সহকারী শিক্ষক
০৬ জুলাই, ২০২৬ ০৬:০১ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ চারুপাঠ
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১৮ (কবিতা)
কবি আল মাহমুদের 'পাখির কাছে ফুলের কাছে' কবিতাটি বাংলা শিশুসাহিত্যের একটি অতুলনীয় এবং অত্যন্ত জনপ্রিয় কবিতা। এই কবিতায় কবি রাতের প্রকৃতির এক মায়াবী ও জাদুকরী রূপ তুলে ধরেছেন, যেখানে মানুষের সঙ্গে প্রকৃতির পশুপাখি, ফুল ও নদীর এক অদ্ভুত মিতালি গড়ে ওঠে।
— আল মাহমুদ
নারকেলের ঐ লম্বা মাথায় হঠাৎ দেখি কাল, ডাবের মতো চাঁদটা উঠেছে ঠাণ্ডা ও গোলগাল। ছিটকিনিটা আস্তে খুলে পেরিয়ে গেলাম ঘর, ঝিমধরা এই মস্ত শহর কাঁপছিল থরথর।
মিনারটাকে দেখছিলাম যেন এক মস্ত গাজীর কাল, দরগাতলা পার হয়ে যেই মোড় ফিরেছি লাল— কোত্থেকে এক উটকো পাহাড় ডাক দিল আয় আয়, পাহাড়টাকে হাত বুলিয়ে লালদিঘিটার পার, এগিয়ে দেখি জোনাকিদের বসেছে দরবার।
আমায় দেখে কলকলিয়ে দিঘির কালো জল, বলল, এসো, পকেট থেকে খোল তোমার খাতা, রক্তজবার ঝোপের কাছে কাব্য হবে আজ, দীঘির কথায় ফুল পাখিরা হাসল খিলখিল, বলল, কবি পকেট থেকে খোলো ছড়ার বই, পাখির কাছে ফুলের কাছে মনের কথা কই।
এই কবিতায় কবি আল মাহমুদ প্রকৃতির সঙ্গে মানুষের এক নিবিড় ও আত্মিক সম্পর্কের কথা বলেছেন।
রাতের প্রকৃতির জাদুকরী রূপ: রাতের নিস্তব্ধতায় ডাবের মতো গোল ও ঠাণ্ডা চাঁদ ওঠা, মস্ত শহরের থমথমে ভাব, মিনার আর লালদিঘির চারপাশের পরিবেশ কবিকে ঘরের বাইরে টেনে আনে।
প্রকৃতির সঙ্গে কবির মিতালি: কবির চোখে পাহাড়, জোনাকি, আর লালদিঘির জল যেন জীবন্ত হয়ে ওঠে। দিঘির জল কবিকে আহ্বান জানায় তার পকেট থেকে খাতা খুলে কবিতা লিখতে।
মনের কথা প্রকাশ: ফুল আর পাখিরা কবিকে তাদের একজন মনে করে এবং কবিও তার মনের সব জমানো কথা, আনন্দ ও অনুভূতি মানুষের কাছে না বলে প্রকৃতির এই নিঃস্বার্থ উপাদান— অর্থাৎ পাখির কাছে আর ফুলের কাছেই প্রকাশ করতে ভালোবাসেন।
সহজ কথায়, কবিতাটি আমাদের শেখায় কীভাবে প্রকৃতির মাঝে হারিয়ে গিয়ে মনের শান্তি খুঁজে পাওয়া যায় এবং কেন প্রকৃতিই একজন কবির সবচেয়ে বড় বন্ধু।