সহকারী শিক্ষক
০৫ জুলাই, ২০২৬ ০১:৪০ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
বিরক্তিকর এক শারীরিক যন্ত্রণা নিয়ে প্রফুল্ল মনে চেয়ারে বসে আছেন বনি সাহেব। কাচের ঘরে ঠান্ডা বাতাসও যেন এখানে থাকা মানুষের বিরক্তিভাব কাটাতে পারছে না। কেউ বিরক্ত শারীরিক যন্ত্রণায়, কেউ বিরক্ত অপেক্ষায় আর অজানা ভয়ে। গত কয়েকদিন ধরেই বনি সাহেবের শরীরটা ভালো যাচ্ছে না। ছেলে-মেয়ে বলা যায় প্রায় জোর করে ডাক্তারের কাছে নিয়ে এলো। এদেশের নামকরা ডাক্তারের সিরিয়াল সময়মতো পাওয়া, আর লটারি লাগা এক-ই কথা। তারপর তো আবার রয়েছে সময়ের অপেক্ষা। ইদানিং মনে হয় আমরা যত বড় হই তত সময় জ্ঞান কমে যায়। বিশেষ করে গুরুত্বপূর্ণ পেশার লোকদের ক্ষেত্রে এইটি বেশি দেখা যায়। এই যেমন পাঁচটায় ডাক্তার আসার কথা কিন্তু এখন ঘড়িতে সাতটা বাজে ডাক্তারের খবর নেই। ছেলেটার আবার আট টায় একটা ক্লাস আছে। ৮ টার আগে বাসায় যাওয়াটা দরকার।কিন্তু দুর্জয় যে কেন এত দেরি করছে??? ডাক্তারের দরজায় বসা লোকটাকে যেই জিগাসা করছে ডাক্তার কখন আসবেন, লোকটা সমানে বলে যাচ্ছে আর ৫ মিনিট। তার ঘড়িতে মনে হয় ৫ মিনিট পাড় হচ্ছে না। দুর্জয় মানে ডাক্তার দুর্জয় হলো বনি সাহেবের ছাত্র। এইজন্যই টিকেট সহজে পাওয়া গেছে। এর আগেও ২/১ বার এসেছিলেন তার কাছে।এইজন্য টিকেট ম্যান তাকে চিনে। স্কুল জীবনের দুজয় ছিল খুব গাধা টাইপের ছাত্র। কি ভাবছেন গাধা হলে এত ভালো ডাক্তার হলো কিভাবে?? নকল-টকল করে না তো আবার.....!!! আরে না, না....আমার মতে পরিশ্রমই ছাত্র হওয়া জরুরী।সাধারণ ছাত্রদের মেধাবীদের মত কিছু অর্জন করতে হয় অবশ্যই গাধার মত খাটতে হয়। দুর্জয় ছিল গাধার মত পরিশ্রমী।নিজের লক্ষ্যে পরিশ্রমের মাধ্যমে অর্জন করেছে। এখনো তো নিজের পেশার জন্য গাধার মত পরিশ্রম করে যাচ্ছে।বেচারা এত পরিশ্রম করে আজ সময় জ্ঞান শূন্য। এসব কথা ভাবতে ভাবতে ছেলের মুখের দিকে তাকালেন। ছেলের মনটা অস্থির হয়ে আছে ক্লাসের জন্য নাকি বাবার জন্য বুঝতে পারছেন না। হঠাৎ করে কাচের দরজা ঠেলে ঘরে ঢুকলো তিনটা ছেলে। এসেই টিকেট ম্যানের সাথে কথা বললো। ছেলেগুলোর মুখে বিষাদের ছাপ। ইতিমধ্যে আরো দুজনের প্রবেশ হলো। তাদের মাঝে এক দুই জন একে অন্যের সাথে হাত মিলালো..তারা একজন আরেকজনের সাথে কথা বলার মাঝে বারবার মোবাইল দেখল।একজন বলে উঠলো এখনই নিয়ে আসবো। টিকেট ম্যান তাদের ইঙ্গিতে বাইরে যেতে বললো। ছোট্ট ঘরে ধারণ ক্ষমতার বাইরে মানুষ উপস্থিত। বিষয়টা কি বুঝার জন্য গনি সাহেব বাহিরে উকি দিলেন। দেখেন প্রায় একই বয়সী অনেকজন ছেলে মেয়ে বাইরে দাঁড়ানো। দুইটা ছেলে একজনকে ধরাধরি করে রুমে এনে বসিয়ে পাশে দুজন দাঁড়িয়ে রইল। বাকিরা সবাই বাইরে দাঁড়ানো।আগন্তুক প্রায় উনার বয়সী।উনি তাদের বলছেন আমি এখন ভালো আছি, চল বাসায় যাই। তারা বলছে একবার ডাক্তার দেখিয়ে যাই, চলে এসেছি যখন। বিষয়টা কি বুঝার জন্য উনি আস্তে করে তাদের সাথে কথা বললেন।
👴কি হয়েছে
👨হঠাৎ করে অসুস্থ হয়েছেন। ক্লাস করাচ্ছিলেন হঠাৎ করে পড়ে গেলেন। তাই আমরা সবাই মিলে স্যারকে নিয়ে ডাক্তারের কাছে চলে আসলাম।
👴উনার বাসায় কেউ আসেননি
🧑🦱খবর দিয়েছি ওনারা আসছেন। উনাদের জন্য তো আর আমরা অপেক্ষা করতে পারি না। দেরি হলে যদি স্যারের কিছু হয়ে যায়।
হঠাৎ করে বাইরে গুঞ্জন শুরু হল। দুর্জয় চলে এসেছে। বাইরে থাকা ছাত্ররা তাকে ঘিরে ধরেছে। আগে তাদের স্যারকে দেখার জন্য অনুরোধ করতে লাগলো। দুর্জয় রুমে যাওয়ার আগে ওয়েটিং রুমে এসে ভদ্রলোককে দেখল। রোগী দেখে ছাত্রদেরকে কি করনীয় বলে আর প্রেসক্রিপশন লিখে দিল। দুর্জয়ের চোখ বনি সাহেবের দিকে পড়তেই সালাম দিল। বনি সাহেব ছেলে মেয়েদের মুখগুলোর দিকে একবার তাকালেন। তারা হয়তো সম্ভ্রান্ত নয় তবে সমৃদ্ধ। চিন্তার মাঝে বাধা দিয়ে টিকেট ম্যান বনি সাহেব কে ভিতরে যেতে অনুরোধ করলো।
অনেকক্ষণ ধরে বসে থাকা অসুস্থ শরীরটাকে টেনে তুলতে তুলতে নিজের মনেই একটা প্রশ্ন এলো "সার্থকতাটা আসলে কি?? "
🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼🌼