সিনিয়র শিক্ষক
০৯ জুন, ২০২৬ ১১:০৩ পূর্বাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ অষ্টম
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-২
অপটিক্যাল ফাইবার হলো অত্যন্ত সূক্ষ্ম এক ধরনের কাচ তন্তু (Glass Fiber)। এটি মানুষের চুলের মতো চিকন এবং নমনীয় (যাকে সহজে বাঁকানো যায়)। এর মধ্য দিয়ে ডেটা বা তথ্যকে আলোর গতিতে আলোর সংকেত (Light Signal) হিসেবে পাঠানো হয়।
একটি অপটিক্যাল ফাইবার প্রধানত তিনটি অংশ নিয়ে গঠিত: ১. কোর (Core): এটি ভেতরের একদম কেন্দ্রীয় অংশ, যা স্বচ্ছ কাচ বা প্লাস্টিক দিয়ে তৈরি। এর মধ্য দিয়ে মূলত আলো পরিবাহিত হয়। ২. ক্ল্যাডিং (Cladding): কোরের ঠিক বাইরে কাচের আরেকটি স্তর থাকে, একে ক্ল্যাডিং বলে। এর কাজ হলো আলোকে কোরের বাইরে যেতে না দিয়ে প্রতিফলিত করে ভেতরেই রাখা। ৩. জ্যাকেট বা কোটিং (Jacket/Coating): এটি সবার বাইরের প্লাস্টিকের আবরণ, যা ভেতরের কাচকে আঘাত এবং জলবায়ুর হাত থেকে রক্ষা করে।
অপটিক্যাল ফাইবারের ভেতরের সিগন্যাল বা আলো সাধারণ নিয়মে সোজা পথে বের হয়ে যেতে পারে না। এটি পূর্ণ অভ্যন্তরীণ প্রতিফলন (Total Internal Reflection) নামক একটি বৈজ্ঞানিক নীতি মেনে কাজ করে।
ধাপ ১: প্রথমে বৈদ্যুতিক সংকেত বা ডেটাকে (Electric Signal) আলোক সংকেতে (Light Signal) রূপান্তর করা হয়।
ধাপ ২: এই আলো যখন ফাইবারের ভেতরে প্রবেশ করে, তখন তা ভেতরের দেওয়ালে বারবার ধাক্কা খেয়ে (প্রতিফলিত হয়ে) আঁকাবাঁকা পথেও আলোর গতিতে এগিয়ে যায়।
ধাপ ৩: অপর প্রান্তে পৌঁছানোর পর আলোক সংকেতটিকে আবার বৈদ্যুতিক সংকেতে রূপান্তর করে ডিভাইস বা কম্পিউটারে ব্যবহার করা হয়।
তীব্র গতি: আলোর গতিতে ডেটা পারাপার হয় বলে ইন্টারনেটের স্পিড অনেক বেশি পাওয়া যায়।
দূরত্ব: কোনো রকম সিগন্যাল ক্ষয় (Loss) ছাড়াই মাইলের পর মাইল ডেটা পাঠানো যায়।
নিরাপত্তা ও বাধা: তামা বা কপারের তারের মতো এতে কোনো বৈদ্যুতিক চৌম্বকীয় ইন্টারফেয়ারেন্স (EMI) বা বজ্রপাতের প্রভাব পড়ে না।
সাবমেরিন ক্যাবল: সমুদ্রের তলদেশ দিয়ে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ইন্টারনেট সংযোগ দেওয়ার জন্য যে সাবমেরিন ক্যাবল ব্যবহার করা হয়, তা মূলত হাজার হাজার অপটিক্যাল ফাইবারের সমষ্টি।
সহজ কথায় মনে রাখার টিপস: সাধারণ তারের ভেতর দিয়ে যায় বিদ্যুৎ (ইলেকট্রন), আর অপটিক্যাল ফাইবারের ভেতর দিয়ে যায় আলো (ফোটন)। যেহেতু আলোর গতি পৃথিবীর সবচেয়ে বেশি, তাই অপটিক্যাল ফাইবারের গতিও সবচেয়ে বেশি।