সহকারী প্রধান শিক্ষক
০৫ আগস্ট, ২০২৫ ১১:০১ পূর্বাহ্ণ
সহকারী প্রধান শিক্ষক
দেখা ও শেখা, পর্যবেক্ষণ এবং বাস্তাবায়ন প্রসঙ্গে
প্রতটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে বিজ্ঞানাগার অতীব গরুত্বপূর্ণ। সরকারীভাবে প্রায়ই কিছু বরাদ্দ দেয়া হয় শিক্ষা প্রতিষ্ঠানগুলোতে। আবার বিজ্ঞান মেলা আয়োজন এবং বিজ্ঞান অলিম্পিয়াড আয়োজনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান মনস্ক তৈরি করা হয়।
সম্প্রতী একটি আন্তর্জাতিক মানের শিক্ষা প্রতিষ্ঠান হেইলিবারি ভালুকা দেখতে গিয়েছিলাম। সেখানে প্রতিটি ক্লাসরুম দেখেছি। বিজ্ঞান এর বিশেষ করে জীব, পদার্থ, রসায়ন ক্লাসগুলো অনেক সুন্দর এবং আমাদের চাইতে ভিন্ন রকম।
ঐ স্কুলে ল্যাবে কাজ করার মাধ্যমে পড়ানো হয়। আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থায় মফস্বল এর বিজ্ঞান ক্লাসগুলোর মতো নয়। ওখানে পড়া এবং ব্যবহারিক একসাথে। আমাদের মফস্বল স্কুলের রুটিনে নিয়মিত বিজ্ঞান ক্লাস থাকলেও ব্যবহারিক অনেক ক্ষেত্রে উপক্ষিত থাকে(আমি সবার কথা বলছি না)। কিন্তু হেইলিবারিতে আমাদের উল্টো। আমার কাছে মনে হয়েছে ওরা সিলেবাস টার্গেট করে পড়েনা, পাশ করার জন্য পরে না। তারা কিছু বানানোর জন্য কাজ করে, আবিস্কারের জন্য কাজ করে। যতটা জানে তা নিয়ে বিভিন্ন বিশ্লেষণ পরীক্ষা নীরিক্ষা করে। (বিজ্ঞান বিষয়ের কথা বলছি)
হেইলিবারি ভালুকা’র পদার্থ বিজ্ঞান ল্যাব এর ভিডিও লিংক:
https://youtu.be/_mlmdQ2j2ME
জীব বিজ্ঞান ল্যাব এর ভিডিও লিংক:
https://youtu.be/mzGn-VkeO1E
রসায়ন ল্যাব এর ভিডিও লিংক:
https://youtu.be/dwYbQrYpGgk
যাইহোক আমারা প্রতিদিন বিভিন্ন সীমাবদ্ধতার মধ্যদিয়ে যাই। এসবের মধ্যে থেকে আমার স্কুলের বিজ্ঞানাগারকে গতবছর কিছুটা সমৃদ্ধা করতে পেরেছি। জাতীয় বিজ্ঞান ও জাদুঘর কর্তৃক কিছু আর্থিক বরাদ্দ পেয়েছিলাম। যার জন্য বিজ্ঞানাগারে বেশ কিছু প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র ক্রয় করা গেছে।
এবারে আমার প্রতিষ্ঠানে কর্মরত বিজ্ঞান শাখার শিক্ষকবৃন্দকে এবং বিজ্ঞান শাখার শিক্ষার্থীকে হেইলবেরি ভালুকার ভিডিওগুলো দেখাবো। যে পদ্ধতি বাস্তবায়ন করার সামর্থ্য আছো তার কিছুটা হলেও বাস্তবায়ন করা চেষ্টা করবো। বিশেষ করে জীব, রসায়ন, পদার্থ ক্লাসগুলো সাইন্স ল্যাব এ হওয়ার ব্যবস্থা নিবো ইনশাল্লাহ। ব্যবহারীক ও তত্ত্বীয় সমান গুরুত্ব যেন পায় সে উদ্দ্যোগ নিবো। সংশ্লিষ্টা শিক্ষকবৃন্দকে সহযোগিতা করার অনুরোধ করবো।
শিক্ষার্থীদের বিজ্ঞান মনস্ক করতে, বিজ্ঞান বিভাগ নিয়ে পড়তে আগ্রহী করে তুলতে হলে এমন কিছু একটা সবাইকে করতে হবে। নয়তো এক সময় মফস্বল অঞ্চলে বিজ্ঞান শাখায় পড়ার শিক্ষার্থী থাকবে না।
অন্যদিকে যখন পড়া-শেখা এবং তা হাতে কলমে কাজ করে বাস্তবায়ন করা সম্ভব হলে, ক্ষুদে শিক্ষার্থীরা বিজ্ঞানের ছোট ছোট বিষয় নিয়ে নতুন কিছু আবিস্কার করতে পারবে(যা অনেক সময় বিজ্ঞান মেলায় করে দেখায়), অথবা তাদের আবিস্কারের সক্ষমতা আছে জানতে পারবে তখন পড়াশুনা, বিজ্ঞান ক্লাস আরো উপভোগ করবে, পাঠমুখী হবে, ল্যাবমুখী হবে এটা আমার বিশ্বাস। উল্লেখিত দক্ষতা অর্জন হলে তারা পরীক্ষায় এমনিতেই পাশ করে যাবে।
ধন্যবাদ
মো. আনোয়ার উদ্দীন (হিরন)
সহকারী প্রধান শিক্ষক
সান্দিকোনা স্কুল এন্ড কলেজ
কেন্দুয়া, নেত্রকোণা।
Website: www.sumbk.edu.bd
August 05, 2025