সহকারী শিক্ষক
১০ জুলাই, ২০২৬ ০৮:৪০ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ সপ্তম
বিষয়ঃ সপ্তবর্না বাংলা
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১২ (কবিতা)
'শ্রাবণে' সুকুমার রায়ের লেখা একটি অত্যন্ত চমৎকার, ছন্দোময় এবং প্রাণবন্ত প্রকৃতিবিষয়ক কবিতা। এটি তাঁর বিখ্যাত 'খাই-খাই' ছড়ার বইয়ের অন্তর্ভুক্ত। এই কবিতায় কবি বর্ষাকালের অবিরাম বৃষ্টি এবং তার ফলে প্রকৃতিতে যে অদ্ভুত ও আমুদে পরিবর্তন আসে, তা অত্যন্ত নিখুঁত ও চমৎকার ভাষায় ফুটিয়ে তুলেছেন।
নিচে কবিতাটির মূলভাব ও প্রধান দিকগুলো সহজভাবে আলোচনা করা হলো:
কবিতাটির মূল বিষয় হলো শ্রাবণ মাসের একটানা বৃষ্টি। কবি বর্ষার এই রূপকে কোনো বিষণ্ণতা বা কষ্টের চোখ দিয়ে দেখেননি, বরং একে প্রকৃতির এক মহোৎসব হিসেবে দেখিয়েছেন।
আকাশের অন্তহীন জলধারা: শ্রাবণের আকাশে মেঘের যেন আর শেষ নেই। দিন-রাত ধরে অবিরাম ধারায় বৃষ্টি ঝরেই চলেছে। কবি একে তুলনা করেছেন এমন একটি ছাদের সাথে, যেখান থেকে একটানা জল টুপটুপ করে ঝরছে।
প্রকৃতির স্নান ও সজীবতা: এই একটানা বৃষ্টিতে ঝরনা, নদী, মাঠ-ঘাট সবকিছু জলে ভেসে যায়। ধুলোবালিতে মলিন হয়ে থাকা গাছপালা, বন-জঙ্গল যেন প্রাণ ফিরে পায়। প্রকৃতির সমস্ত গাছপালা এই বৃষ্টিতে স্নান করে এক্কেবারে সতেজ ও সবুজ হয়ে ওঠে।
জলের রাজত্ব: চারদিকে শুধু জলের গান। নদীর জল তার পাড় উপচে দুকূল ভাসিয়ে দেয়। মাঠের পর মাঠ জলে ডুবে একাকার হয়ে যায়। কোথাও কোনো সীমানা বোঝা যায় না, যেন পুরো পৃথিবীটাই একটা জলের চাদরে ঢাকা পড়ে গেছে।
ছন্দের জাদু: সুকুমার রায়ের লেখার অন্যতম বড় শক্তি হলো তাঁর ছন্দের দোলা। 'শ্রাবণে' কবিতাটি পড়ার সময় মনে হয় যেন বৃষ্টির রিনিঝিনি শব্দ কানের কাছে বেজে উঠছে। শব্দের চমৎকার ব্যবহারে বর্ষার ঝমঝম শব্দ জীবন্ত হয়ে উঠেছে।
প্রকৃতির পুনর্জন্ম: গ্রীষ্মের তীব্র দাবদাহে প্রকৃতি যখন শুকিয়ে রুক্ষ হয়ে যায়, তখন শ্রাবণের এই বৃষ্টি এসে পৃথিবীকে শীতল করে। এই কবিতাটি মূলত প্রকৃতির সেই প্রাণ ফিরে পাওয়ার আনন্দকেই উদযাপন করে।
"জল পড়ে জল পড়ে খ্যাপা হাওয়া বয়, নদীনালা ঘোলাজল আর নাহি সয়। উথলিয়া ওঠে নদী দিক-বিদিক জ্ঞান, মাঠঘাট জলে ভেসে করে একাকার।"
(সংস্করণভেদে মূল কবিতার শুরুর লাইনগুলো এমন হয়: "জল পড়ে জল পড়ে সারাদিন রাত, / অফুরান নামতায় বাদলের গাথ।")
মূল শিক্ষা: বর্ষা বা শ্রাবণের বৃষ্টি কেবল কাদা বা প্রতিবন্ধকতা তৈরি করে না, বরং এটি আমাদের প্রকৃতিকে ধুয়ে-মুছে সাফ করে, নতুন প্রাণের সঞ্চার করে এবং পৃথিবীকে সবুজ ও সুন্দর করে তোলে