সহকারী শিক্ষক
১৭ আগস্ট, ২০২৫ ০৭:০০ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ ইসলাম শিক্ষা
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ২
পাঠঃ পাঠ ২
নাজাসাত শব্দটি আরবি, যার আভিধানিক অর্থ হলো অশুচিতা, অপবিত্রতা বা মলিনতা। ইসলামী শরীয়তের পরিভাষায় নাজাসাত এমনসব বস্তু বা অবস্থাকে বোঝায়, যা শরীর, পোশাক বা অন্য কোনো পবিত্র বস্তুতে লাগলে সেগুলোকে অপবিত্র করে তোলে এবং এর কারণে নামাজ ও অন্যান্য ইবাদত পালনে বাধা সৃষ্টি হয়।
ইসলামে পবিত্রতা (তাহারাত) একটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয়, কারণ পবিত্রতা ছাড়া নামাজ বা কোরআন স্পর্শ করা যায় না। তাই নাজাসাত থেকে নিজেকে ও নিজের ব্যবহার্য জিনিসপত্রকে পবিত্র রাখা জরুরি।
শরীয়তের বিধান অনুযায়ী নাজাসাত প্রধানত দুই প্রকার:
নাজাসাতে হাকিকী (প্রকৃত অপবিত্রতা): এটি এমন অপবিত্র বস্তু যা চোখে দেখা যায় এবং যা সাধারণত মানুষ ঘৃণা করে। যেমন:
মানুষের মল ও মূত্র।
প্রবাহিত রক্ত (যেমন: মাসিক, প্রসব পরবর্তী রক্ত)।
মৃত প্রাণীর দেহ (তবে মাছ ও পঙ্গপাল এর ব্যতিক্রম)।
শুকর ও কুকুরের দেহ বা লালা।
মদ।
যেসব প্রাণীর গোশত খাওয়া হালাল নয়, তাদের মল-মূত্র।
নাজাসাতে হাকিকীকে আবার দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
নাজাসাতে গালিযা (শক্ত নাপাকি): এটি এমন নাপাকি যা দূর করার ব্যাপারে কঠোর নির্দেশনা আছে। যেমন: মানুষের মল-মূত্র, রক্ত, বীর্য, বমি (মুখ ভর্তি), মৃত পশুর গোশত ইত্যাদি।
নাজাসাতে খফিফা (হালকা নাপাকি): এটি এমন নাপাকি যা দূর করার বিধান কিছুটা শিথিল। যেমন: যেসব পাখির গোশত খাওয়া হারাম, তাদের মল; যেসব পশুর গোশত খাওয়া হালাল, তাদের পেশাব ইত্যাদি।
নাজাসাতে হুকমী (বিধানগত অপবিত্রতা): এটি এমন অপবিত্রতা যা চোখে দেখা যায় না, কিন্তু শরীয়তের দৃষ্টিতে অপবিত্র। এর কারণে অজু বা গোসল প্রয়োজন হয়। একে হাদাসও বলা হয়। যেমন:
হাদাসে আসগার (ছোট হাদাস): অজু ভঙ্গের কারণগুলো এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন: প্রস্রাব-পায়খানা করা, বায়ু ত্যাগ করা, রক্ত বা পুঁজ বের হওয়া ইত্যাদি। এর থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য অজু করতে হয়।
হাদাসে আকবার (বড় হাদাস): গোসল ফরয হওয়ার কারণগুলো এর অন্তর্ভুক্ত। যেমন: সহবাস, স্বপ্নদোষ, মাসিক বা নিফাস (প্রসব পরবর্তী রক্তক্ষরণ)। এর থেকে পবিত্র হওয়ার জন্য গোসল করতে হয়।