Loading..

পাঠসংশ্লিষ্ট ছবি/ইমেজ

রিসেট

১১ জুলাই, ২০২৬ ০৬:৫৬ পূর্বাহ্ণ

নাগরিক অধিকার কী?

নাগরিক অধিকার কী?

সহজ কথায়, সমাজে সুন্দর ও উন্নত জীবন যাপন করার জন্য রাষ্ট্র ও সমাজ আমাদের যে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা প্রদান করে, তাকেই অধিকার বলে।

অধিকারের মূল লক্ষ্য হলো নাগরিকের ব্যক্তিত্বের বিকাশ ঘটানো। রাষ্ট্র ছাড়া এই অধিকার ভোগ করা সম্ভব নয়, কারণ রাষ্ট্রই এই সুযোগ-সুবিধাগুলো দেয় এবং এর নিরাপত্তা নিশ্চিত করে। কোনো নাগরিকের অধিকার ক্ষুণ্ণ হলে সে আদালতের শরণাপন্ন হতে পারে।

নাগরিক অধিকারের প্রকারভেদ

পাঠ্যবই অনুযায়ী, নাগরিকের অধিকারকে প্রধানত দুটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

১. নৈতিক অধিকার (Moral Rights)

২. আইনগত অধিকার (Legal Rights)

নিচে এগুলো বিস্তারিতভাবে দেওয়া হলো:

১. নৈতিক অধিকার

এটি মানুষের বিবেক এবং সামাজিক নৈতিকতা বা ন্যায়বোধ থেকে আসে। এর পেছনে রাষ্ট্রের কোনো আইনের শক্তি থাকে না।

  • উদাহরণ: দুর্বলের সাহায্য পাওয়ার অধিকার, বড়দের শ্রদ্ধা ও ছোটদের স্নেহ পাওয়ার অধিকার, প্রতিবেশীর বিপদে সাহায্য পাওয়ার অধিকার।

  • মনে রাখার বিষয়: নৈতিক অধিকার ভঙ্গ করলে রাষ্ট্র কাউকে শাস্তি দিতে পারে না, তবে সমাজ তাকে নিন্দনীয় চোখে দেখে।

২. আইনগত অধিকার

যেসব অধিকার রাষ্ট্রের আইন দ্বারা স্বীকৃত ও সংরক্ষিত, সেগুলোকে আইনগত অধিকার বলে। এগুলো ভঙ্গ করলে আইনানুযায়ী শাস্তি পেতে হয়।

আইনগত অধিকারকে আবার প্রধানত ৩টি ভাগে ভাগ করা হয়েছে:

অধিকারের ধরণমূল ধারণাপ্রধান প্রধান উদাহরণ
ক. সামাজিক অধিকার (Social Rights)সমাজে শান্তিতে বসবাস এবং ব্যক্তিত্বের বিকাশের জন্য প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা।

* জীবন রক্ষার অধিকার


* চলাফেরার অধিকার


* ধর্ম পালনের অধিকার


* চুক্তি করার অধিকার


* পরিবার গঠনের অধিকার


* শিক্ষার অধিকার

খ. রাজনৈতিক অধিকার (Political Rights)রাষ্ট্রের পরিচালনায় এবং শাসনকাজে অংশ নেওয়ার জন্য নাগরিকরা যে অধিকার পায়।

* ভোট দেওয়ার অধিকার


* নির্বাচনে প্রার্থী হওয়ার বা দাঁড়ানোর অধিকার


* সরকারি চাকরি পাওয়ার অধিকার


* রাষ্ট্রের কাছে আবেদন বা সমালোচনা করার অধিকার

গ. অর্থনৈতিক অধিকার (Economic Rights)জীবন ধারণ, অন্ন-বস্ত্র-বাসস্থানের সংস্থান এবং অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হওয়ার সুযোগ।

* যোগ্যতা অনুযায়ী কাজ পাওয়ার অধিকার


* ন্যায্য মজুরি বা বেতন পাওয়ার অধিকার


* বিশ্রাম ও অবকাশ যাপনের অধিকার


* শ্রমিক সংগঠন বা ইউনিয়ন গড়ার अधिकार

অধিকার ও কর্তব্যের সম্পর্ক

পৌরনীতিতে বলা হয়, "অধিকার ও কর্তব্য একই মুদ্রার এপিঠ-ওপিঠ।"

তুমি যদি নাগরিক হিসেবে রাষ্ট্রের কাছ থেকে এই অধিকারগুলো ভোগ করতে চাও, তবে বিনিময়ে রাষ্ট্র তোমার কাছ থেকে কিছু 'কর্তব্য' বা দায়িত্ব আশা করে। যেমন— তুমি যদি সমাজ ও রাষ্ট্রে নিরাপদে চলার অধিকার চাও, তবে অন্য নাগরিকদেরও নিরাপদে চলতে দেওয়া তোমার কর্তব্য। তেমনি রাষ্ট্রের প্রতি অনুগত থাকা, নিয়মিত কর দেওয়া এবং সৎভাবে ভোট দেওয়া একজন নাগরিকের প্রধান কর্তব্য।

মন্তব্য করুন

সম্পর্কিত পোস্ট