পাঙ্গাস মাছ চাষের জন্য একটি উপযুক্ত পুকুর প্রস্তুত করে, উন্নত মানের পোনা মজুদ করে, সুষম ও প্রোটিনযুক্ত খাবার (২৫-৩২% প্রোটিন) নির্দিষ্ট পরিমাণে (ওজনের ৩-৭%) সরবরাহ করতে হয়। সঠিক গভীরতা (৫-৬ ফুট), পানির পিএইচ (৬.৫-৭.৫), পর্যাপ্ত অক্সিজেন, নিয়মিত পরিচর্যা এবং রোগ প্রতিরোধ ব্যবস্থা নিশ্চিত করলে ৬-৮ মাসেই ভালো ফলন পাওয়া যায়।
১. পুকুর প্রস্তুতি ও ব্যবস্থাপনা
জায়গা:
কমপক্ষে ১০ শতাংশ আকারের পুকুর ভালো, গভীরতা ৫-৬ ফুট হলে আদর্শ।
জল:
পরিষ্কার এবং দূষণমুক্ত হতে হবে। পিএইচ মান ৬.৫-৭.৫ থাকা ভালো। অক্সিজেন নিশ্চিত করতে ঝর্ণা বা এয়ারেটর ব্যবহার করা যেতে পারে।
পোনার ঘনত্ব:
প্রতি হেক্টরে ২০,০০০-২৫,০০০ পোনা ছাড়া যায়, তবে ঘনত্ব ঘনত্বে চাষ করলে ভালো ফলন পাওয়া যায়।
২. পোনা মজুদ ও খাদ্য ব্যবস্থাপনা
পোনা:
রোগমুক্ত ও সুস্থ পোনা নির্ভরযোগ্য হ্যাচারি থেকে সংগ্রহ করতে হবে।
খাবার:
পাঙ্গাস সর্বভুক, তাই সুষম ও পুষ্টিকর খাবার (২৫-৩২% প্রোটিন) অপরিহার্য।
খাবারের পরিমাণ:
মাছের বয়স ও ওজনের ওপর নির্ভর করে দৈনিক ৩-৭% হারে খাবার দিতে হবে। বয়স বাড়ার সাথে সাথে খাবারের পরিমাণ কমিয়ে আনতে হবে (যেমন: প্রথম ২ মাস ৭-৮%, পরে ৩-৫%)।
৩. চাষের পদ্ধতি
নার্সারি:
রেণু পোনাকে প্রথমে ছোট পুকুরে বা নার্সারিতে ১-২ মাস রাখা হয় (১০-২০ গ্রাম ওজন পর্যন্ত)।
বড় পুকুর (Grow-out):
এরপর তাদের বড় পুকুরে বা খাঁচায় স্থানান্তর করা হয়। এখানে ৬-৮ মাস চাষ করার পর মাছ প্রায় ১ কেজি ওজনে পৌঁছায়।
সাপ্লিমেন্ট:
ভিটামিন, মিনারেলস, প্রোবায়োটিকস (যেমন: Prozyme) ব্যবহার করলে মাছের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ে।
৪. রোগ প্রতিরোধ ও পরিচর্যা
স্বাস্থ্য:
কঠোর জৈব নিরাপত্তা (Biosecurity) মেনে চলতে হবে, যেমন—খামার পরিষ্কার রাখা ও সরঞ্জাম জীবাণুমুক্ত করা।
পরিচর্যা:
অতিরিক্ত খাবার দেওয়া এড়িয়ে চলতে হবে, যা জল দূষণ করে। নিয়মিত জলের গুণগত মান পরীক্ষা করা জরুরি।
৫. আহরণ (Harvesting)
৬-৮ মাস পর মাছ বাজারজাত করার উপযুক্ত হলে পুকুর আংশিক সেচে বা জাল দিয়ে ধরে আহরণ করা হয়।