সহকারী শিক্ষক
১০ জুলাই, ২০২৬ ০৮:৪৯ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ সপ্তম
বিষয়ঃ সপ্তবর্না বাংলা
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১৫ (কবিতা)
'মেলা' প্রখ্যাত কবি আহসান হাবীবের লেখা একটি অত্যন্ত চমৎকার, চমৎকার ছন্দের এবং গভীর ভাবার্থপূর্ণ শিশুতোষ কবিতা। এটি মূলত আমাদের চারপাশের প্রকৃতি, আকাশ, পৃথিবীর মানুষ এবং তাদের মধ্যকার একতার এক অপূর্ব রূপক চিত্র।
নিচে কবিতাটির মূলভাব ও প্রধান দিকগুলো সহজভাবে আলোচনা করা হলো:
সাধারণত 'মেলা' বলতে আমরা বুঝি যেখানে অনেক মানুষ একসাথে জড়ো হয়, কেনাবেচা চলে এবং আনন্দ উৎসব হয়। কিন্তু কবি আহসান হাবীব এই কবিতায় এক অন্যরকম মেলার কথা বলেছেন—তা হলো প্রকৃতির মেলা।
পাখির ও ফুলের মেলা: কবি দেখিয়েছেন, বনের মধ্যে যখন হাজারো পাখি একসাথে কিচিরমিচির গান গায়, তখন যেন সেখানে একটা 'পাখির মেলা' বসে। আবার গাছে গাছে যখন হরেক রকমের রঙিন ফুল ফোটে, তখন চারপাশ জুড়ে তৈরি হয় 'ফুলের মেলা'।
আকাশের মেলা: রাতের আকাশে যখন কোটি কোটি তারা একসাথে জ্বলজ্বল করে হাসে, তখন নীল আকাশটা হয়ে ওঠে 'তারার মেলা'। আর দিনের বেলা চঞ্চলা বাতাস চারদিকে বয়ে চলে, যাকে কবি বলেছেন 'বাতাসের মেলা'।
প্রকৃতির এই সুন্দর মেলার বর্ণনা দেওয়ার পর কবি কবিতার আসল ও গভীর ভাবটি ফুটিয়ে তুলেছেন। কবি বলেছেন, এই পুরো পৃথিবীটা আসলে একটা মেলা, আর সেই মেলার সবচেয়ে সুন্দর অংশ হলো পৃথিবীর সব শিশুরা।
জাতি, ধর্ম, বর্ণ বা দেশ নির্বিশেষে পৃথিবীর সব শিশুরাই এক। তারা যেন এক বাগানের বিভিন্ন রঙের ফুল। তাদের মনের মধ্যে কোনো হিংসা, বিদ্বেষ বা ভেদাভেদ থাকে না। শিশুরা যখন একসাথে হাত ধরাধরি করে হাসে, খেলে আর ভালোবাসার বন্ধন তৈরি করে, তখন এই পৃথিবীটা এক পরম শান্তিময় ও সুন্দর মেলায় পরিণত হয়।
"ফুলের মেলা, পাখির মেলা, চাঁদের মেলা ভাই, এই মেলাতে এই জগতে আনন্দের শেষ নাই।"
"সব মিলে এই এক মেলাতে জুড়ছে জীবন সুখে, একটু হাসির আলো ছড়িয়ে সবার কচি মুখে।"
'মেলা' কবিতার মূল শিক্ষা হলো—একতা, সমতা ও বিশ্বভ্রাতৃত্ব। প্রকৃতির সব উপাদান যেমন একসাথে মিলেমিশে এক সুন্দর পরিবেশ তৈরি করে, তেমনি পৃথিবীর সব মানুষ (বিশেষ করে শিশুরা) যদি হিংসা-বিদ্বেষ ভুলে একসাথে মিলেমিশে থাকে, তবে এই পৃথিবী থেকে সব যুদ্ধ ও অশান্তি দূর হয়ে যাবে। সারা পৃথিবীটাই তখন ভালোবাসার এক অন্তহীন মেলা হয়ে উঠবে।