Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৬ মে, ২০২৬ ০১:৩২ অপরাহ্ণ

বাংলাদেশের ক্ষুদ্র নৃ- গোষ্ঠী (মণিপুরি)

মণিপুরী বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান ও ঐতিহ্যবাহী ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী। তাদের সমৃদ্ধ সংস্কৃতি, দৃষ্টিনন্দন নৃত্য এবং বুনন শিল্প বাংলাদেশের জাতীয় সংস্কৃতিকে বৈচিত্র্যময় করে তুলেছে।

মণিপুরী সম্প্রদায় সম্পর্কে কিছু মূল তথ্য নিচে তুলে ধরা হলো:

১. ভৌগোলিক অবস্থান

মণিপুরীদের প্রধান আবাসস্থল বাংলাদেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় জেলাগুলোতে, বিশেষ করে সিলেট, মৌলভীবাজার, হবিগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জ জেলায়। মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ উপজেলায় তাদের সবচেয়ে বড় অংশ বসবাস করে।

২. গোত্র বিভাজন

মণিপুরী সম্প্রদায় মূলত তিনটি প্রধান উপ-গোত্রে বিভক্ত:

  • মীতৈ (Meitei): এরা বৈষ্ণব হিন্দু ধর্মাবলম্বী।

  • বিষ্ণুপ্রিয়া (Bishnupriya): এদের ভাষাগত বৈশিষ্ট্য কিছুটা আলাদা এবং এরাও বৈষ্ণব।

  • পাঙান (Pangan): এরা ইসলাম ধর্মাবলম্বী (মণিপুরী মুসলিম)।

৩. ভাষা ও লিপি

মণিপুরীদের নিজস্ব ভাষা ও বর্ণমালা রয়েছে। মীতৈ মণিপুরীরা তাদের নিজস্ব লিপি (মীতৈ ময়েক) ব্যবহার করে, তবে অনেক ক্ষেত্রে তারা বাংলা লিপিও ব্যবহার করে।

৪. সংস্কৃতি ও উৎসব

মণিপুরী সংস্কৃতি বিশ্বজুড়ে পরিচিত তার ধ্রুপদী নৃত্য ও উৎসবের জন্য:

  • মণিপুরী নৃত্য: এটি ভারতের এবং দক্ষিণ এশিয়ার অন্যতম প্রধান ধ্রুপদী নৃত্যধারা। রাধাকৃষ্ণের প্রেমলীলা নিয়ে আয়োজিত 'রাস নৃত্য' তাদের সংস্কৃতির সবচেয়ে উজ্জ্বল দিক।

  • রাস উৎসব: প্রতি বছর কার্তিক পূর্ণিমায় মৌলভীবাজারের মাধবপুরে এই উৎসব পালিত হয়, যেখানে হাজার হাজার মানুষ সমবেত হন।

  • লাই হারাওবা: এটি তাদের একটি প্রাচীন উৎসব, যার মাধ্যমে তারা প্রকৃতি ও সৃষ্টিকর্তাকে তুষ্ট করে।

৫. অর্থনীতি ও বুনন শিল্প

মণিপুরীরা অত্যন্ত পরিশ্রমী। তাদের অর্থনীতির একটি বড় অংশ কৃষিনির্ভর। তবে তারা তাদের তাঁত শিল্পের (Manipur Weaving) জন্য বিশেষভাবে বিখ্যাত।

  • মণিপুরী নারীরা ঘরে ঘরে তাঁত বুনে থাকেন।

  • তাদের তৈরি মণিপুরী শাড়ি, চাদর, গামছা ও ব্যাগ সারা বাংলাদেশে অত্যন্ত জনপ্রিয়।

৬. খাদ্যাভ্যাস

তারা মূলত নিরামিষভোজী (বিশেষ করে বৈষ্ণবরা), তবে মাছ তাদের খাদ্যতালিকার অন্যতম উপাদান। তাদের সিদল (এক ধরণের শুঁটকি) এবং বিভিন্ন ধরণের শাকসবজি দিয়ে তৈরি তরকারি বেশ জনপ্রিয়।

মণিপুরী সম্প্রদায় তাদের শান্ত ও সুশৃঙ্খল জীবনধারা এবং সুকুমার শিল্পচর্চার মাধ্যমে বাংলাদেশের বৈচিত্র্যময় জাতিসত্তার এক অবিচ্ছেদ্য অংশ হয়ে আছে।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট