ভাষা কাকে বলে?
ভাষা হলো মানুষের মনের ভাব প্রকাশের প্রধান মাধ্যম। এটি এমন একটি স্বতঃস্ফূর্ত পদ্ধতি যার মাধ্যমে ব্যক্তি তার চিন্তা, অনুভূতি, আবেগ ও অভিজ্ঞতা অন্যদের কাছে প্রকাশ করতে পারে। ভাষা মৌখিক, লিখিত বা সাংকেতিক হতে পারে।
ভাষার প্রকারভেদ
ভাষাকে বিভিন্নভাবে শ্রেণিবদ্ধ করা যায়। প্রধানত ভাষার প্রকারভেদ নিচে উল্লেখ করা হলো—
১. উৎপত্তির ভিত্তিতে ভাষার প্রকারভেদ
- প্রাকৃতিক ভাষা: যে ভাষা স্বতঃস্ফূর্তভাবে মানুষের সমাজে বিকশিত হয় (যেমন: বাংলা, ইংরেজি, হিন্দি)।
- কৃত্রিম ভাষা: যেসব ভাষা নির্দিষ্ট প্রয়োজনে তৈরি করা হয় (যেমন: প্রোগ্রামিং ভাষা, এস্পেরান্তো)।
২. ব্যবহারিক দৃষ্টিকোণ থেকে ভাষার প্রকারভেদ
- মাতৃভাষা: শিশুকাল থেকে যে ভাষা শিখে (যেমন: বাংলার জন্য বাংলা ভাষা)।
- দ্বিতীয় ভাষা: মাতৃভাষা ব্যতীত যে ভাষা শেখা হয় (যেমন: বাংলাদেশে ইংরেজি)।
- আঞ্চলিক ভাষা: নির্দিষ্ট অঞ্চলে প্রচলিত ভাষা (যেমন: চাটগাঁইয়া, সিলেটি)।
- আন্তর্জাতিক ভাষা: বিশ্বব্যাপী ব্যবহৃত ভাষা (যেমন: ইংরেজি)।
৩. গঠনের ভিত্তিতে ভাষার প্রকারভেদ
- মূল ভাষা: যেসব ভাষা অন্য ভাষার উৎস (যেমন: সংস্কৃত, লাতিন)।
- উপভাষা: মূল ভাষার বিকৃত বা পরিবর্তিত রূপ (যেমন: বাংলা ভাষার অন্তর্গত চাটগাঁইয়া, নোয়াখালীর ভাষা)।
৪. প্রকাশভঙ্গির ভিত্তিতে ভাষার প্রকারভেদ
- মৌখিক ভাষা: কথোপকথনের মাধ্যমে ব্যবহৃত ভাষা।
- লিখিত ভাষা: লিখে প্রকাশ করা ভাষা।
- ইশারাভাষা: শারীরিক অঙ্গভঙ্গির মাধ্যমে প্রকাশিত ভাষা (যেমন: বধিরদের সংকেতভাষা)।