হযরত উমর ইবনুল খাত্তাব (রা.) ছিলেন ইসলামের দ্বিতীয় খলিফা এবং রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর অন্যতম প্রধান সাহাবি। ৫৮৩ খ্রিষ্টাব্দে মক্কার কুরাইশ বংশে জন্ম নেওয়া এই মহান ব্যক্তিত্ব তাঁর দৃঢ়তা, ন্যায়বিচার ও প্রশাসনিক দক্ষতার জন্য ইতিহাসে 'ফারুক' (সত্য ও মিথ্যার পার্থক্যকারী) এবং 'আমিরুল মুমিনিন' উপাধিতে ভূষিত হন। [1, 2, 3]
ইসলামপূর্ব জীবন ও ইসলাম গ্রহণ: যৌবনের শুরুতে তিনি আরবের অন্যতম শ্রেষ্ঠ কুস্তিগির ও বাগ্মী ছিলেন এবং অল্প কয়েকজন শিক্ষিত কুরাইশের মধ্যে তিনি একজন ছিলেন। প্রথম জীবনে তিনি ইসলামের ঘোর বিরোধী ছিলেন। কিন্তু ৬১৬ খ্রিষ্টাব্দে পবিত্র কুরআনুল কারিমের সুরা ত্বা-হা পাঠ করে তাঁর হৃদয় বিগলিত হয় এবং তিনি ৩৩ বছর বয়সে ইসলাম ধর্ম গ্রহণ করেন। [1, 2, 3, 4]
খিলাফত ও শাসনকাল (৬৩৪–৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দ): হযরত আবু বকর (রা.)-এর ইন্তেকালের পর ৬৩৪ খ্রিষ্টাব্দে তিনি খলিফার দায়িত্ব গ্রহণ করেন। তাঁর দশ বছরের শাসনামলে ইসলামী সাম্রাজ্য পারস্য ও বাইজেন্টাইন সাম্রাজ্যের বিশাল অঞ্চল জুড়ে অভাবনীয়ভাবে বিস্তার লাভ করে। তাঁর শাসনামলের অনন্য কিছু কীর্তি হলো: [1, 2, 3]
হিজরি সন প্রবর্তন: রাসুল (সা.)-এর মক্কা থেকে মদিনায় হিজরতের ঘটনাকে কেন্দ্র করে হিজরি সন চালু করেন। [1, 2, 3]
বিচার ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা: শাসনকার্যের সুবিধার্থে সাম্রাজ্যকে বিভিন্ন প্রদেশে বিভক্ত করেন এবং স্বাধীন বিচারব্যবস্থা প্রতিষ্ঠার জন্য প্রথম 'কাজি' (বিচারক) নিয়োগ দেন। [1, 2]
জনকল্যাণমূলক পদক্ষেপ: দরিদ্র ও সাধারণ মানুষের খবরাখবর রাখার জন্য রাত্রিকালীন পাহারা দেওয়া এবং নাগরিকদের জন্য সরকারি ভাতা বা তালিকা (দিওয়ান) প্রণয়নের ব্যবস্থা করেন। [1, 2, 3]
মৃত্যু ও উত্তরাধিকার: ৬৪৪ খ্রিষ্টাব্দে এক পার্সিয়ান ক্রীতদাসের (আবু লুলুয়া) ছুরিকাঘাতে তিনি মারাত্মকভাবে আহত হন এবং এর তিন দিন পর শাহাদাত বরণ করেন। মৃত্যুর আগে তিনি পরবর্তী খলিফা নির্বাচনের জন্য ছয় সদস্যের একটি পরামর্শক কমিটি গঠন করে যান। [1, 2, 3]
সাহাবিদের মধ্যে হযরত উমর (রা.)-এর মর্যাদা ছিল অত্যন্ত উচ্চ। মহানবী (সা.) তাঁর সম্পর্কে বলেছিলেন, "তোমাদের পূর্ববর্তী উম্মতগণের মধ্যে ইলহামপ্রাপ্ত ব্যক্তিবর্গ ছিলেন। আমার উম্মতের মধ্যে যদি এমন কেউ থাকে, তবে সে নিশ্চয় উমর।"