Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

০৫ জুলাই, ২০২৬ ১১:১৩ অপরাহ্ণ

আসমানী — জসীমউদ্দীন

পল্লীকবি জসীমউদ্দীন তাঁর এই কবিতায় গ্রামের এক অত্যন্ত দরিদ্র ও অভাবী মেয়ে 'আশমানী'-র জীবনের বাস্তব ও করুণ চিত্র খুব নিখুঁতভাবে তুলে ধরেছেন। নিচে পুরো কবিতাটি আপনার জন্য দেওয়া হলো:

আসমানী

জসীমউদ্দীন

আশমানীরে দেখতে যদি তোমরা সবে চাও, রহিমদ্দির ছোট্ট বাড়ি রসুলপুরে যাও। বাড়ি তো নয় পাখির বাসা ভেন্না পাতার ছানি, একটুখানি বৃষ্টি হলেই গড়িয়ে পড়ে পানি। একটুখানি হাওয়া দিলেই ঘর নড়বড় করে, তারই তলে আশমানীরা থাকে বছর ভরে।

পেটটি ভরে পায় না খেতে, বুকের কঙ্কাল, সাক্ষী দেছে অনাহারে কহেছে কোন কাল। মিষ্টি তাহার মুখটি হতে হাসির প্রদীপ রাশি, থাপড়েতে নিভিয়ে গেছে দারুণ অভাব আসি। পরনে তার শতেক তালি, শতেক ছেঁড়া বাস, সোনালি তার গায়ের বরণ করছে উপহাস।

ভোমর-কালো চোখ দুটিতে নাইকো হাসি-লেশ, তায় হতে উথলে পড়ে অশ্রু-বারো মাস। বাঁশীর মতো সুরটি গলায় ক্ষীয়ণ হয়ে আসে, জুড়িয়া গেছে কান্না তাহার দীর্ঘ দিনের গাসে।

আশমানীদের বাড়ির ধারে পদ্ম-পুকুর ভরে, ব্যাঙের ছানা শ্যাওলা-পানা কিল-বিল-বিল করে। ম্যালেরিয়ার মশক সেথা বিষ গুলিয়েছে জলে, সেই জলেতে ভাত রাঁধে তার আশমানী যে চলে।

বৈদ্য ডেকে ওষুধ খাবে, পয়সা নাহি আর, জসীমউদ্দীন হাসছে বসে দেখছে চমৎকার!*

(পাদটীকা: কবিতার শেষ লাইনটি অনেক সময় সাধারণ পাঠে কিছুটা পরিবর্তিত রূপেও দেখা যায়, তবে জসীমউদ্দীনের মূল ভাবনায় এটি আশমানীর জীবনের চরম অসহায়ত্ব ও সমাজের উদাসীনতাকেই নির্দেশ করে।)

কবিতার মূলভাব:

কবি জসীমউদ্দীন এই কবিতায় গ্রামীণ দরিদ্র মানুষের দুঃখ-দুর্দশার এক জীবন্ত দলিল ফুটিয়ে তুলেছেন। আশমানীর থাকার জন্য ভালো ঘর নেই— একটু বৃষ্টি বা বাতাসেই তা ভেঙে পড়তে চায়। তার পরনে ছেঁড়া কাপড়, পেটে খাবার নেই, এবং অভাবের কারণে তার মুখের স্বাভাবিক হাসি ও চোখের আনন্দ হারিয়ে গেছে। এমনকি যে পুকুরের দূষিত জল ব্যবহার করে সে অসুস্থ হয়ে পড়ছে, সেই চিকিৎসার সামর্থ্যও তার নেই। কবিতাটি আমাদের সমাজের সুবিধাবঞ্চিত মানুষের প্রতি সহানুভূতিশীল হতে শেখায়।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট