প্রভাষক
১০ জুলাই, ২০২৬ ১২:০৪ পূর্বাহ্ণ
প্রভাষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ একাদশ
বিষয়ঃ জীববিজ্ঞান ১ম পত্র
অধ্যায়ঃ সপ্তম অধ্যায়: নগ্নবীজী ও আবৃতবীজী উদ্ভিদ
Pteris-এর সোরাস (Sorus): গঠন, বৈশিষ্ট্য ও গুরুত্ব
Pteris হলো Pteridaceae গোত্রভুক্ত একটি সুপরিচিত ফার্ন। এটি একটি ভাস্কুলার ক্রিপ্টোগ্যাম (Vascular Cryptogam), যা ফুল, ফল ও বীজ উৎপন্ন করে না; বরং স্পোর (Spore) এর মাধ্যমে বংশবিস্তার করে। Pteris-এর পাতার নিচের পৃষ্ঠে অবস্থিত সোরাস (Sorus) হলো এর প্রজননের প্রধান অঙ্গ। সোরাসে অসংখ্য স্পোরাঞ্জিয়াম থাকে, যেখানে স্পোর উৎপন্ন হয়।
সোরাস (Sorus) কী?
সোরাস (Sorus) হলো ফার্নজাতীয় উদ্ভিদের পাতার (Sporophyll) নিচের পৃষ্ঠে অবস্থিত স্পোরাঞ্জিয়ামের (Sporangium) গুচ্ছ। প্রতিটি সোরাসে অনেকগুলো স্পোরাঞ্জিয়াম একত্রে অবস্থান করে এবং এখানেই মিয়োসিসের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড স্পোর উৎপন্ন হয়।
Pteris-এর সোরাসের অবস্থান
Pteris-এর পাতার নিম্নপৃষ্ঠে, বিশেষ করে পত্রখণ্ডের (Pinnae) কিনারা বরাবর সোরাস সারিবদ্ধভাবে অবস্থান করে।
বৈশিষ্ট্য
পাতার নিচের পৃষ্ঠে থাকে।
পত্রখণ্ডের কিনারা বরাবর দীর্ঘরেখার মতো বিস্তৃত।
সাধারণত দুই পাশে সমান্তরালভাবে অবস্থান করে।
সোরাসগুলো পরিণত হলে গাঢ় বাদামী বা কালচে বর্ণ ধারণ করে।
Pteris-এর সোরাসের গঠন
১. স্পোরাঞ্জিয়াম (Sporangium)
প্রতিটি সোরাসে অসংখ্য স্পোরাঞ্জিয়াম থাকে।
স্পোরাঞ্জিয়াম ডাঁটিযুক্ত (Stalked)।
প্রতিটি স্পোরাঞ্জিয়ামে সাধারণত ৬৪টি হ্যাপ্লয়েড স্পোর উৎপন্ন হয়।
২. অ্যানুলাস (Annulus)
স্পোরাঞ্জিয়ামের এক পাশে ঘোড়ার নালের মতো পুরু কোষের সারি থাকে, যাকে অ্যানুলাস বলে।
এটি স্পোর বিস্তারে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।
৩. স্টোমিয়াম (Stomium)
অ্যানুলাসের বিপরীত দিকে পাতলা কোষবিশিষ্ট অংশকে স্টোমিয়াম বলা হয়।
পরিণত অবস্থায় এই অংশ ফেটে স্পোর বাইরে বেরিয়ে আসে।
৪. মিথ্যা আবরণী (False Indusium)
Pteris-এ প্রকৃত ইন্ডুসিয়াম (True Indusium) অনুপস্থিত।
পাতার কিনারা ভাঁজ হয়ে সোরাসকে ঢেকে রাখে, একে False Indusium বলা হয়।
এটি অপরিণত স্পোরাঞ্জিয়ামকে রক্ষা করে।
সোরাসে স্পোর উৎপাদন
স্পোরাঞ্জিয়ামের ভেতরে স্পোর মাতৃকোষ (Spore Mother Cell) মিয়োসিস বিভাজনের মাধ্যমে হ্যাপ্লয়েড স্পোর সৃষ্টি করে।
