সিনিয়র শিক্ষক
১২ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ১১:৪৬ পূর্বাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ গার্হস্হ্য বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায় দশম
ব্রাহ্মী শাক (বৈজ্ঞানিক নাম Bacopa monnieri) একটি ঔষধি গুণসম্পন্ন জলজ উদ্ভিদ। এটি বাংলায় “নিরবিচ্ছিন্নী”, “জলনাভি” নামেও পরিচিত। পাতাগুলি ছোট, সবুজ, রসালো এবং কাণ্ড গাঢ় সবুজাভ। এটি সাধারণত পানির ধারে, খালে, ডোবা বা ভেজা জমিতে জন্মায়।
উৎপত্তির ইতিহাস: ব্রাহ্মী শাক প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় বহু আগে থেকেই ব্যবহৃত হয়ে আসছে। আয়ুর্বেদে এটিকে “ব্রেইন টনিক” বলা হতো, কারণ এটি স্মৃতিশক্তি ও মস্তিষ্কের ক্ষমতা বাড়ায়। বাংলাদেশ, ভারত ও দক্ষিণ এশিয়ার ভেজা অঞ্চলে এটি বেশি জন্মে।
ধরন:
· লতা জাতীয় শাক।
· আয়তাকার আকৃতির।
· পাতা সাধারণত ৪-৬ মিমি (০.১৬-০.২৪ ইঞ্চি) পুরু।
· কাণ্ড ও পাতা রসালো এবং কোমল।
· পাতাগুলি কাণ্ডের বিপরীতে (opposite) অবস্থান করে।
· ফুল ছোট, বেগুনি-সাদাটে রঙের।
· ফুল অ্যাক্টিনোমরফিক (সব দিক সমান আকৃতির)।
· চার থেকে পাঁচটি পাপড়ি থাকে।
কোথায় ভালো জন্মে?
· ভেজা ও স্যাঁতস্যাঁতে মাটিতে।
· খাল, ডোবা, জলাশয়ের ধারে।
· সামান্য লবণাক্ত পরিবেশেও বাঁচতে পারে।
· বাংলাদেশে উপকূলীয় এলাকা, ময়মনসিংহ, খুলনা, কুমিল্লা ও পাবনা জেলায় বেশি পাওয়া যায়।
বাজারে বিক্রয় পদ্ধতি:
· স্থানীয় বাজারে শাক হিসেবে বিক্রি হয়।
· শুকনো পাতা বা গুঁড়ো আকারে ভেষজ দোকানেও পাওয়া যায়।
আমদানি ও রপ্তানি:
· বাংলাদেশে চাহিদা স্থানীয়ভাবেই পূরণ হয়।
· ভারত, নেপাল ও অন্যান্য দেশে ভেষজ ওষুধ তৈরির জন্য রপ্তানি করা হয়।
খাওয়ার পদ্ধতি:
· ভাজি, ভর্তা ও তরকারি হিসেবে খাওয়া যায়।
· ডিম দিয়ে ভাজি করা হয়
· শুকনো বা গুঁড়ো করে ভেষজ ওষুধ বানানো হয়।
· হারবাল চা হিসেবেও ব্যবহার করা যায়।
· পাতা ও কাণ্ড আয়ুর্বেদিক চিকিৎসায় ব্যবহৃত হয়।
চাষ পদ্ধতি:
জমি নির্বাচন: আর্দ্র বা জলাবদ্ধ জমি ভালো।
রোপণ: কাণ্ডের টুকরা মাটিতে বসালেই গজায়।
সেচ: মাটি সবসময় ভিজে রাখতে হবে।
সার: জৈব সার যথেষ্ট।
ফসল সংগ্রহ: ২-৩ মাস পর থেকে পাতা-কাণ্ড সংগ্রহ করা যায়।
বিভিন্ন রোগ ও যত্ন:
· বিশেষ রোগবালাই তেমন হয় না।
· অতিরিক্ত শুষ্কতায় গাছ শুকিয়ে যায়।
· মাঝে মাঝে শিকড় পচা রোগ হতে পারে, তাই জমি অতিরিক্ত ডোবা হওয়া উচিত নয়।
পুষ্টিগুণ (প্রতি ১০০ গ্রাম):
ক্যালরি: ২০ ক্যালরি
প্রোটিন: ১.৬ গ্রাম
ক্যালসিয়াম: ২১০ মি.গ্রা.
আয়রন: ৩.৪ মি.গ্রা.
ভিটামিন সি: ৩ মি.গ্রা.
বিভিন্ন অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট
উপকারিতা:
১। স্মৃতিশক্তি ও মনোযোগ বাড়ায়।
২। স্নায়ু শান্ত করে ও অনিদ্রা কমায়।
৩। শিশুদের কাশি-কফ কমাতে সাহায্য করে।
৪। বসন্ত রোগে ব্যবহার হয়।
৫। হজমশক্তি উন্নত করে।
সতর্কতা:
১। বেশি খেলে পেট খারাপ হতে পারে।
২। গর্ভবতী ও স্তন্যদানকারী মায়েদের ডাক্তারের পরামর্শ ছাড়া খাওয়া উচিত নয়।
৩। থাইরয়েড সমস্যায় আক্রান্তদের সীমিতভাবে খাওয়া উচিত।
ব্রাহ্মী শাক শুধু খাবার নয়, একটি গুরুত্বপূর্ণ ভেষজ ঔষধি উদ্ভিদ। এটি সহজে জন্মে, পুষ্টিগুণে ভরপুর এবং স্মৃতিশক্তি বৃদ্ধির জন্য বিশেষভাবে পরিচিত। সঠিকভাবে চাষ ও ব্যবহার করলে এটি স্বাস্থ্য ও অর্থনীতির জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখতে পারে।