সহকারী শিক্ষক
১০ জুলাই, ২০২৬ ০৮:৪৫ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ সপ্তম
বিষয়ঃ সপ্তবর্না বাংলা
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১৩ (কবিতা)
এটি প্রখ্যাত কবি ও সাংবাদিক সিকান্দার আবু জাফরের লেখা একটি অত্যন্ত শক্তিশালী, দেশপ্রেমমূলক এবং আবেগময় কবিতা—'গরবিনী মা জননী'
এই কবিতায় কবি 'মা জননী' বলতে আমাদের প্রিয় জন্মভূমি বাংলাদেশকে বুঝিয়েছেন। পরাধীনতার শৃঙ্খল মুক্ত করতে এবং দেশের মান-সম্মান রক্ষা করতে বাংলার বীর সন্তানেরা যেভাবে ত্যাগ স্বীকার করেছে, তারই এক অনন্য চিত্র এখানে ফুটে উঠেছে।
নিচে কবিতাটির মূলভাব ও প্রধান দিকগুলো সহজভাবে আলোচনা করা হলো:
কবিতার নাম 'গরবিনী' হলেও এই মা একই সাথে অত্যন্ত দুঃখী এবং কষ্টের মুখোমুখি হওয়া এক জননী। কবি দেখিয়েছেন, আমাদের এই দেশমাতৃকা যুগে যুগে অনেক অত্যাচার, শোষণ এবং কষ্ট সহ্য করেছেন। তাঁর চোখ ফেটে জল পড়েছে, তাঁর আঁচল সবসময় চেনা-অচেনা শত্রুদের কারণে ধুলোয় মলিন হয়েছে। কিন্তু এত কষ্টের পরেও মা অত্যন্ত অহংকারী এবং গরবিনী (গর্বিত)। কেন? কারণ তাঁর কোলে জন্ম নিয়েছে এমন সব বীর সন্তানেরা, যারা মায়ের অপমান কখনো সহ্য করে না।
বীর সন্তানদের ত্যাগ: বাংলার মাটিতে এমন সব সাহসী যুবকেরা জন্ম নিয়েছে, যারা দেশের জন্য নিজের জীবন বাজি রাখতে এক সেকেন্ডও দ্বিধা করে না। যখনই মায়ের ওপর কোনো আঘাত এসেছে, তারা বুক চিতিয়ে দাঁড়িয়েছে। কবি তাদের 'দুঃসাহসী' এবং 'দুর্বার' বলে আখ্যায়িত করেছেন।
প্রকৃতি ও মানুষের মেলবন্ধন: এই জননীর কোলে যেমন রয়েছে অফুরন্ত প্রাকৃতিক সৌন্দর্য—নদী, মাঠ, পাখির গান; তেমনি রয়েছে সাধারণ মেহনতি মানুষের কোলাহল। কামার, কুমার, জেলে, চাষী—সবাই মিলে এই মায়ের সংসার আগলে রাখে।
শত্রুর বিরুদ্ধে প্রতিরোধ: কবি মনে করিয়ে দিয়েছেন যে, বাংলাকে যারা দুর্বল ভেবেছিল, তারা ভুল করেছে। এই দেশের শান্ত ছেলেরা প্রয়োজনে যেমন হাড়ভাঙা খাটুনি খাটতে পারে, তেমনি অন্যায় আর শোষণের বিরুদ্ধে মরনপণ লড়াইও করতে পারে (যা আমরা ১৯৫২ বা ১৯৭১-এর ইতিহাসে দেখেছি)।
"ওগো মা জননী তোমার, তোমার আঁচলখানি বুকের মানিক দিয়ে ঘেরা, মরমে তোমার হাজার ব্যথা, চোখে তোমার অশ্রুধারা।"
(মূল কবিতার মূল সুরটি ধরে রাখা হয়েছে: "কারো চরণে হয় না নত / তোমার মস্তক ওগো জননী...")
'গরবিনী মা জননী' কবিতার মূল শিক্ষা হলো—দেশপ্রেম এবং নিজের মাতৃভূমির প্রতি সর্বোচ্চ শ্রদ্ধা রাখা। আমাদের দেশ হয়তো অর্থনৈতিকভাবে বা অন্য কোনো দিক থেকে অনেক কষ্টের মধ্য দিয়ে গেছে, কিন্তু এর ইতিহাস ও এর মানুষেরা অত্যন্ত বীরত্বপূর্ণ। নিজের দেশের এই গৌরবময় দিকটাকে বুকে ধারণ করাই প্রতিটি সন্তানের দায়িত্ব।