পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ ৮.০৮ #
গ্যালভানিক কোষ (Galvanic Cell) হলো এমন একটি তড়িৎ-রাসায়নিক কোষ যা স্বতঃস্ফূর্ত
জারণ-বিজারণ বিক্রিয়ার মাধ্যমে
রাসায়নিক শক্তিকে তড়িৎ শক্তিতে রূপান্তরিত করে। এটি দুটি আলাদা অর্ধ-কোষ নিয়ে গঠিত, যেখানে দুটি ভিন্ন ধাতু বা তড়িৎদ্বার একটি লবণ সেতু (Salt Bridge) বা ছিদ্রযুক্ত পর্দা দিয়ে সংযুক্ত থাকে এবং ইলেকট্রন প্রবাহের মাধ্যমে বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, যা ব্যাটারির মূল ভিত্তি।
গঠন ও কার্যপ্রণালী
- অর্ধ-কোষ (Half-Cells): দুটি আলাদা পাত্র থাকে, প্রতিটিতে একটি করে ধাতু (যেমন জিঙ্ক ও কপার) তাদের নিজ নিজ তড়িৎ বিশ্লেষ্য দ্রবণে (যেমন জিঙ্ক সালফেট ও কপার সালফেট) ডোবানো থাকে।
- অ্যানোড ও ক্যাথোড: যে অর্ধ-কোষে জারণ (Oxidation) ঘটে, সেটি অ্যানোড (ঋণাত্মক) এবং যেখানে বিজারণ (Reduction) ঘটে, সেটি ক্যাথোড (ধনাত্মক)।
- লবণ সেতু (Salt Bridge): এটি উভয় অর্ধ-কোষের মধ্যে আয়ন চলাচলের পথ করে দেয়, কিন্তু দ্রবণগুলোকে মিশ্রিত হতে দেয় না, যা বর্তনী সম্পূর্ণ করে।
- বৈদ্যুতিক সংযোগ: দুটি অর্ধ-কোষকে একটি বাহ্যিক তার দিয়ে যুক্ত করা হয়, যার মধ্য দিয়ে ইলেকট্রন প্রবাহিত হয় এবং বিদ্যুৎ উৎপন্ন হয়, যা বাল্ব জ্বালানো বা অন্য কাজ করার জন্য ব্যবহার করা যায়।
- উদাহরণ: ড্যানিয়েল কোষ (Daniel Cell) একটি পরিচিত গ্যালভানিক কোষ, যেখানে জিঙ্ক ও কপার ব্যবহার করা হয়।
মূল বৈশিষ্ট্য
- রাসায়নিক শক্তি → তড়িৎ শক্তি (Chemical Energy → Electrical Energy)।
- স্বতঃস্ফূর্ত জারণ-বিজারণ বিক্রিয়া ঘটে।
- অ্যানোড ঋণাত্মক এবং ক্যাথোড ধনাত্মক (গ্যালভানিক কোষে)।
- ভোল্টাইক কোষ (Voltaic Cell) নামেও পরিচিত, যা বিজ্ঞানী গ্যালভানি ও ভোল্টা-র নাম অনুসারে।
গ্যালভানিক কোষ আধুনিক ব্যাটারির মূলনীতি, যা আমাদের দৈনন্দিন জীবনে বিদ্যুৎ সরবরাহ করে।