লবণ সেতু (Salt Bridge) হলো তড়িৎ-রাসায়নিক কোষে ব্যবহৃত একটি U-আকৃতির নল, যা দুটি অর্ধকোষের দ্রবণকে আয়ন চলাচলের মাধ্যমে সংযুক্ত করে এবং আয়নিক ভারসাম্য (electroneutrality) বজায় রাখে, ফলে কোষের বিদ্যুৎ উৎপাদন প্রক্রিয়া নিরবচ্ছিন্নভাবে চলতে পারে। এর প্রধান ব্যবহার হলো অর্ধকোষে ধনাত্মক ও ঋণাত্মক আয়নের ভারসাম্য রক্ষা করা, দুটি দ্রবণের সরাসরি মিশ্রণ রোধ করা এবং তড়িৎ বর্তনী সম্পূর্ণ করা।
লবণ সেতুর ব্যবহার ও কাজ
আয়নিক ভারসাম্য রক্ষা (Maintaining Electroneutrality): অ্যানোডে ইলেকট্রন তৈরি হলে ধনাত্মক আয়নের আধিক্য এবং ক্যাথোডে ইলেকট্রন গ্রহণের ফলে ঋণাত্মক আয়নের আধিক্য দেখা দেয়। লবণ সেতু থেকে বিপরীত আয়ন (যেমন K⁺ বা Cl⁻) সরবরাহ করে এই চার্জের ভারসাম্য বজায় রাখে।
দুটি অর্ধকোষের মধ্যে সংযোগ স্থাপন (Connecting Half-Cells): এটি দুটি ভিন্ন অর্ধকোষের দ্রবণের মধ্যে আয়ন চলাচলের পথ তৈরি করে, কিন্তু সরাসরি দ্রবণ দুটিকে মিশতে দেয় না।
তড়িৎ বর্তনী সম্পূর্ণ করা (Completing the Circuit): আয়ন চলাচলের মাধ্যমে এটি বাহ্যিক বর্তনীর ইলেকট্রন প্রবাহের সাথে অভ্যন্তরীণ আয়ন প্রবাহকে যুক্ত করে তড়িৎ বর্তনী সম্পূর্ণ করে, যা বিদ্যুৎ উৎপাদনে সহায়ক।বিক্রিয়া অব্যাহত রাখা (Continuing the Reaction): চার্জের ভারসাম্য না থাকলে বিক্রিয়া বন্ধ হয়ে যেত। লবণ সেতু এই ভারসাম্য বজায় রেখে তড়িৎ-রাসায়নিক বিক্রিয়াকে সচল রাখে।তরল সংযোগ বিভব হ্রাস (Reducing Liquid Junction Potential): এটি দুটি দ্রবণের সংস্পর্শে তৈরি হওয়া বিভব পার্থক্য (liquid junction potential) কমাতে বা দূর করতে সাহায্য করে।
লবণ সেতু তৈরির উপাদান
এটি সাধারণত পটাসিয়াম ক্লোরাইড (KCl), পটাশিয়াম নাইট্রেট (KNO₃) বা অ্যামোনিয়াম নাইট্রেটের (NH₄NO₃) মতো একটি নিষ্ক্রিয় (inert) তড়িৎবিশ্লেষ্য (electrolyte) দ্রবণে ভেজানো জিলাটিন বা অ্যাগার-অ্যাগার দ্বারা তৈরি হয়, যাঅ্যানোডও ক্যাথোড দ্রবণকে মেশানো থেকে বিরত রাখে কিন্তু আয়ন চলাচলে বাধা দেয় না।