সিনিয়র শিক্ষক
২১ আগস্ট, ২০২৫ ০৭:৩৬ পূর্বাহ্ণ
টাইফয়েড টিকার নিবন্ধন ও টিকার কার্ড ডাউনলোড করার প্রক্রিয়া....
টাইফয়েড টিকার নিবন্ধন ও টিকার কার্ড ডাউনলোড করার প্রক্রিয়া....
লিংক: https://vaxepi.gov.bd/
টাইফয়েড একটি সংক্রামক রোগ, যা মূলত Salmonella Typhi নামক ব্যাকটেরিয়ার কারণে হয়। দূষিত পানি, অপরিষ্কার খাবার ও অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের মাধ্যমে এই জীবাণু শরীরে প্রবেশ করে। টাইফয়েড হলে দীর্ঘস্থায়ী জ্বর, পেট ব্যথা, ডায়রিয়া বা কোষ্ঠকাঠিন্য, শরীর দুর্বল হয়ে যাওয়া ইত্যাদি গুরুতর সমস্যা দেখা দেয়। অনেক সময় রোগটি জটিল আকার ধারণ করলে অন্ত্র ফেটে গিয়ে মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে। তাই টাইফয়েড প্রতিরোধে টিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
কেন টাইফয়েড টিকা নেওয়া উচিত?
১. টাইফয়েড থেকে সুরক্ষা দেয়
টিকা নেওয়ার মাধ্যমে শরীরে রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা তৈরি হয়, যা টাইফয়েড জীবাণুকে আক্রমণ করতে সক্ষম। এতে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেক কমে যায়।
২. গুরুতর জটিলতা এড়ায়
টাইফয়েড untreated অবস্থায় অন্ত্র ফেটে যাওয়া, রক্তক্ষরণ, পানিশূন্যতা, মস্তিষ্কে সংক্রমণসহ নানা প্রাণঘাতী জটিলতা তৈরি করতে পারে। টিকা এসব জটিলতা থেকে সুরক্ষা দেয়।
৩. শিশু ও কিশোরদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ
২ বছরের বেশি বয়সী শিশুদের টাইফয়েডে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেশি। তাই শিশুদের টিকা দিলে তাদের সুস্থভাবে বেড়ে ওঠা নিশ্চিত হয়।
৪. অ্যান্টিবায়োটিক প্রতিরোধী জীবাণু থেকে সুরক্ষা
বর্তমানে টাইফয়েডের অনেক জীবাণু সাধারণ অ্যান্টিবায়োটিকে সাড়া দিচ্ছে না। টিকা নেওয়া থাকলে চিকিৎসা জটিল হয়ে যাওয়ার ঝুঁকি অনেকটা কমে যায়।
৫. সমষ্টিগত সুরক্ষা (Herd Immunity)
একটি সমাজ বা এলাকায় যত বেশি মানুষ টিকা নেয়, তত কম ছড়ায় রোগ। ফলে পুরো সমাজটাই সুরক্ষিত থাকে।
৬. নিরাপদ ও কার্যকর
টাইফয়েড টিকা খুবই নিরাপদ, পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া খুবই সামান্য (হালকা জ্বর, ইনজেকশন স্থানে ব্যথা বা লালচে হওয়া), যা কয়েক দিনের মধ্যে নিজে থেকেই চলে যায়।
কখন টিকা নেওয়া উচিত?
সাধারণত *২ বছর বয়সের পর থেকে টাইফয়েড টিকা দেওয়া যায়।
একবার নেওয়ার পর প্রায় ৩–৫ বছর সুরক্ষা দেয়। এরপর আবার বুস্টার ডোজ দেওয়া যেতে পারে।
যেসব এলাকায় টাইফয়েড বেশি হয় বা যাদের দূষিত পানি ও খাবার খাওয়ার ঝুঁকি বেশি, তাদের অবশ্যই এই টিকা নেওয়া উচিত।
টাইফয়েড টিকা নেওয়া মানে নিজের জীবন, পরিবারের সুরক্ষা এবং সমাজকে নিরাপদ রাখা।