Loading..

উদ্ভাবনের গল্প

রিসেট

২৩ আগস্ট, ২০২৫ ০১:২৭ পূর্বাহ্ণ

শিমুল বাগানকরণ ও বাংলাদেশের উন্নয়ন

# শিমুল বাগানকরণ ও বাংলাদেশের উন্নয়ন।

# শিমুল বাগানকরণ ও তার যত্নশীলতায় এবং সংরক্ষণে  বাংলাদেশের   আর্থিক ও ওষুধে ,পরিবেশ এবং সামাজিক উন্নয়নে ব্যাপক ভূমিকা রাখতে পারে।  


শিমুল বৃক্ষ আজ অবাদ -  আবাদে সরকারি যত্ন ও রক্ষণের অভাবে  বিলুপ্ত হয়ে যাচ্ছে প্রায়। প্রতিষ্ঠান , পরিবেশ , সমাজ , এলাকা ও দেশের মানুষ সচেতন হয়েছেন আমার উদ্ভাবনী চিন্তার হাত ধরে । সুনামগঞ্জের তাহিরপুর উপজেলায় ' আলহাজ জয়নাল আবেদীন শিমুল বাগান' টি নিয়ে সফরের মাধ্যমে আমার  তৈরি ভিডিওচিত্রটি একটা দূর্লভ উদাহরণ  হিসেবে সবাইকে এই বৃক্ষ রোপণের জন্য উৎসাহ বৃদ্ধি করেছে ।  সবাই শিমুল গাছের গুরুত্ব বুঝতে সচেতন হয়েছেন । তারা বাড়িতে একটা করে শিমুল বৃক্ষ রোপণ করেছে্ন  । শিমুল - তুলা , গাছের  উপকারী দিক আলোচনা ও ক্লাসে পাঠকের অনাগ্রহ  পেয়েছিলাম এক সময় । চারা পাওয়া কম যেত । টাকা মেলে তো ছাগলে খেত । আমি কমিটি তৈরি করি একটা লক্ষ্যকে সামনে নিয়ে । রেজিস্টার মেইন্টেইন করি । জী অর্থ লেগেছিলো । বাগান করা ও চারা সংরক্ষণে । প্রথমে পাগল মনে করেছেন সবাই । পরে বিভিন্ন তথ্য ও ভিডিও চিত্র দেখিয়ে  এর গুরুত্ব বুঝাতে সক্ষম হয়েছি । এখন ছাত্র - শিক্ষক - কমিটি সকলে প্রশংসা  করেন ও সহযোগিতা করেন ।  প্রথমে নিজে গাছ লাগিয়েছি , যত্ন নিয়েছি গাছের । তুলা উৎপাদন করেছি । ওষুধ হিসেবে ব্যবহার ও উপকারিতা ব্যাখ্যা করেছি । অর্থ উপার্জন ও দেশের উন্নয়নে ভূমিকা রাখতে পারে তার গুরুত্ব ও সারসংক্ষেপ করে জানান দিয়েছি  সবাইকে । ব্যবহারিক জ্ঞান ও চলমান বৈশ্বিক জলবায়ুর সঙ্গে টিকে থেকে আর্থিক উপকার সাধন করে জীবন-মান উন্নয়ন করতে হলে শিমুল গাছ রোপণ ও তুলা উৎপাদন খুবই জরুরি বলে আমি মনে করি । সারা বাংলাদেশে শিমুল বৃক্ষ রোপণের উদ্যোগ গ্রহণ করতে হবে । এর ওষধি গুণ , ব্যবহার,   সূতি কাপড় বুনন ইত্যাদিতে প্রচার  প্রসার ঘটাতে হবে সর্বস্তরে ।

শিমুল বৃক্ষ এর ইংরেজ নাম - Silk Cotton Tree .  এর বৈগানিক নাম - B.Ceiba . Bombax গণের অন্তর্গত  পাতা ঝরা বৃক্ষ জাতীয় তুলা উৎপাদক উদ্ভিদ এটি । এটি লম্বায় ১৫ -২০ মিটার হতে পারে। 

ওষধিগুণঃ এর ছাল ধুয়ে বেটে ফোঁড়ার উপর প্রলেপ দিলে উপকার হয় । এর নরম মূল বেটে ৭-১০ গ্রাম একটু চিনি মিশিয়ে দুবেলা খেলে পুরুষের শুক্রতারল্য দূর হয়। তুলা ও ছাল ফোঁড়া ও ঘাতে ব্যান্ডেজ ও প্রলেপ দেওয়ার কাজে লাগে। রক্ত আমাশয় রোধে এর ছাল ও ছাগলের দুধ ম্নিশিয়ে খেলে উপকার হয় । এর ছাল ও কচি মূল খেলে কোষ্ঠ্যকাঠিন্য দূর হয় । 

সাংসারিক ব্যবহারেঃ লেপ , তোষক ও বালিশ তৈরিতে  শিমুল তুলার ব্যবহার খুব আরামদায়ক । 

গবাদি পশুর খাদ্যঃ এর ছাল , পাতা ও ফুল গবাদি পশু খায় । 

ইট ভাটার কাজেঃ জ্বালানি  হিসেবে ইট - ভাটার কাজে শিমুল কাঠ  ব্যবহৃত হয় । 

দিয়াশলাইয়ের কাঠি তৈরিতে শিমুল কাঠ খুব দরকারি । 

পরিবেশবাদীদের অভিমত  , " শিমুল গাছ রক্ষায় এখনই ব্যাবস্থা না নিলে এক সময় উপকারী গাছের তালিকা থেকে শিমুল গাছটি হারিয়ে যাবে। ভবিষ্যতের প্রজন্ম হয়তো জানতেও পারবে না বাংলার মাটিতে শিমুল গাছ নামে কোনো গাছ ছিলো।" 

শিমুল গাছ কেটে কাঠ সংগ্রহ , বাসাবাড়ি ও বাণিজ্যিক কাঠামো উন্নয়ন , অগ্নিকাণ্ড ,বাণিজ্যিক বৃক্ষ রোপণ , আগ্রাসী বনায়ন এবং জলবায়ুর পরিবর্তনের কারণে এই জাতীয় বৃক্ষটি আজ হুমকির মুখে । সুতরাং আশু এর প্রতিকার , রোপণ , যত্ন , সংরক্ষণ  এবং এর গুরুত্ব সম্প্রসারণ অতীব জুরুরি হয়ে পড়েছে । 

মন্তব্য করুন