সহকারী শিক্ষক
০৬ জুলাই, ২০২৫ ০১:১১ পূর্বাহ্ণ
ব্লুটুথ নামকরণের ইতিহাস (History of Bluetooth)
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-২
আজ থেকে অনেক অনেক দিন আগে, প্রায় দশম শতাব্দীতে, স্ক্যান্ডিনেভিয়াতে একজন রাজা ছিলেন যার নাম ছিল হারাল্ড ব্লুটুথ গ্রোমসন। তাকে 'ব্লুটুথ' বলা হতো কারণ তার দাঁত নাকি একটু গাঢ় নীলচে রঙের ছিল, অথবা হয়তো তিনি ব্লুবেরি খেতে খুব ভালোবাসতেন! হারাল্ড রাজা ছিলেন খুব বুদ্ধিমান। তিনি স্ক্যান্ডিনেভিয়ার ছোট ছোট অনেক রাজ্যকে একসাথে এনে একটা বড় রাজ্য তৈরি করেছিলেন। ঠিক যেমন একটা মালা বানাতে অনেকগুলো ফুলকে সুতো দিয়ে গাঁথা হয়, তেমনি হারাল্ডও সব রাজ্যকে এক করে দিয়েছিলেন।
এখন আসা যাক আমাদের আধুনিক সময়ের গল্পে। ১৯৯০-এর দশকের মাঝামাঝি সময়ে, কিছু বিজ্ঞানী আর ইঞ্জিনিয়ার একটা দারুণ জিনিস নিয়ে কাজ করছিলেন। তারা চাইছিলেন, মোবাইল ফোন, কম্পিউটার, আর অন্যান্য গ্যাজেটগুলো যেন তার ছাড়া একে অপরের সাথে কথা বলতে পারে, তথ্য আদান-প্রদান করতে পারে। মানে, ধরুন আপনার ফোন থেকে একটা গান সরাসরি আপনার স্পিকারে চলে যাবে, কোনো তার ছাড়াই!
এই বিজ্ঞানীরা যখন তাদের এই নতুন প্রযুক্তি নিয়ে ভাবছিলেন, তখন তাদের একজন বন্ধু, যার নাম জিম কারডাচ, তিনি একটি বই পড়ছিলেন হারাল্ড ব্লুটুথ রাজাকে নিয়ে। জিম তখন তার আরেক বন্ধু, জিম কোপার-কে রাজ হারাল্ডের গল্পটা বললেন। তিনি বললেন, "দেখো, হারাল্ড রাজা যেমন অনেক রাজ্যকে একসাথে এনেছিলেন, আমাদের এই নতুন প্রযুক্তিও তো ঠিক তেমনই করবে! এটা অনেকগুলো ডিভাইসকে তার ছাড়া একসাথে জুড়ে দেবে।"
তখনই তাদের মাথায় এলো, "এই নতুন প্রযুক্তির নাম তাহলে 'ব্লুটুথ' রাখা যাক!" প্রথমে এটা শুধু একটা মজার নাম ছিল, সাময়িক ব্যবহারের জন্য। কিন্তু নামটি এতটাই পছন্দ হয়ে গেল যে, ১৯৯৮ সালে যখন এই প্রযুক্তিকে সবার জন্য চালু করা হলো, তখন অফিসিয়ালি এর নাম রাখা হলো ব্লুটুথ।
ঠিক যেমন হারাল্ড রাজা স্ক্যান্ডিনেভিয়ার রাজ্যগুলোকে এক করেছিলেন, ব্লুটুথ প্রযুক্তিও আমাদের সব গ্যাজেটকে তারের ঝামেলা ছাড়াই একসাথে জুড়ে দিয়েছে। মজার না গল্পটা?