সহকারী শিক্ষক
২৮ ফেব্রুয়ারি, ২০২৬ ১১:২৩ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
উদ্ভাবনের
গল্প
অনেক দিন আগের কথা। বাংলাদেশ–এর একটি ছোট গ্রামে থাকত রাকিব নামের এক
কৌতূহলী ছেলে। ছোটবেলা থেকেই সে ভাঙা রেডিও, নষ্ট ঘড়ি আর পুরোনো খেলনা খুলে
ভেতরের অংশগুলো দেখত। তার মা বলতেন, “এভাবে জিনিসপত্র নষ্ট কোরো না!”
কিন্তু রাকিবের মাথায় ঘুরত একটাই প্রশ্ন—কীভাবে জিনিস কাজ করে?
এক বছর গ্রামে ভয়াবহ বন্যা হলো। পানি ওঠায় অনেক বাড়ি অন্ধকারে ডুবে গেল।
বিদ্যুৎ ছিল না, মোবাইল চার্জ দেওয়ার উপায়ও ছিল না। তখন রাকিব ভাবল, “যদি
এমন কিছু বানানো যেত, যা বিদ্যুৎ না থাকলেও আলো দেবে!”
সে স্কুলের বিজ্ঞান বই থেকে শক্তির উৎস সম্পর্কে পড়ল। পরে ইন্টারনেট
ক্যাফেতে গিয়ে সৌরশক্তি নিয়ে খোঁজ করল। ছোট একটি সোলার প্যানেল, পুরোনো
ব্যাটারি আর কয়েকটি তার জোগাড় করে সে একটি ছোট সৌর বাতি বানাল। প্রথমে
অনেকবার ব্যর্থ হলো—কখনো আলো জ্বলল না, কখনো ব্যাটারি গরম হয়ে গেল। তবুও সে
হাল ছাড়ল না।
অবশেষে একদিন সন্ধ্যায় তার বানানো বাতি জ্বলে উঠল। ছোট্ট ঘরটি আলোকিত হয়ে
গেল। তার মা আনন্দে কেঁদে ফেললেন। প্রতিবেশীরাও অবাক হলো। পরে রাকিব
গ্রামের আরও কয়েকটি বাড়ির জন্য এমন বাতি তৈরি করল।
রাকিবের এই ছোট উদ্ভাবন শুধু আলোই দেয়নি, দিয়েছে আশা। সে বুঝল—উদ্ভাবন মানে
শুধু নতুন কিছু বানানো নয়; মানুষের সমস্যার সমাধান খুঁজে বের করাই আসল
উদ্ভাবন।
শিক্ষা: কৌতূহল, ধৈর্য আর চেষ্টা থাকলে ছোট মানুষও বড় পরিবর্তন আনতে পারে। ![]()