Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১০ জুলাই, ২০২৬ ০৮:৫৩ পূর্বাহ্ণ

কবি হাসান রোবায়েতের 'সিঁথি'

 কবি হাসান রোবায়েতের 'সিঁথি' কবিতাটি। হাসান রোবায়েত বাংলাদেশের বর্তমান সময়ের (বিশেষ করে শূন্য দশকের) একজন অন্যতম প্রধান এবং অত্যন্ত শক্তিশালী তরুণ কবি। তাঁর কবিতায় এক ধরণের মরমী ভাব, স্মৃতিকাতরতা এবং গ্রামীণ ও নাগরিক জীবনের এক অপূর্ব মেলবন্ধন দেখা যায়।

'সিঁথি' কবিতাটির মূলভাব ও এর ভেতরের গভীর অনুভূতিগুলো নিচে সহজভাবে আলোচনা করা হলো:

১. কবিতার মূল বিষয়বস্তু ও ভাবার্থ

'সিঁথি' শব্দটির সাধারণ অর্থ হলো চুলের মাঝখানের ভাগ বা সিঁথিমূল, যা ঐতিহ্যগতভাবে বাঙালি নারীর রূপ ওতপ্রোতভাবে জড়িয়ে রাখে। তবে হাসান রোবায়েতের কবিতায় 'সিঁথি' কেবল একটি দৈহিক সৌন্দর্য বা রূপের অংশ নয়; এটি হয়ে উঠেছে একটি রেখা, পথ এবং দূরত্বের প্রতীক

  • প্রেম ও দূরত্বের টান: কবিতায় 'সিঁথি' যেন দুটি হৃদয়ের মাঝখানের এক সূক্ষ্ম অথচ স্পষ্ট বিভাজন রেখা। কবি এখানে ভালোবাসার মানুষের প্রতি এক তীব্র টান যেমন দেখিয়েছেন, তেমনি তার সাথে তৈরি হওয়া এক অদৃশ্য দূরত্বের বেদনাকেও ফুটিয়ে তুলেছেন।

  • স্মৃতি ও একাকীত্ব: সিঁথি কেটে চুল বাঁধার মতো অতি সাধারণ এক ঘরোয়া দৃশ্যের মধ্য দিয়ে কবি মানুষের মনের ভেতরের গভীর একাকীত্ব, অপেক্ষা এবং পুরানো স্মৃতির ক্যানভাসকে তুলে এনেছেন।

  • উপমার জাদুকরিতা: হাসান রোবায়েতের লেখার একটি বড় বৈশিষ্ট্য হলো তাঁর একদম নতুন ধরণের উপমা ও রূপকের ব্যবহার। এই কবিতাতেও তিনি খুব সাধারণ শব্দ দিয়ে অসাধারণ এক পরাবাস্তব (surreal) অনুভূতি তৈরি করেছেন, যা পাঠককে এক ধরণের ঘোর বা ঘোরের মধ্যে নিয়ে যায়।

২. হাসান রোবায়েতের কবিতার সাধারণ বৈশিষ্ট্য

যেহেতু এটি একটি আধুনিক এবং কিছুটা গম্ভীর ঘরানার কবিতা, তাই এর ভেতরের ভাবটি বুঝতে কবির লেখার ধরণ জানা প্রয়োজন:

  • তাঁর কবিতায় কোনো চড়া সুর বা চিৎকার থাকে না; খুব ধীর ও শান্ত লয়ে তিনি মানুষের ভেতরের সূক্ষ্ম কষ্টগুলো ফুটিয়ে তোলেন।

  • তিনি প্রথাগত উপমা (যেমন আকাশের মতো, ফুলের মতো) এড়িয়ে জীবন থেকে নেওয়া একদম নতুন ও খাঁটি উপমা ব্যবহার করেন।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট