Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২০ জুন, ২০২৫ ০৯:২১ অপরাহ্ণ

সপ্তর্ষিমণ্ডল: আকাশের সাত জ্ঞানসূর্য

ধারণা:

সপ্তর্ষিমণ্ডল (Saptarshi Mandal) হলো রাতের আকাশে দৃশ্যমান একটি উজ্জ্বল নক্ষত্রগুচ্ছ, যা বৃহৎ ভালুকা নক্ষত্রপুঞ্জের (Ursa Major) অংশ। এটি মূলত সাতটি উজ্জ্বল নক্ষত্র নিয়ে গঠিত এবং ভারতীয় জ্যোতির্বিজ্ঞানে একে "সপ্তর্ষি"-অর্থাৎ সাত ঋষির প্রতীক হিসেবে ধরা হয়।

এই সাতটি নক্ষত্র হল:

·       মরীচি (Marichi)

·       বশিষ্ঠ (Vashistha)

·       অত্রি (Atri)

·       অঙ্গিরা (Angiras)

·       পুলস্ত্য (Pulastya)

·       পুলহ (Pulaha)

·       ক্রতু (Kratu)

এই নক্ষত্রগুলিকে ঋষিদের আত্মার প্রতিরূপ মনে করা হয়, যারা পৃথিবীর প্রাচীন ধর্ম ও জ্ঞানকে ধারণ করতেন।

সপ্তর্ষিমণ্ডলের নামকরণ ও পাশ্চাত্য ব্যাখ্যা

ভারতীয় দৃষ্টিভঙ্গি:
সপ্তর্ষিমণ্ডল নামটি এসেছে সংস্কৃত শব্দ “সপ্ত” (সাত) ও “ঋষি” (মহাজ্ঞানী সাধক)-এর সংমিশ্রণে। এই সাত ঋষিকে হিন্দু ধর্মে সৃষ্টির প্রারম্ভে মানবজাতিকে জ্ঞান, ধর্ম ও শিষ্টাচার শেখানো মহান জ্ঞানী হিসেবে বিবেচনা করা হয়। আকাশে একত্রে থাকা সাতটি উজ্জ্বল তারা এই সাত ঋষির প্রতীক।

পাশ্চাত্য নামকরণ:
এই একই সাতটি উজ্জ্বল তারা পাশ্চাত্য বিশ্বে এক ভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গিতে দেখা হয়েছে। গ্রিক পুরাণে তারা এটি Ursa Major অর্থাৎ “বৃহৎ ভালুক” বলে চিহ্নিত করেন। এই নামকরণের পেছনে রয়েছে একটি পৌরাণিক কাহিনি

এক রমণী কলিস্টোকে দেবতা জিউস ভালুক রূপে রূপান্তর করেন এবং তার পুত্র আরকাস তাকে চিনতে না পেরে বাণ মারতে গেলে জিউস দুজনকেই আকাশে স্থান দেন
-Ursa Major (বড় ভালুক) ও Ursa Minor (ছোট ভালুক) হিসেবে।

তারা গুচ্ছ না তারামণ্ডল?

·       ভারতীয় পদ্ধতিতে সপ্তর্ষিমণ্ডলকে একটি তারামণ্ডল হিসেবেই দেখা হয়।

·       পাশ্চাত্য জ্যোতির্বিজ্ঞানে এটি পুরো Ursa Major তারামণ্ডলের অংশ।
তবে এর সাতটি উজ্জ্বল তারা একটি ছোট আকৃতির নকশা বা "
Asterism" হিসাবে বিবেচিত হয় যার নাম The Big Dipper (যা প্রশ্নবোধক চিহ্ন বা বড় চামচের মতো দেখতে)।
তাই এটি পুরো তারামণ্ডল নয় বরং একটি অংশ, যা সহজেই চোখে পড়ে।

প্রাচীন ইতিহাস ও বিশ্বাস:

  • হিন্দু পুরাণে, সপ্তর্ষিরা ব্রহ্মার মানসপুত্র ও সৃষ্টির আদিকাল থেকেই মানবজাতিকে ধর্ম, আচার ও জ্ঞানের পথ দেখিয়েছেন বলে বিবেচিত।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট