সহকারী শিক্ষক
০১ জুলাই, ২০২৫ ১২:১৮ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দশম
বিষয়ঃ বাংলা সাহিত্য
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ১
একসময় দেশের স্কুল-কলেজগুলোতে নাটক, আবৃত্তি, সঙ্গীত, বিতর্ক, কিরাত প্রতিযোগিতা, খেলাধুলা, দেয়াল-পত্রিকা, বার্ষিক ম্যাগাজিন প্রকাশ—এসব ছিল অতি স্বাভাবিক। প্রতিটি স্কুলেই ছিল লাইব্রেরি, শিক্ষার্থীরা পাঠ্যবই ছাড়াও সাহিত্যের বই পড়তো। এসবের মাধ্যমে তাদের মধ্যে চিন্তার গভীরতা তৈরি হতো, নতুনভাবে ভাবতে শেখার সুযোগ পেতো। বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে কেন্দ্রীয় ও হল সংসদের উদ্যোগে ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক আয়োজন চলত, ছাত্ররা অবসর সময় নাটক, সংগীত, সাহিত্যচর্চায় ব্যস্ত থাকত।
কিন্তু এখন এসব দৃশ্য বিরল। প্রাথমিক থেকে উচ্চমাধ্যমিক পর্যায়ে শিক্ষার্থীরা শুধু পরীক্ষার জন্য মুখস্থ বিদ্যা নিয়ে ব্যস্ত। বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়েও তাদের জীবন চলে ক্লাস-পরীক্ষা-সেশনালের মধ্যে। বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলো তো একেবারেই ব্যবসায়িক প্রতিষ্ঠানে রূপান্তরিত, যেখানে ক্লাস আর পরীক্ষা ছাড়া কোনো মানবিক বা সাংস্কৃতিক চর্চার সুযোগই নেই।
প্রতিটি প্রতিষ্ঠানে লাইব্রেরি থাকলেও, সেগুলোতে নেই যোগ্য গ্রন্থাগারিক। কোথাও গ্রন্থাগারিক আছেন, কিন্তু তাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে ক্লাস নেওয়ার বা প্রশাসনিক কাজে। ফলে শিক্ষার্থীরা লাইব্রেরিতে যেতেই পারে না। লাইব্রেরি ক্লাস চালু রাখার যে সুপারিশ অধ্যাপক আবদুল্লাহ আবু সায়ীদ করেছেন, তা এখনও বাস্তবায়িত হয়নি। অথচ বই পড়ার মধ্যে দিয়ে শিক্ষার্থীরা নতুন দৃষ্টিভঙ্গি, সংবেদনশীলতা আর সৃজনশীলতার স্বাদ পেত।
অধিকাংশ শহরাঞ্চলের স্কুল-কলেজে খেলার মাঠ নেই। ফলে জাতীয় সঙ্গীতও ঠিকমতো গাওয়া হয় না। জাতীয় সঙ্গীত গাওয়ার মধ্য দিয়ে যেমন দেশপ্রেম জাগে, তেমনি মাঠে খেলার মধ্য দিয়ে তৈরি হয় শারীরিক সুস্থতা, পারস্পরিক সহযোগিতা আর খেলোয়াড়সুলভ মানসিকতা। কিন্তু এ সুযোগ থেকে বঞ্চিত হচ্ছে আমাদের ছেলেমেয়েরা।
শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে যখন সুস্থ সংস্কৃতিচর্চা, খেলাধুলা আর সাহিত্যচর্চার সুযোগ থাকে না, তখন তরুণদের মধ্যে তৈরি হয় শূন্যতা। সেই শূন্যতা পূরণ হয় ফেসবুকের বিনোদন, টিভির আড়ম্বর, এমনকি মাদক আর উগ্র রাজনীতির মাধ্যমে। ফলে সামান্য হতাশা বা প্রলোভনে তারা জড়িয়ে পড়ে উগ্রবাদী কর্মকাণ্ডে। কেবল অস্ত্র দিয়ে এই প্রবণতা দমন করা সম্ভব নয়, মানবিকতার চর্চার মাধ্যমেই মন থেকে উগ্রবাদিতা দূর করতে হবে।
বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে একসময় যেসব ছাত্র রাজনীতি ছিল, তা ছিল আদর্শের ভিত্তিতে। সাধারণ ছাত্ররা তাদের নেতা-নেত্রীদের শ্রদ্ধার চোখে দেখত। এখন উল্টো চিত্র—ছাত্র রাজনীতি হয়ে গেছে প্রভাব খাটানোর মাধ্যম। নেতারা চায় সাধারণ শিক্ষার্থী তাদের দেখলেই মাথা নিচু করে সালাম দিক। না করলে মানসিক চাপ, এমনকি শারীরিক নির্যাতনও চলে। ফলে অনেক মেধাবী শিক্ষার্থী হতাশ হয়ে দেশের বাইরে চলে যায় এবং আর ফিরে আসে না।
বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর অধিকাংশই বিজনেস স্টাডিজ, ম্যানেজমেন্টের মতো বিষয় চালায়। মানবিকতা গড়ার সাহিত্য, দর্শন, ইতিহাসের মতো বিষয় প্রায় নেই। ফলে সেখানে পড়তে আসা তরুণরা হয়ে উঠছে শুধু ক্যারিয়ারমুখী—কীভাবে আয় করবে, ব্যয় করবে সেটাই শিখছে, মানবিকতা নয়।
👉 লাইব্রেরি ক্লাস বাধ্যতামূলক করতে হবে।
👉 প্রতিটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে নিয়মিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান, বিতর্ক, নাটক, আবৃত্তি, সংগীতের আয়োজন নিশ্চিত করতে হবে।
👉 খেলার মাঠ ও শারীরিক শিক্ষার গুরুত্ব বাড়াতে হবে।
👉 শিক্ষার্থীদের শুধু পরীক্ষার জন্য না, মানুষের মতো মানুষ হওয়ার জন্য গড়ে তুলতে হবে।
👉 ছাত্র রাজনীতিকে করতে হবে মূল্যবোধভিত্তিক, আদর্শনির্ভর।
👉 শিক্ষক ও অভিভাবকদেরও বই পড়তে এবং ছেলেমেয়েদের বই পড়তে উৎসাহ দিতে হবে।
মোঃ মনিরুল হক
সহকারী শিক্ষক,
আমলাবাড়ী মাধ্যমিক বিদ্যালয়
খোকসা, কুষ্টিয়া।
মোবাঃ ০১৭২২ ২৭৩২৭২