Loading..

উদ্ভাবনের গল্প

রিসেট

২২ অক্টোবর, ২০২৫ ০৬:৪৬ পূর্বাহ্ণ

"মায়ের পাঠশালা"

আমার বিদ্যালয়টি গ্রামে। এখানে পুরুষের পাশাপাশি মহিলারাও জমিতে কাজ করে। এবং বাড়িতে সংসারের নানা কাজে তারা ব্যস্ত থাকে। তারা জমিতে ধান লাগানো, পাটের আঁশ ছাড়ানো,  রাস্মতায় মাট কাটা মরিচ ছেড়াসহ নানা কাজে ব্যস্ত থাকে। সন্তানদের বিদ্যালয়ে পাঠিয়েই তারা দায়িত্ব শেষ বলে মনে করে। ১- ২ টা পরিবার সচেতন থাকলেও বাকিরা জীবন যুদ্ধে লড়াই করে বাঁচতে ব্যস্ত সর্বদা। তারা সন্তানের স্বাস্থ্য, পুষ্টি সম্পর্কেও সচেতন নয়। মায়েদের বিদ্যালয়ে ডাকা হলে বলে " আমি তো পড়তে পারিনা, দেখিতো বই নিয়ে বসে থাকে। পড়ে কি না বুঝতে পারিনা" এই কথার মধ্যে একটা চাপা কষ্ট, অসহায়ত্ব ফুটে ওঠে যেন। এই বিষয়টা ভীষণ খারাপ লাগে এবং আমি মায়েদের পড়ালেখা নিয়ে কিছু ভাবি।মায়ের পাঠশালা খুলি। কিন্তু সেখানে এতো খাতা পেন্সিল কিনে দিতে গিয়ে আমি হিমসিম খাই। পরবর্তীতে বিকল্প হিসেবে একেকটা কেন্দ্র তৈরি করি এবং সেখানে ঘরের দেয়াল,(টিন বা মাটি) -এ টিন কেটে রং করে সেটাকে বোর্ড হিসেবে লাগিয়ে দেই। এখন আর খাতার প্রয়োজন হয়না। মায়েরা দেয়ালের বোর্ডে বর্ণ লেখা শিখঋে, নিজেদের নাম লিখতে পারছে। তার সন্তান হয়ে উঠছে তার শিক্ষক। শুক্রবার এবং শনিবার আমি এবং আমার কিছু প্রাক্তন শিক্ষার্থী সেখানে পড়াই। নিজের বাড়িতে,পাড়ায় স্কুল হওয়ায় মায়েরা সংকোচ করছেনা আর পড়তে। 

এতে শিশুর কাছে লেখাপড়া একটি আনন্দ  উৎসবে পরিনত হয়েছে। মা শিখছে, সচেতন হচ্ছে। যা শিশুর শিক্ষা কে বাস্তবায়ন করতে সবথেকে বেশি প্রয়োজন। 

আরো কেন্দ্র তৈরি করা প্রয়োজন।  মায়েদের সচেতন করা সবথেকে বেশি দরকার। কারন একজন মা সন্তানকে কীভাবে পজিটিভ ভাবে মানুষ করবে, সেটা জানা ও জরুরী।

মায়ের পাঠশালার বিশ্বাস করে  Empowering Mother, Enlightening Generation "

মন্তব্য করুন