সিনিয়র শিক্ষক
২৬ জুন, ২০২৬ ০৪:০২ অপরাহ্ণ
সিনিয়র শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ সপ্তম
বিষয়ঃ বিজ্ঞান
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-২
উদ্ভিদ কোষের গঠন অত্যন্ত সুশৃঙ্খল। উদ্ভিদ কোষের প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো এর বাইরে একটি শক্ত কোষপ্রাচীর থাকে, যা প্রাণিকোষে দেখা যায় না। নিচে উদ্ভিদ কোষের প্রধান অংশগুলোর কাজসহ বিস্তারিত আলোচনা করা হলো:
১. কোষপ্রাচীর (Cell Wall)
এটি উদ্ভিদ কোষের সবচেয়ে বাইরের জড় ও শক্ত আবরণ। এটি সেলুলোজ দিয়ে তৈরি।
কাজ: কোষকে নির্দিষ্ট আকৃতি প্রদান করে এবং বাইরের আঘাত থেকে কোষের ভেতরের অংশকে রক্ষা করে।
২. কোষঝিল্লি (Cell Membrane)
কোষপ্রাচীরের ঠিক নিচে অবস্থিত পাতলা ও নমনীয় পর্দা। এটি লিপিড ও প্রোটিন দিয়ে তৈরি।
কাজ: কোষের ভেতরে ও বাইরে প্রয়োজনীয় বস্তুর চলাচল নিয়ন্ত্রণ করে।
৩. সাইটোপ্লাজম (Cytoplasm)
কোষঝিল্লির ভেতরের জেলির মতো অংশ। কোষের সব অঙ্গাণু এর মধ্যেই অবস্থান করে।
৪. নিউক্লিয়াস (Nucleus)
কোষের প্রাণকেন্দ্র বা মস্তিষ্ক। এটি কোষের সব কার্যকলাপ নিয়ন্ত্রণ করে। এর প্রধান অংশগুলো হলো নিউক্লিয়ার মেমব্রেন, নিউক্লিওপ্লাজম, নিউক্লিওলাস এবং ক্রোমাটিন তন্তু।
৫. প্লাস্টিড (Plastid)
উদ্ভিদ কোষের একটি প্রধান বৈশিষ্ট্য হলো প্লাস্টিড। এটি তিন ধরণের হতে পারে:
ক্লোরোপ্লাস্ট: সবুজ রঙের প্লাস্টিড, যা সালোকসংশ্লেষণ প্রক্রিয়ায় খাদ্য তৈরিতে সাহায্য করে।
ক্রোমোপ্লাস্ট: সবুজ ছাড়া অন্যান্য রঙিন প্লাস্টিড (যেমন—ফুলের পাপড়ি ও ফলের রঙের জন্য দায়ী)।
লিউকোপ্লাস্ট: বর্ণহীন প্লাস্টিড, যা খাদ্য সঞ্চয় করে।
৬. কোষগহ্বর (Vacuole)
উদ্ভিদ কোষে সাধারণত একটি বড় ও সুস্পষ্ট কোষগহ্বর থাকে। এটি কোষের কেন্দ্রস্থলে বা একপাশে বড় জায়গা দখল করে থাকে।
কাজ: কোষের রস ও বর্জ্য পদার্থ জমা রাখে এবং কোষের স্ফীতি বজায় রাখে।
৭. মাইটোকন্ড্রিয়া (Mitochondria)
একে কোষের 'শক্তির আধার' বা পাওয়ার হাউস বলা হয়।
কাজ: শসন প্রক্রিয়ায় শক্তি উৎপাদন করে।
৮. এন্ডোপ্লাজমিক রেটিকুলাম (Endoplasmic Reticulum)
কোষের ভেতর জালের মতো বিস্তৃত অঙ্গাণু।
কাজ: কোষের ভেতরে বিভিন্ন পদার্থ চলাচলে সাহায্য করে এবং প্রোটিন পরিবহনে ভূমিকা রাখে।