্যবহার করে নতুন নতুন জিনিস শেখার ক্ষমতা আছে তার।
ছোট্ট থেকে বড়, সব রোবটেরই রয়েছে নিজস্ব ভিন্নতা। যেকারনে নির্দিষ্ট করে রোবটের প্রকারভেদ করা আসলে সহজ নয়। তবুও বৈশিষ্ঠের উপর ভিত্তি করে এদের কয়েকটি ভাগে ভাগ করাই যায়।
মূলত প্রোগ্রাম করে দেয়ার পর সরাসরি মানুষের সাহায্য ছাড়াই বিরতিহীনভাবে কোন নির্দিষ্ট কাজ করতে পারা রোবটগুলো অটোনমাস মোবাইল রোবটের অন্তর্ভুক্ত। বড় বড় শিল্পপ্রতিষ্ঠানে ভারী জিনিসপত্র ওঠা-নামা করানো, পরিস্কার করা, প্যাকিং, ড্রিলিং, ওয়েল্ডিংয়ের মতো একঘেয়ে কাজগুলোয় মানুষের পরিবর্তে এই ধরণের রোবটগুলো ব্যবহার করা হয়। এদের গতিবিধি থাকে ফিক্সড।
অনেকটা অটোনমাস মোবাইল রোবটের মতো কাজ করলেও, এর ভিন্নতা হচ্ছে এটি চাকার সাহায্যে মার্ক করা লাইন, তার, রেডিও ওয়েভ, লেজার কিংবা ম্যাগনেটকে অনুসরণ করে চলাচল করতে পারে। এর ব্যবহারও শিল্পকারখানায় ব্যপক। বিশেষ করে ভারী মালামাল ওঠানামা, পরিবহণ ও স্থানান্তরে। তবে সমতল জায়গাতেই এই রোবটগুলো ভালো চলাচল করতে পারে।
শিল্পক্ষেত্রে বহুল ব্যবহার হওয়া আরেকটি রোবট হচ্ছে আর্টিকুলেটেড রোবট। তবে শিল্পক্ষেত্রের অন্যান্য রোবটের তুলনায় এটি বেশি ব্যবহার উপযোগী। কারণ হচ্ছে এর জয়েন্টযুক্ত শরীর। জয়েন্টের কারনে এটি অনেকটা মানুষের হাতের মতো নড়াচড়া করতে পারে। পারে স্বাধীনভাবে উপর-নিচে বা চারদিকে ঘুরতেও। এই সুবিধার কারনে এটি অটোনমাস মোবাইল রোবটের চেয়েও বেশি কার্যকরী ভাবে ভারী জিনিস তুলতে পারে।
মানবদেহের সাথে সাদৃশ্যপূর্ণ রোবটগুলো হচ্ছে হিউম্যানয়েড। মেশিন লার্নিংয়ের সাহায্যে এতে যুক্ত হয় কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা আর্টিফিশিয়াল ইন্টেলিজেন্স। এদের এই বুদ্ধিমত্তা এতোটাই উন্নত করা হচ্ছে যে, এরা পারে নিজে থেকে চিন্তা করে সিদ্ধান্ত নিতে, কথা বলতে, উত্তর দিতে। মানুষের আচরণকে হুবহু নকল করতে পারার ক্ষমতার সাথে, আছে আবেগও। হিউম্যানয়েডের কথা উঠলে আবারো বলতে হয় ‘সোফিয়া’র কথা। সম্প্রতি এই বুদ্ধিমান রোবট মানবী নাকি ‘মা’ হওয়ারও ইচ্ছা প্রকাশ করেছে!
‘কোলাবরেশন’ এবং ‘রোবট’ এই দু’টি শব্দ নিয়ে ‘কোবট’। এই ধরনের রোবটগুলো মানুষের সাথে কোলাবরেট করে বা মিলে একত্রে কাজ করতে পারে। শিল্পকারখানায় বা বিভিন্ন কাজের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত অন্যান্য রোবটের সাথে মানুষের কাজ করা অনেক ক্ষেত্রেই ঝুঁকিপূর্ণ। এদিক দিয়ে কোবট আকারে অনেকটাই ছোট ও কম গতির হওয়ায়, এগুলোর সাথে মানুষের পাশাপাশি থেকে কাজ করা নিরাপদ। অনিরাপদ স্পর্শ বা সংঘর্ষ এড়াতেও কোবটে থাকে বিশেষ ব্যবস্থা। মোটরগাড়ি শিল্পে, ধাতু ঢালাইয়ের মতো কাজে এর ব্যবহার বেশি।
কাজের ক্ষমতার পরিধি বৃদ্ধির লক্ষে দুই বা ততোধিক ভিন্ন ধরণের রোবট একসাথে যুক্ত করে একটি নতুন রোবট প্রস্তুত করা হলে, সেটিকে বলা হয় হাইব্রিড রোবট। যেমন ধরুন, একটি অটোনমাস মোবাইল রোবটের সাথে আর্টিকুলেটেড রোবটের জয়েন্টযুক্ত রোবটিক হাত যুক্ত করে দিলে, এর কাজের ক্ষমতা বেড়ে যাচ্ছে দ্বিগুণ।
বর্তমান বিশ্বে নানান ক্ষেত্রে ব্যবহার হচ্ছে রোবট ও রোবটিক্স। তাদের মধ্যেই কয়েকটি নিয়ে জানা যাক।
মানুষের জীবনযাত্রাকে সহজ ও সুবিধাজনক করতে রোবট নিরলসভাবে কাজ করলেও, এরও রয়েছে নানান অসুবিধাজনক দিক। কী সেগুলো?