সহকারী প্রধান শিক্ষক
০২ আগস্ট, ২০২৫ ০৮:৩৯ পূর্বাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
‘‘শিক্ষার্থীরা ক্লাসরুম এক্টিভিজিট অংশ হিসাবে সচেতনতা মূলক কন্টেন্ট তৈরি করতে পারছে’’
বলছি আমার বর্তমান কর্মস্থল
সান্দিকোনা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়(স্কুল এন্ড কলেজ) কেন্দুয়া, নেত্রকোণা’র কথা। গত
বছরের শেষের দিকে শিক্ষার্থীর উন্নয়নে কিছু পদক্ষেপ গ্রহণ করেছিলাম। যার মধ্যে ছিল
স্কুলে মোবাইল ব্যবহার নিষিদ্ধ এবং বাড়ীতে মোবাইল এর ইতিবাচক ব্যবহারের কিছু ধারণা
দেয়া।
এজন্য ChatGPT App এর সাথে পরিচয় করিয়ে দেই। কিভাবে প্রম্ট লিখতে হয়, কী প্রয়োজনে আমরা এই এপ এর সাহায্য নিতে পারি এসব নিয়ে আমি ধারাবাহিক কয়েকটি ক্লাস করি মাল্টি-মিডিয়া ব্যবহার করে। বিষয়টি অভিভাবক সমাবেশ এ সম্মানিত অভিভাবককেও অবগত করেছি।
উপস্থাপন কৌশল বৃদ্ধির জন্য বেশ কিছু ক্লাস ও পদক্ষেপ গ্রহণ করি। এই নিয়ে বেশ কিছু স্টোরী শিক্ষক বাতায়নে আপলোড করা হয়েছে। বর্তমানে সৃষ্টিকর্তার কৃপায় আমার পরিশ্রম কিছুটা সফল হতে যাচ্ছে। ছোট ছোট স্ক্রিপ্ট আয়ত্ব করে ক্যামেরার সামনে কথা বলতে পারছে।
আমার ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা তাদের দক্ষতার প্রমাণ করে আমাকে সফল করেছে। ভিডিওতে ৮ম শ্রেণির ফারিহা বজ্রপাতে করণীয় নিয়ে একটি কন্টেন্ট তৈরি করেছ। কন্টেন্ট এর বিষয়বস্তুর স্ক্রিপ্ট চ্যাটজিপিটি থেকে নিয়েছে, নিজের মতো করে সংযোজন বিয়োজন করেছে। উল্লেখ্য সকল কন্টেন্ট প্রতিষ্ঠান ও পাঠ সম্পর্কিত এবং অভিভাবক অবগত। এ ধরণের কাজগুলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে এবং শিক্ষকের তত্ত্বাবধানে হচ্ছে।
এই কন্টেন্টটি অভিভাবক সমাবেশ এ উপস্থাপিত হয়েছে। ফারিহার বাবা খুব সম্মানিত বোধ করেছেন। ভয়ঙ্কর ডিভাইস মোবাইল এর ইতিবাচক ব্যবহার এর এটি একটি উৎকৃষ্ট উদাহরণ। আরো কয়েকজন শিক্ষার্থী গ্রামার এর কিছু টপিক নিয়ে কন্টেন্ট এর আগে তৈরি করেছে।
টিক-টক বা আবল-তাবল ভিডিও ছাড়াও শিক্ষামূলক ভিডিও তৈরি করে নিজে শেখা যায় ও অন্যকে শেখানো যায় এটা আমি সবসময় সবাইকে বুঝানোর চেষ্টা করি। মোবাইল ব্যবহার করা কে আমি সবসময় নিরুৎসাহিত করি। আমার প্রতিষ্ঠানে কঠোর ভাবে চেক করার চেষ্টা করি। এজন্য মাঝে মাঝে অনেক স্টুডেন্টস এর রোষানলেও পরি। যে সকল শিক্ষার্থীর বড় ভাই-বোন থাকে তাদেরকেও বুঝানোর চেষ্টা করি। পড়াশুনার কোন বিশেষ প্রয়োজন হলে তবেই মোবইল নির্দিষ্ট সময়ের জন্য ব্যবহার করা যেতে পারে এবং সেটা কিভাবে এটাও বুঝানোর চেষ্টা করি।
একটি উল্লেখযোগ্য বিষয় আমি সবসময় ছোট ক্লাসের শিক্ষার্থী নিয়ে কাজ করতে পছন্দ করি যদিও আমার প্রতিষ্ঠানে একাদশ-দ্বাদশ শ্রেণি আছে। এর প্রধান কারণ হলো উন্নতিটা যেন একটু বেশি স্থায়ী হয় এটা চিন্তা করে এমনটা করা। কারণ আজ যারা সপ্তম শ্রেণিতে তারা দ্বাদশ অবধি এই প্রতিষ্ঠানে থাকবে। সুতরাং তারা ধারাবাহিক উন্নয়ন করে ভাল একটি দক্ষতা নিয়ে প্রতিষ্ঠান ত্যাগ করবে এটা আমার বিশ্বাস ও লক্ষ্য। তবে বড়দের অংশগ্রহণও রয়েছে(যারা কৌতুহলী তাদের জন্য)।
অধমের দীর্ঘ লেখা পড়ার জন্য কৃতজ্ঞতা।
মো. আনোয়ার উদ্দীন (হিরন)
সহাকারী প্রধান শিক্ষক
সান্দিকোনা স্কুল এন্ড কলেজ
কেন্দুয়া, নেত্রকোণা।
Website: www.sumbk.edu.bd
Date: August 01, 2025