সহকারী শিক্ষক
১০ জুলাই, ২০২৬ ০৮:৫১ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ সপ্তম
বিষয়ঃ সপ্তবর্না বাংলা
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-১৫ (কবিতা)
'এই অক্ষরে' আধুনিক বাংলা সাহিত্যের অন্যতম জনপ্রিয় ও রোমান্টিক কবি মহাদেব সাহার লেখা একটি অত্যন্ত আবেগঘন, দেশপ্রেমমূলক এবং গভীর মমতায় ভরা ভাষা-বিষয়ক কবিতা। এই কবিতায় কবি বাংলা অক্ষরের প্রতি তাঁর গভীর ভালোবাসা, শ্রদ্ধা এবং আত্মিক টান প্রকাশ করেছেন।
নিচে কবিতাটির মূলভাব ও প্রধান দিকগুলো সহজভাবে আলোচনা করা হলো:
কবির কাছে বাংলা ভাষার প্রতিটি অক্ষর (অ, আ, ক, খ) কেবল কতগুলো লেখার চিহ্ন বা বর্ণ নয়; এগুলো যেন এক একটি জীবন্ত সত্তা, যাঁর সাথে কবির অস্তিত্বের গভীর সম্পর্ক জড়িয়ে আছে।
মায়ের রূপ ও সান্ত্বনা: কবি বাংলা অক্ষরগুলোর দিকে তাকালে তাঁর নিজের মায়ের মুখ দেখতে পান। মায়ের কোল যেমন সন্তানকে সমস্ত দুঃখ-কষ্ট থেকে আগলে রাখে এবং পরম শান্তি দেয়, বাংলা অক্ষরগুলোও কবিকে ঠিক তেমনি এক মানসিক শান্তি ও আশ্রয় দেয়। মনের যেকোনো ব্যাকুলতা বা কষ্টে এই অক্ষরগুলো কবিকে সান্ত্বনা জানায়।
প্রকৃতির মেলবন্ধন: বাংলা অক্ষরের মাঝে কবি খুঁজে পান বাঙালির চিরন্তন রূপ এবং রূপসী বাংলার প্রকৃতিকে। এতে যেন লুকিয়ে আছে নদীর কলতান, পাখির গান, সবুজ মাঠ আর চেনা মেঠোপথের গন্ধ। অক্ষরগুলো যেন কবির চোখে আমাদের চেনা উঠোন আর চেনা আকাশকে ফুটিয়ে তোলে।
অস্তিত্বের পরিচয়: এই অক্ষরগুলোই আমাদের বাঙালি হিসেবে পরিচয় দেয়। কবি মনে করেন, এই অক্ষরের মধ্যেই লুকিয়ে আছে আমাদের আনন্দ, বেদনা, স্বপ্ন এবং বেঁচে থাকার আসল শক্তি।
ভাষার প্রতি গভীর মমত্ববোধ: সাধারণত আমরা মাতৃভাষাকে ভালোবাসি, কিন্তু মহাদেব সাহা এই কবিতায় ভাষার বাহন অর্থাৎ 'অক্ষর' বা 'বর্ণ'কে যে অনন্য ভালোবাসায় জড়িয়েছেন, তা সত্যিই অতুলনীয়।
সাংস্কৃতিক চেতনা: কবিতাটি আমাদের মনে করিয়ে দেয় যে, বাংলা ভাষা ও তার এই অক্ষরগুলো আমাদের কত বড় এক অহংকার ও সম্পদ। এর পেছনে জড়িয়ে আছে আমাদের পূর্বপুরুষদের আবেগ ও ঐতিহ্য।
"এই অক্ষরে সাজানো সব মনের যত আশা, এই অক্ষরেই লুকিয়ে আছে মায়ের ভালোবাসা।"
(কবিতার মূল ভাবটি হলো: "এই অক্ষরে ডাকলে মা-কে মনে শান্তি পাই, / এই অক্ষরের চেয়ে আপন আমার কিছু নাই।")
'এই অক্ষরে' কবিতার মূল শিক্ষা হলো—নিজের মাতৃভাষা ও বর্ণমালার প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও ভালোবাসা রাখা। যে ভাষা ও অক্ষরে আমরা মনের ভাব প্রকাশ করি, স্বপ্ন দেখি এবং মা-কে ডাকতে পারি, তার চেয়ে মধুর ও পবিত্র আর কিছুই হতে পারে না। নিজের ভাষার এই রূপ ও ঐতিহ্যকে মনে রাখাই প্রতিটি বাঙালির দায়িত্ব।