সহকারী শিক্ষক
০৬ জুলাই, ২০২৬ ০৫:৫৯ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ চারুপাঠ
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১৫ (কবিতা)
কবি শামসুর রাহমানের 'বাঁচতে দাও' কবিতাটি একটি অসাধারণ মানবতাবাদী এবং প্রকৃতিপ্রেমী কবিতা। এই কবিতায় কবি শিশু, কিশোর এবং প্রকৃতির স্বাভাবিক বিকাশ ও বেঁচে থাকার অধিকারের কথা অত্যন্ত সহজ ও আকুল ভাষায় তুলে ধরেছেন।
— শামসুর রাহমান
এই তো রে ভাই সূর্যমুখী সবুজ ঘাসের বুকে, উঠতে দাও নীল আকাশে প্রজাপতি সুখে।
কুঁড়িগুলোকে ফুটতে দাও মিষ্টি মধুর ভোরে, খাঁচার ভেতর বন্দি পাখি ডানা মেলুক জোরে।
রঙিন মেঘের ভেলা ওই যে ভাসছে নদীর জলে, কাজল বিলে পানকৌড়িকে ডুব দিতে দাও ছলে।
ছোট্ট খোকা, ছোট্ট খুকি খেলছে ধুলোবালি, ওদের মুখে হাসির প্রদীপ জ্বলুক খালি খালি।
ফুলবাগানটি হাসুক সদাই সুবাস ছড়িয়ে চারু, ঘাসের ওপর চরতে দাও ওই ছোট্ট সোনা গোরু।
নদীকে তার আপন বেগে বইতে দাও ভাই, বাঁচতে দাও, বাঁচতে দাও সবাইকে বাঁচতে দাও।
কবি এই কবিতায় চারপাশের প্রকৃতি এবং মানবজীবনের এক সুন্দর, স্বাধীন ও স্বাভাবিক পরিবেশের দাবি জানিয়েছেন।
প্রকৃতির স্বাধীনতা: প্রজাপতি যেন আকাশে মনের সুখে উড়তে পারে, কুঁড়ি যেন ফুল হয়ে ফুটতে পারে, নদী যেন তার আপন গতিতে বইতে পারে এবং বিলের পানকৌড়ি যেন স্বাধীনভাবে ডুব দিতে পারে— কবি সেই আহ্বান জানিয়েছেন।
শিশুর অধিকার: কবি চান না কোনো শিশু বা পাখি খাঁচায় বা কৃত্রিম গণ্ডির মধ্যে বন্দি থাকুক। শিশুরা যেন ধুলোবালি মেখে, হেসে-খেলে তাদের শৈশবকে মনের মতো করে উপভোগ করতে পারে।
সহজ কথায়, কবি বলতে চেয়েছেন যে— সুন্দরভাবে বেঁচে থাকার অধিকার শুধু মানুষের একার নয়, প্রকৃতির প্রতিটি উপাদান ও পশুপাখিরও আছে। সবাইকে তার নিজের মতো করে বাঁচতে দিলেই এই পৃথিবীটা সুন্দর ও সার্থক হয়ে উঠবে।