পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ ১০.০৩.ও ১০.০৪
ক্রিয়া এবং প্রতিক্রিয়া বল হল নিউটনের গতির তৃতীয় সূত্রের মূল ধারণা, যেখানে বলা হয়েছে যে প্রতিটি ক্রিয়ার একটি সমান এবং বিপরীত প্রতিক্রিয়া থাকে। এই বলগুলো সবসময় জোড়ায় জোড়ায় থাকে এবং দুটি ভিন্ন বস্তুর উপর একই সময়ে কাজ করে।
মূল নীতি
- সমান মান ও বিপরীত দিক: যখন একটি বস্তু (A) অন্য একটি বস্তুর (B) উপর বল প্রয়োগ করে (ক্রিয়া বল), তখন দ্বিতীয় বস্তুটিও প্রথম বস্তুটির উপর সমান মানের বল বিপরীত দিকে প্রয়োগ করে (প্রতিক্রিয়া বল)। বল দুটির মান সমান হলেও দিক সম্পূর্ণ বিপরীত হয়।
- ভিন্ন বস্তুর উপর প্রয়োগ: ক্রিয়া ও প্রতিক্রিয়া বল কখনই একই বস্তুর উপর কাজ করে না। এ কারণেই তারা একে অপরকে বাতিল করে দিতে পারে না। ক্রিয়া বল A বস্তুর উপর প্রয়োগ হলে প্রতিক্রিয়া বল B বস্তুর উপর প্রয়োগ হয়।
- সময়কাল: যতক্ষণ ক্রিয়া বল থাকবে, ততক্ষণই প্রতিক্রিয়া বলও বজায় থাকবে।
উদাহরণ
- হাঁটাচলা: হাঁটার সময় আমরা পা দিয়ে মাটিকে পিছনের দিকে ধাক্কা দিই (ক্রিয়া বল), এবং মাটি আমাদের পায়ের উপর সামনের দিকে সমান ও বিপরীতমুখী বল প্রয়োগ করে (প্রতিক্রিয়া বল), যা আমাদের সামনে এগিয়ে যেতে সাহায্য করে।
- রকেট উৎক্ষেপণ: রকেট থেকে নির্গত গ্যাস তীব্র বেগে নিচের দিকে বেরিয়ে আসে (ক্রিয়া বল), এবং এই গ্যাসের বিপরীতমুখী চাপে রকেটটি উপরের দিকে উঠে যায় (প্রতিক্রিয়া বল)।
- সাঁতার কাটা: সাঁতার কাটার সময় একজন সাঁতারু তার হাত ও পা দিয়ে পানিকে পেছনের দিকে ঠেলে দেয় (ক্রিয়া বল), এবং পানি সাঁতারুকে সামনের দিকে ঠেলে দেয় (প্রতিক্রিয়া বল)।
কেন এটি গুরুত্বপূর্ণ
এই নীতিটি আমাদের দৈনন্দিন জীবনের গতিবিধি থেকে শুরু করে রকেট উৎক্ষেপণের মতো জটিল বৈজ্ঞানিক ঘটনা বুঝতে সাহায্য করে। এটি দেখায় যে মহাবিশ্বের সমস্ত বল একটি মিথস্ক্রিয়া বা ইন্টারঅ্যাকশনের অংশ, যেখানে একটিমাত্র বিচ্ছিন্ন বলের অস্তিত্ব অসম্ভব।