সহকারী শিক্ষক
১০ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১২:০৮ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ দশম
বিষয়ঃ বাংলা সহপাঠ
অধ্যায়ঃ নাটক
সৈয়দ ওয়ালীউল্লাহ রচিত ‘বহিপীর’ (১৯৬০) একটি সামাজিক নাটক, যেখানে গ্রামীণ সমাজের কুসংস্কার, অন্ধবিশ্বাস এবং পীরপ্রথার আড়ালে ভণ্ডামিকে তুলে ধরা হয়েছে। নাটকের মূল কাহিনী—জমিদার হাতেম আলি অর্থনৈতিক সংকটে পড়ে জমিদারি হারাচ্ছেন, এমতাবস্থায় বৃদ্ধ বহিপীরের সাথে তরুণী তাহেরার বিয়ে হয়। তাহেরা সেই অসামঞ্জস্যপূর্ণ বিয়ে মেনে না নিয়ে পালিয়ে এসে হাতেম আলির পুত্র হাশেম আলির সাথে নতুন জীবনের পথে পা বাড়ায়।
নাটকের মূল কাহিনীর বিস্তারিত দিকসমূহ:
বহিপীর ও তাহেরার বিয়ে: নাটকের শুরুতে দেখা যায়, বৃদ্ধ বহিপীর জোর করে এক তরুণী তাহেরাকে বিয়ে করেন। কিন্তু তাহেরা এ বিয়ে মেনে নিতে পারে না এবং স্বামীর ঘর থেকে পালিয়ে যায়।
হাতেম আলি ও সংকট: জমিদার হাতেম আলি সুজ্যাস্ত আইনে তার জমিদারি হারাচ্ছেন। চরম অর্থনৈতিক ও মানসিক সংকটে থাকা হাতেম আলি পরিবারসহ বজরা নৌকায় করে অন্যত্র যাচ্ছেন।
তাহেরার আশ্রয়: পালিয়ে আসা তাহেরা ঘটনাক্রমে হাতেম আলির বজরা নৌকায় আশ্রয় নেয়।
হাশেমের সাহচর্য: হাতেম আলির পুত্র হাশেম আলি, যে আধুনিক মনস্ক, সে তাহেরার প্রতি সহানুভূতিশীল হয় এবং তার সাহচর্যে আসে।
পীরপ্রথার ভণ্ডামি: বহিপীর তার অনুসারীদের বাড়িতে ঘুরে বেড়ায় এবং ধর্মীয় ভণ্ডামির মাধ্যমে প্রভাব বিস্তার করে।
কাহিনী মোড়: বহিপীর তাহেরাকে খুঁজতে জমিদার হাতেম আলির কাছে আসে। কিন্তু শেষ পর্যন্ত হাশেম ও তাহেরা কুসংস্কার ও প্রথা ভেঙে নতুন জীবনের সন্ধানে পালিয়ে যায়।
মূলভাব: এ নাটকটি প্রথাগত অন্ধবিশ্বাস থেকে বেরিয়ে এসে মানুষের ব্যক্তিগত ইচ্ছার জয়গান গায়, যেখানে নারী জাগরণ ও যৌক্তিক মানসিকতার ইঙ্গিত রয়েছে।