সহকারী শিক্ষক
১১ জুলাই, ২০২৬ ০৬:৪২ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ ষষ্ঠ
বিষয়ঃ তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি
অধ্যায়ঃ অধ্যায়-২
কম্পিউটার বা ডিজিটাল ডিভাইসে ইনপুট দেওয়ার পর প্রসেসর বা সিপিইউ (CPU) সেই ডেটা প্রক্রিয়াজাত করে। প্রক্রিয়াজাতকরণের পর যে সব যন্ত্রের মাধ্যমে ফলাফল প্রকাশ পায় বা আমরা দেখতে/শুনতে পাই, সেগুলোকে আউটপুট ডিভাইস বলে। সহজ কথায়, কম্পিউটার আমাদের যা দেয় বা যার মাধ্যমে ফলাফল দেখায়, সেটাই আউটপুট ডিভাইস।
৯ম-১০ম শ্রেণির সিলেবাস অনুযায়ী গুরুত্বপূর্ণ কিছু আউটপুট ডিভাইস নিচে দেওয়া হলো:
পরিচিতি: এটি কম্পিউটারের সবচেয়ে প্রধান এবং বহুল ব্যবহৃত আউটপুট ডিভাইস। দেখতে অনেকটা টেলিভিশনের মতো।
কাজ: কম্পিউটারের সব ধরণের কাজ, ছবি, ভিডিও বা লেখা আমরা মনিটরের পর্দায় দেখতে পাই। বর্তমানে এলসিডি (LCD) এবং এলইডি (LED) মনিটর সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
পরিচিতি: কম্পিউটারে প্রক্রিয়াজাতকৃত কোনো লেখা বা ছবি স্থায়ীভাবে কাগজে ছাপানোর জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।
প্রকারভেদ: সাধারণত ৩ ধরণের প্রিন্টার বেশি দেখা যায়:
ডট ম্যাট্রিক্স প্রিন্টার (Dot Matrix Printer): এটি পুরোনো প্রযুক্তির, যেখানে পিন দিয়ে ঠুকে ঠুকে লেখা ছাপা হয়। খরচ কম হলেও মান সাধারণ।
ইঙ্কজেট প্রিন্টার (Inkjet Printer): তরল কালি স্প্রে করে অত্যন্ত নিখুঁতভাবে ছবি বা রঙিন কাজ ছাপানোর জন্য এটি জনপ্রিয়।
লেজার প্রিন্টার (Laser Printer): এটি লেজার রশ্মি ও শুকনো টোনার (কালি) ব্যবহার করে অত্যন্ত দ্রুত এবং নিখুঁতভাবে ছাপা সম্পন্ন করে। এটি অফিস ও শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়।
পরিচিতি: কম্পিউটারের শব্দ বা অডিও শোনার জন্য যে ডিভাইস ব্যবহার করা হয়।
কাজ: গান শোনা, ভিডিওর শব্দ শোনা বা ডিজিটাল ক্লাসরুমে শিক্ষকের কথা স্পষ্ট শোনার জন্য স্পিকার আউটপুট ডিভাইস হিসেবে কাজ করে।
পরিচিতি: এটি স্পিকারেরই একটি ছোট রূপ, যা সরাসরি কানের সাথে যুক্ত করে ব্যবহার করা হয়।
কাজ: আশপাশের মানুষকে বিরক্ত না করে ব্যক্তিগতভাবে কোনো শব্দ বা অডিও শোনার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়।
পরিচিতি: এটি একটি দূরপাল্লার অপটিক্যাল আউটপুট ডিভাইস।
কাজ: কম্পিউটার বা ল্যাপটপের ছোট পর্দার দৃশ্যকে লেন্সের সাহায্যে একটি বড় দেওয়ালে বা স্ক্রিনে (পর্দায়) বড় করে প্রদর্শন করার জন্য এটি ব্যবহার করা হয়। তোমাদের ক্লাসরুমে প্রজেক্টরের মাধ্যমে যে ক্লাস নেওয়া হয়, তা এই ডিভাইসের উদাহরণ।
পরিচিতি: এটি প্রিন্টারের মতোই একটি ডিভাইস, তবে এটি অনেক বড় আকারের।
কাজ: সাধারণ প্রিন্টার দিয়ে ছোট কাগজ প্রিন্ট করা গেলেও বড় বড় ব্যানার, সাইনবোর্ড, আর্কিটেকচারাল নকশা, বা বাড়ির নকশা (Blueprints) নিখুঁতভাবে বড় কাগজে প্রিন্ট করার জন্য প্লটার ব্যবহার করা হয়।
মনিটর হলো কম্পিউটারের প্রধান আউটপুট ডিভাইস।
কিছু ডিভাইস একই সাথে ইনপুট ও আউটপুট উভয় হিসেবে কাজ করে, যেমন—টাচ স্ক্রিন (Touch Screen)। কারণ এটি দিয়ে টাচ করে ইনপুট দেওয়া যায় এবং পর্দায় আউটপুটও দেখা যায়।
কম্পিউটারের আউটপুট সাধারণত দুই প্রকার: সফট কপি (যা মনিটর বা প্রজেক্টরে দেখা যায়) এবং হার্ড কপি (যা প্রিন্টার বা প্লটার দিয়ে কাগজে ছাপানো হয়)।