পাঠ্য বইয়ের চিত্রঃ পৃষ্ঠা নং- ১২ #
বসত বাড়িতে বৃক্ষরোপণ একটি প্রাচীন ও উপকারী প্রথা, যা বাড়ির সৌন্দর্য বৃদ্ধি, পরিবেশ শীতল রাখা, ফল ও কাঠ জোগান দেওয়া এবং বাস্তুশাস্ত্র অনুযায়ী গৃহশান্তি ও সমৃদ্ধি আনে; এর জন্য বাড়ির দক্ষিণ পাশে ছোট গাছ, পূর্ব-পশ্চিমে মাঝারি ও উত্তর দিকে বড় ও ঘন গাছ লাগানো যেতে পারে, সাথে ফলদ, বনজ ও ঔষধি গাছ যেমন - পেয়ারা, লেবু, নিম, কাঁঠাল, সুপারি ইত্যাদি টব বা সরাসরি মাটিতে রোপণ করা যায়, যা পরিবেশবান্ধব ও স্বাস্থ্যকর জীবনযাপনের জন্য অপরিহার্য।
বৃক্ষরোপণের প্রয়োজনীয়তা ও উপকারিতা
- পরিবেশগত: বসতবাড়ির চারপাশের গাছ পরিবেশ শীতল রাখে, বায়ু দূষণ কমায় এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্য বৃদ্ধি করে।
- অর্থনৈতিক: ফল, কাঠ, ভেষজ ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় সামগ্রী পাওয়া যায়, যা অর্থনৈতিকভাবে সাশ্রয়ী।
- বাস্তুশাস্ত্রীয়: বাড়ির শান্তি ও শ্রীবৃদ্ধির জন্য সঠিক স্থানে গাছ লাগানো গুরুত্বপূর্ণ।
- স্বাস্থ্যগত: টাটকা ফল ও সবজি পাওয়া যায়, এবং মানসিক প্রশান্তি এনে দেয়।
কোন দিকে কোন গাছ লাগাবেন (বাস্তু ও রোদ অনুযায়ী)
- দক্ষিণ দিক: রোদ ও আলোর জন্য ছোট ও কম ঝোপালো গাছ যেমন - পেয়ারা, লেবু, ডালিম, মেহেদি লাগানো ভালো।
- পূর্ব-পশ্চিম দিক: সকাল-সন্ধ্যা আলো পেতে মাঝারি উঁচু ও মাঝারি ঝোপাল গাছ যেমন - পেঁপে, জাম্বুরা ইত্যাদি উপযুক্ত।
- উত্তর দিক: বড় ও ঘন গাছ যেমন - সুপারি, নারকেল, নিম, দেবদারু লাগানো যেতে পারে, যা বসতভিটাকে শীতল রাখতে সাহায্য করে।
রোপণ পদ্ধতি ও পরিচর্যা
- গাছের চারা এমনভাবে রোপণ করতে হবে যেন কান্ড ও শিকড়ের সংযোগস্থল মাটির সমান্তরাল থাকে এবং গোড়ায় পানি না জমে।
- টবে বা ছাদেও বিভিন্ন ফলদ ও ভেষজ গাছ (কমলালেবু, লিচু) লাগানো যায়।
- ফলজ, বনজ ও ঔষধি - এই তিন ধরনের গাছের চারা রোপণের অভ্যাস করা উচিত।
কিছু উপযোগী গাছের উদাহরণ
- ফলদ: আম, জাম, কাঁঠাল, লিচু, পেয়ারা, বরই, লেবু, জাম্বুরা, ডালিম।
- বনজ ও ঔষধি: নিম, সুপারি, নারকেল, দেবদারু, মেহগনি, সেগুন, তুলসী, ঘৃতকুমারী।