সহকারী শিক্ষক
১০ জুলাই, ২০২৬ ০৮:২৩ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ সপ্তম
বিষয়ঃ সপ্তবর্না বাংলা
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-৫ (গদ্য)
পিতৃপুরুষের গল্প' প্রখ্যাত কথাসাহিত্যিক ও সাংবাদিক হারুন হাবীবের লেখা কিশোরদের উপযোগী একটি চমৎকার ও দেশপ্রেমমূলক গল্প। গল্পটিতে এক কিশোরের চোখে বাংলাদেশের গৌরবময় মুক্তিসংগ্রাম এবং তার আগের ইতিহাসকে অত্যন্ত সহজ ও সাবলীল ভাষায় তুলে ধরা হয়েছে।
নিচে গল্পটির মূলভাব ও সংক্ষিপ্ত বিষয়বস্তু আলোচনা করা হলো:
গল্পের মূল চরিত্র অন্তু নামের এক ছোট ছেলে। সে ঢাকায় থাকে, কিন্তু তার মনে তার মামা এবং দেশের ইতিহাস নিয়ে প্রচণ্ড কৌতূহল। অন্তুর মামা কাজল মামা ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র ছিলেন এবং ১৯৭১ সালে সরাসরি মুক্তিযুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন। কাজল মামা ঢাকায় খুব একটা আসেন না, গ্রামের বাড়িতেই থাকেন। কিন্তু যখনই আসেন, অন্তুর সাথে তার এক দারুণ সখ্য গড়ে ওঠে।
অন্তু তার মামার মুখ থেকে মুক্তিযুদ্ধের গল্প শোনার জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করে। একবার ফেব্রুয়ারি মাসে কাজল মামা ঢাকায় আসেন। তখন মামা অন্তুকে সাথে নিয়ে ঢাকার বিভিন্ন ঐতিহাসিক জায়গায় ঘুরতে বের হন, যার মধ্যে অন্যতম ছিল শহীদ মিনার।
রাস্তায় হাঁটতে হাঁটতে কাজল মামা অন্তুকে বাংলাদেশের ইতিহাস সম্পর্কে নানা তথ্য দেন। তিনি কেবল ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের কথাই বলেননি, বরং তারও পেছনের ইতিহাস—১৯৫২ সালের ভাষা আন্দোলন এবং তারও আগে এই অঞ্চলের মানুষের অধিকার আদায়ের সংগ্রামের কথা জানান।
মামা অন্তুকে বোঝান যে, যারা দেশের জন্য, দেশের মানুষের অধিকারের জন্য জীবন দিয়েছেন বা সংগ্রাম করেছেন, তাঁরাই আমাদের পিতৃপুরুষ। এই পিতৃপুরুষদের ঋণ কখনো শোধ করা যাবে না, তবে তাঁদেরকে মনে রাখা এবং তাঁদের আদর্শকে বুকে ধারণ করাই প্রতিটি নাগরিকের দায়িত্ব। শহীদ মিনারে গিয়ে অন্তু যখন ভাষা শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানায়, তখন তার ভেতরে এক গভীর দেশপ্রেম ও জাতীয়তাবোধ জেগে ওঠে।
ইতিহাসের প্রতি শ্রদ্ধা: গল্পটি নতুন প্রজন্মকে নিজেদের সঠিক ইতিহাস, ভাষা আন্দোলন এবং মুক্তিযুদ্ধ সম্পর্কে জানতে অনুপ্রাণিত করে।
পিতৃপুরুষদের অবদান: আমাদের আজকের স্বাধীন বাংলাদেশ এবং বাংলা ভাষার পেছনে যে পূর্বপুরুষদের রক্ত ও ত্যাগ জড়িয়ে আছে, সেই সত্যটি গল্পে খুব সহজভাবে ফুটিয়ে তোলা হয়েছে।
দেশপ্রেম জাগ্রত করা: অন্তু চরিত্রটির মাধ্যমে লেখিকা দেখিয়েছেন কীভাবে বড়দের সান্নিধ্যে এবং সঠিক নির্দেশনায় তরুণ মনে গভীর দেশপ্রেম ও বীর শহীদদের প্রতি শ্রদ্ধা গড়ে উঠতে পারে।
হারুন হাবীব নিজে একজন বীর মুক্তিযোদ্ধা হওয়ায় তাঁর লেখায় মুক্তিযুদ্ধের চেতনা ও সেই সময়ের আবেগ খুব নিখুঁতভাবে প্রকাশ পেয়েছে।