Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

২৯ সেপ্টেম্বর, ২০২৫ ০৮:৩৬ অপরাহ্ণ

ভিটামিন সি (Vitamin C)

ভিটামিন সি (Vitamin C)

ভিটামিন সি হলো একটি জল দ্রবণীয় ভিটামিন, যা মানুষের দেহে নিজে তৈরি করতে পারে না। ভিটামিন সি-এর রাসায়নিক নাম এসকরবিক এসিড। ভিটামিন সি তাপে নষ্ট হয়ে যায়। ভিটামিন সি স্কার্ভি রোগ প্রতিরোধ করে বলে একে স্কার্ভি প্রতিরোধী ভিটামিন বলে। এটি খাদ্যের মাধ্যমে গ্রহণ করা প্রয়োজন। এটি শক্তিশালী অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট এবং শরীরের নানা গুরুত্বপূর্ণ কাজের জন্য অপরিহার্য।

উৎস:

উদ্ভিজ্জ উৎস (শাক-সবজি ও ফল):

·       আমলকী

·       পেয়ারা

·       আমড়া

·       লেবু

·       টমেটো

·       কমলালেবু

·       তাজা শাকসবজি

·       ধনেপাতা

·       বাঁধাকপি

·       কামরাঙ্গা ইত্যাদি।

প্রাণিজ উৎস:

·       প্রাণিজ উৎসে ভিটামিন সি কম থাকে।

·       মায়ের দুধে ভিটামিন সি বিদ্যমান থাকে।

কার্যকারিতা:

১। রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বজায় রাখে।

২। হাড়ের টিসু গঠন ও পুষ্টি সাধনে সাহায্য করে।

৩। ভিটামিন এ, ই ও বি কমপ্লেক্সের জারণ প্রতিহত করে।

৪। রক্তের লোহিত কণিকা গঠনে সাহায্য করে।

৫। কোলেস্টেরল বিপাকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।

৬। ক্ষতস্থান শুকাতে সাহায্য করে।

৭। লৌহের শোষণ বৃদ্ধি করে।

অভাবের ফল: ভিটামিন-সি এর গুরুতর অভাবে স্কার্ভি রোগ হয়। যে কোনো বয়সেই এই স্কার্ভি রোগ হতে পারে। এই রোগের লক্ষণগুলো হলো-

১। দাঁতের মাড়ি ফুলে উঠে।

২। দাঁতের গোড়া দিয়ে রক্ত পড়ে।

৩। দাঁত পড়ে যায়।

৪। এনিমিয়া দেখা যায় ৷

৫। হাত ও পা-এর গাঁটে ব্যথা হয় ও ফুলে যায় ৷

৬। স্কার্ভিতে দাঁতের মাড়ি ফুলে ওঠে।

৭। সহজে ক্ষত শুকাতে চায় না,ভাঙ্গা হাড় সহজে জোড়া লাগতে চায় না ৷

৮। চামড়ার নিচে রক্তক্ষরণ হয়ে কালচে দাগ হয় ।

৯। সহজেই সর্দি-কাশি হয় এবং বিভিন্ন রোগে আক্রান্ত হয় ।

১০। কার্তিতে চামড়ার পরিবর্তন

প্রতিকার:

১। ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাবার নিয়মিত গ্রহণ: আমলকী, লেবু, পেয়ারা, কমলালেবু, টমেটো, বাঁধাকপি, ধনেপাতা, তাজা শাকসবজি ইত্যাদি।

২। প্রয়োজনে ডাক্তারের পরামর্শে ভিটামিন সি সাপ্লিমেন্ট গ্রহণ।

৩। খাবার যতটা সম্ভব তাজা খাওয়া, কারণ ভিটামিন সি তাপ ও বাতাসে নষ্ট হয়।

ভিটামিন সি হলো একটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জল দ্রবণীয় ভিটামিন, যা আমাদের শরীরের রোগপ্রতিরোধ ক্ষমতা, পুষ্টি শোষণ, হাড় ও দাঁতের স্বাস্থ্য, ক্ষতস্থানের নিরাময় এবং সামগ্রিক সুস্থতার জন্য অপরিহার্য। এটি দেহে নিজে তৈরি করতে পারে না, তাই খাদ্য থেকে যথাযথ পরিমাণে গ্রহণ করা জরুরি। উদ্ভিজ্জ ও প্রাণিজ উৎস থেকে ভিটামিন সি পাওয়া যায়, তবে উদ্ভিজ্জ উৎস যেমন আমলকী, লেবু, পেয়ারা, কমলালেবু, টমেটো, শাকসবজি সবচেয়ে সমৃদ্ধ। ভিটামিন সি’র অভাবে শরীর দুর্বল হয়, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা কমে যায় এবং নানা শারীরিক ও মানসিক সমস্যা দেখা দেয়। অতএব, স্বাস্থ্য রক্ষায় ভিটামিন সি-সমৃদ্ধ খাদ্যকে আমাদের দৈনন্দিন খাবারের অংশ হিসেবে গ্রহণ করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। ভিটামিন সি দেহকে সুস্থ রাখে, রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বৃদ্ধি করে, ক্ষতস্থান শুকায় এবং পুষ্টি শোষণ সহজ করে।

 

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট