সহকারী শিক্ষক
০৫ জুলাই, ২০২৬ ১১:০৭ অপরাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ চারুপাঠ
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১১ (কবিতা)
সত্যেন্দ্রনাথ দত্তের 'মানুষ জাতি' কবিতাটি বাংলা সাহিত্যের একটি অনন্য এবং অত্যন্ত শক্তিশালী সাম্যবাদী কবিতা। কবি এই কবিতায় জাতি, ধর্ম, বর্ণ ও গোত্রের ভেদাভেদ ভুলে পৃথিবীর সব মানুষকে এক অভিন্ন 'মানুষ জাতি' হিসেবে তুলে ধরেছেন।
এখানে পুরো কবিতাটি আপনার জন্য তুলে ধরা হলো:
— সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত
জগত জুড়িয়া এক জাতি আছে, সে জাতির নাম মানুষ জাতি; একই পৃথিবীর স্তন্যে লালিত, একই রবি-শশী মোদের সাথী।
সীতাতপ-ক্ষুধা-তৃষ্ণার জ্বালা সবাই আমরা সমানে বুঝি, কচি কাঁচাগুলি ডাটো করে তুলি, বাঁচিবার তরে সমান যুঝি।
দোসর খুঁজি ও বাসর বাঁধি গো, জলে ডুবি, বাঁচি পাইলে ডাঙা, কালো আর ধলো বাহিরে কেবল, ভিতরে সবারই সমান রাঙা।
বাহিরের ছোপ আঁচড়ে সে লোপ, ভিতরের রঙ পলকে ফোটে, বামুন-শূদ্র, বৃহৎ-ক্ষুদ্র, কৃত্রিম ভেদ ধুলায় লোটে।
বংশে বংশে নাহি ক তফাত, বনেদি কে আর গর-বনেদি, দুনিয়ার সাথে গাঁথা বুনিয়াদ, দুনিয়া সবারই জনম-বেদী।
কবি এই কবিতায় অসাম্প্রদায়িকতা ও মানবতাবাদের এক জয়গান গেয়েছেন। তাঁর মূল বক্তব্যগুলো হলো:
একই পৃথিবীর সন্তান: পৃথিবীর সব মানুষ একই সূর্যের আলো, চাঁদের জোছনা এবং প্রকৃতির আলো-বাতাসে বড় হচ্ছে। তাই আমাদের সবার মূল পরিচয় আমরা মানুষ।
ভেতরের রক্ত এক: মানুষের গায়ের চামড়া বাইরে থেকে কালো বা ফর্সা হতে পারে, কিন্তু একটু আঁচড় লাগলেই দেখা যায় ভেতরের রক্তের রঙ সবারই সমান লাল।
কৃত্রিম ভেদাভেদ মিথ্যা: সমাজ যে জাত-পাত, ধনী-দরিদ্র, বামুন-শূদ্র বা বংশমর্যাদার কৃত্রিম প্রাচীর তৈরি করেছে, তা আসলে অর্থহীন। মৃত্যুর মুখোমুখি দাঁড়িয়ে বা প্রকৃতির নিয়মের কাছে এই সব কৃত্রিম ভেদ ধুলায় মিশে যায়।
সহজ কথায়, কবি বলতে চেয়েছেন যে— জন্মসূত্রে এই পৃথিবী যেমন সবার জন্য সমান, তেমনি মানুষ হিসেবে আমাদের অধিকার এবং মর্যাদাও অভিন্ন।