পরবর্তীতে—
স্পোর পরিণত হয়।
অ্যানুলাস শুকিয়ে সংকুচিত হয়।
স্টোমিয়াম ফেটে যায়।
স্পোর বাতাসের মাধ্যমে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
স্পোর বিস্তারের প্রক্রিয়া
Pteris-এর স্পোর বিস্তার একটি চমৎকার অভিযোজন।
ধাপগুলো হলো—
স্পোরাঞ্জিয়াম পরিপক্ব হয়।
অ্যানুলাসের কোষ থেকে পানি বাষ্পীভূত হয়।
অ্যানুলাস সংকুচিত হয়ে টান সৃষ্টি করে।
স্টোমিয়াম ফেটে যায়।
হঠাৎ অ্যানুলাস আগের অবস্থায় ফিরে আসে।
স্পোর অনেক দূর পর্যন্ত ছিটকে যায়।
এই প্রক্রিয়াকে Hygroscopic Mechanism বলা হয়।
সোরাসের কাজ
Pteris-এর সোরাসের প্রধান কাজগুলো হলো—
স্পোর উৎপাদন।
স্পোরাঞ্জিয়ামকে একত্রে ধারণ করা।
স্পোর পরিপক্ব হওয়া পর্যন্ত সুরক্ষা প্রদান।
বংশবিস্তারে সহায়তা করা।
প্রজাতির ধারাবাহিকতা বজায় রাখা।
Pteris-এর সোরাসের বৈশিষ্ট্য
পাতার নিচের পৃষ্ঠে অবস্থিত।
পত্রখণ্ডের কিনারা বরাবর দীর্ঘরেখাকার।
অসংখ্য লেপ্টোস্পোরাঞ্জিয়াম নিয়ে গঠিত।
প্রকৃত ইন্ডুসিয়াম নেই।
False Indusium দ্বারা আবৃত।
প্রতিটি স্পোরাঞ্জিয়ামে সাধারণত ৬৪টি স্পোর থাকে।
অ্যানুলাস ও স্টোমিয়াম সুস্পষ্ট।
বায়ুর মাধ্যমে স্পোর বিস্তার ঘটে।
জীববৈজ্ঞানিক গুরুত্ব
Pteris-এর সোরাস উদ্ভিদের জীবনচক্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
এটি স্পোরোফাইট প্রজন্মের প্রজনন অঙ্গ।
মিয়োসিসের মাধ্যমে জিনগত বৈচিত্র্য সৃষ্টি করে।
নতুন গ্যামেটোফাইট (Prothallus) উৎপন্ন করে।
প্রাকৃতিক পরিবেশে ফার্নের বিস্তারে সহায়তা করে।
উদ্ভিদের বিবর্তন ও শ্রেণিবিন্যাসে গুরুত্বপূর্ণ বৈশিষ্ট্য হিসেবে ব্যবহৃত হয়।
উপসংহার
Pteris-এর সোরাস হলো ফার্নের স্পোর উৎপাদনকারী বিশেষ প্রজনন অঙ্গ, যা পাতার নিম্নপৃষ্ঠে পত্রখণ্ডের কিনারা বরাবর দীর্ঘরেখাকারভাবে অবস্থান করে। এর মধ্যে অসংখ্য স্পোরাঞ্জিয়াম থাকে, যেখানে মিয়োসিসের মাধ্যমে স্পোর সৃষ্টি হয়। অ্যানুলাস ও স্টোমিয়ামের সমন্বিত কার্যক্রমের মাধ্যমে স্পোর বায়ুতে ছড়িয়ে পড়ে এবং নতুন প্রজন্মের সূচনা করে। তাই Pteris-এর সোরাস ফার্নের জীবনচক্র, বংশবিস্তার এবং উদ্ভিদ বিবর্তন বোঝার ক্ষেত্রে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি গঠন।
মোঃ উসমান গনি
প্রভাষক (জীববিজ্ঞান)
মুসলিম বালিকা উচ্চ বিদ্যালয় ও কলেজ, ময়মনসিংহ