Loading..

প্রেজেন্টেশন

রিসেট

৩১ আগস্ট, ২০২৫ ০৯:৪০ অপরাহ্ণ

একাদশ শ্রেণি – জীববিজ্ঞান ১ম পত্র – অধ্যায় ৩ : কোষ বিভাজন

 প্রশ্ন ১৯: কোষ বিভাজন ও জীবের বৃদ্ধি–এর সম্পর্ক ব্যাখ্যা কর।

উত্তর: জীবের বৃদ্ধি কেবল কোষের আকার বৃদ্ধি দ্বারা ঘটে না, বরং কোষের সংখ্যা বৃদ্ধির মাধ্যমেও ঘটে। মাইটোসিস বিভাজনের ফলে মাতৃকোষ থেকে অভিন্ন দুটি কন্যাকোষ তৈরি হয়। এসব কন্যাকোষ দ্রুত পরিপক্ব হয়ে আবার বিভাজিত হয়, ফলে জীবের টিস্যু ও অঙ্গের আকার বৃদ্ধি পায়। যেমন মানুষের শৈশব থেকে কৈশোরে বৃদ্ধির পেছনে মাইটোসিস বিভাজনই মূল ভূমিকা রাখে।


প্রশ্ন ২০: মিয়োসিসে স্বাধীন সমাবেশ (Independent assortment) কী?

উত্তর: মিয়োসিস–I এর মেটাফেজে সমজাতীয় ক্রোমোজোম জোড়াগুলো কোষের মধ্যরেখায় এলোমেলোভাবে সাজে। ফলে কোন জোড়া কোন পাশে যাবে তা নির্দিষ্ট থাকে না। এই ঘটনাকে স্বাধীন সমাবেশ বলে। এর ফলে নতুন জিনগত বিন্যাস তৈরি হয়, যা বংশগত বৈচিত্র্যের অন্যতম প্রধান উৎস।


প্রশ্ন ২১: মাইটোসিস বিভাজনকে কখনও কখনও "বৃদ্ধির বিভাজন" বলা হয় কেন?

উত্তর: মাইটোসিস বিভাজনের মাধ্যমে দুটি অভিন্ন কন্যাকোষ গঠিত হয়, যেখানে ক্রোমোজোম সংখ্যা অপরিবর্তিত থাকে। এর ফলে জীবদেহে টিস্যুর সংখ্যা বাড়ে, ক্ষত সারায় এবং অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ স্বাভাবিক আকারে বৃদ্ধি পায়। তাই মাইটোসিসকে "বৃদ্ধির বিভাজন" বলা হয়।


প্রশ্ন ২২: মিয়োসিস বিভাজনকে "হ্রাস বিভাজন" বলা হয় কেন?

উত্তর: মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে একটি ডিপ্লয়েড মাতৃকোষ থেকে চারটি হ্যাপ্লয়েড কন্যাকোষ তৈরি হয়। এখানে ক্রোমোজোম সংখ্যা অর্ধেকে নেমে আসে। যেমন মানুষের শরীরের একটি ডিপ্লয়েড কোষে ৪৬টি ক্রোমোজোম থাকলেও মিয়োসিসে উৎপন্ন গ্যামেটে ২৩টি ক্রোমোজোম থাকে। এই কারণে মিয়োসিসকে হ্রাস বিভাজন বলা হয়।


প্রশ্ন ২৩: ক্রসিং ওভারের সময় কী ধরণের পরিবর্তন ঘটে?

উত্তর: মিয়োসিস–I এর প্রোফেজ–I ধাপে সমজাতীয় ক্রোমোজোমগুলো ঘনিষ্ঠভাবে জোড়া বাঁধে। এসময় অযুগ্ম ক্রোমাটিডগুলোর মধ্যে DNA এর অংশবিশেষ অদলবদল হয়। ফলে জিনের নতুন কম্বিনেশন সৃষ্টি হয়। এই প্রক্রিয়াকেই ক্রসিং ওভার বলা হয়। এটি জীবের জিনগত বৈচিত্র্য বৃদ্ধির প্রধান কারণ।


প্রশ্ন ২৪: মাইটোসিস বিভাজন যদি শরীরে বন্ধ হয়ে যায় তবে কী ঘটবে?

উত্তর: যদি মাইটোসিস বিভাজন সম্পূর্ণ বন্ধ হয়ে যায় তবে শরীরের টিস্যু আর বৃদ্ধি পাবে না এবং ক্ষত সারাতে পারবে না। রক্তকণিকা বা ত্বকের কোষগুলোর মতো দ্রুত নষ্ট হয়ে যাওয়া কোষগুলো আর পুনর্নির্মাণ হবে না। ফলে দেহ ক্রমেই দুর্বল হয়ে পড়বে এবং স্বাভাবিক জীবনধারা বজায় রাখা অসম্ভব হয়ে পড়বে।


প্রশ্ন ২৫: ক্যান্সার কীভাবে কোষ বিভাজনের সাথে সম্পর্কিত?

উত্তর: ক্যান্সার হলো অনিয়ন্ত্রিত কোষ বিভাজনের ফল। সাধারণত কোষ বিভাজন একটি সুনির্দিষ্ট চক্রের মাধ্যমে নিয়ন্ত্রিত হয়। কিন্তু যখন জিনগত ত্রুটি বা পরিবেশগত কারণে এই নিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা নষ্ট হয়ে যায় তখন কোষ দ্রুত ও অস্বাভাবিকভাবে বিভক্ত হতে থাকে। এর ফলে টিউমার তৈরি হয় এবং তা ক্যান্সারে রূপ নেয়। 

মন্তব্য করুন