সহকারী শিক্ষক
১১ জুলাই, ২০২৬ ০৭:০২ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৩
| বিভাজনের মানদণ্ড (ভিত্তি) | রাষ্ট্রের প্রকারভেদ |
| ১. অর্থনীতির ভিত্তিতে | ক. পুঁজিবাদী রাষ্ট্র খ. সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র |
| ২. ক্ষমতার উৎসের ভিত্তিতে | ক. গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র খ. একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র |
| ৩. ক্ষমতা বণ্টনের নীতি অনুযায়ী | ক. এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র খ. যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্র |
| ৪. উদ্দেশ্যের ভিত্তিতে | ক. জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র |
| ৫. উত্তরাধিকার সূত্রের ভিত্তিতে | ক. রাজতন্ত্র (নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র) খ. প্রজাতন্ত্র |
অর্থনীতির ওপর ভিত্তি করে বা সম্পত্তির মালিকানার ওপর নির্ভর করে রাষ্ট্র দুই প্রকার:
পুঁজিবাদী রাষ্ট্র (Capitalist State): এই রাষ্ট্রে সম্পত্তির ওপর নাগরিকদের ব্যক্তিগত মালিকানা থাকে। উৎপাদন ও বণ্টনের ব্যবস্থা অবাধ প্রতিযোগিতার মাধ্যমে বেসরকারিভাবে পরিচালিত হয়। বিশ্বের অধিকাংশ রাষ্ট্রই (যেমন: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য) পুঁজিবাদী।
সমাজতান্ত্রিক রাষ্ট্র (Socialist State): এই রাষ্ট্রে ব্যক্তিগত মালিকানা স্বীকার করা হয় না। উৎপাদন ও বণ্টনের সমস্ত উপাদান রাষ্ট্রের নিয়ন্ত্রণে থাকে। এটি একটি একদলীয় শাসন ব্যবস্থা (যেমন: চীন, কিউবা)।
জনগণের ক্ষমতার ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র দুই প্রকার:
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র (Democratic State): যে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় শাসনক্ষমতা কোনো বিশেষ ব্যক্তি বা শ্রেণির হাতে না থেকে রাষ্ট্রের সব জনগণের ওপর ন্যস্ত থাকে, তাকে গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বলে। জনগণ তাদের পছন্দমতো প্রতিনিধি নির্বাচন করে। বাংলাদেশ, ভারত ও যুক্তরাজ্য গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
একনায়কতান্ত্রিক রাষ্ট্র (Dictatorial State): এটি গণতন্ত্রের সম্পূর্ণ বিপরীত। একনায়কতন্ত্র হলো এক ব্যক্তি বা এক দলের শাসন। এতে জনগণের অধিকার ও মতামতের কোনো মূল্য থাকে না (যেমন: হিটলারের জার্মানি)।
কেন্দ্র ও প্রদেশের মধ্যে ক্ষমতা কীভাবে বণ্টন করা হয়েছে, তার ওপর ভিত্তি করে রাষ্ট্র দুই প্রকার:
এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র (Unitary State): যে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে রাষ্ট্রের সব শাসনক্ষমতা কেন্দ্রীয় সরকারের হাতে ন্যস্ত থাকে, তাকে এককেন্দ্রিক রাষ্ট্র বলে। এখানে কোনো প্রদেশ বা আলাদা আঞ্চলিক সরকার থাকে না। কেন্দ্র থেকেই পুরো দেশ চালানো হয় (যেমন: বাংলাদেশ, যুক্তরাজ্য)।
যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্র (Federal State): যে রাষ্ট্র ব্যবস্থায় সংবিধানের মাধ্যমে শাসনক্ষমতা কেন্দ্র ও প্রদেশ বা আঞ্চলিক সরকারগুলোর মধ্যে বণ্টন করা হয়, তাকে যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্র বলে। এখানে একাধিক প্রদেশ বা অঙ্গরাজ্য মিলে একটি রাষ্ট্র গঠিত হয় (যেমন: ভারত, যুক্তরাষ্ট্র)।
রাষ্ট্রের কাজের লক্ষ্য বা উদ্দেশ্যের ওপর ভিত্তি করে একটি বিশেষ ধরন আলোচনা করা হয়েছে:
জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র (Welfare State): যে রাষ্ট্র জনগণের কেবল জান-মালের নিরাপত্তাই দেয় না, বরং জনগণের সামাজিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক কল্যাণের জন্য ব্যাপক কাজ করে, তাকে জনকল্যাণমূলক রাষ্ট্র বলে। এই রাষ্ট্র নাগরিকের মৌলিক চাহিদা (অন্ন, বস্ত্র, বাসস্থান, শিক্ষা, চিকিৎসা) পূরণে সবসময় সচেষ্ট থাকে (যেমন: সুইডেন, নরওয়ে)।
রাষ্ট্রপ্রধান কীভাবে ক্ষমতা লাভ করেন, তার ওপর ভিত্তি করে এই বিভাজন:
রাজতন্ত্র (Monarchy): উত্তরাধিকার সূত্রে বা বংশানুক্রমিকভাবে যদি কোনো ব্যক্তি রাষ্ট্রের প্রধান হন, তাকে রাজতন্ত্র বলে। বর্তমানে সাধারণত নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র দেখা যায়, যেখানে রাজা বা রানি শুধু মর্যাদাগতভাবে রাষ্ট্রপ্রধান থাকেন, কিন্তু আসল ক্ষমতা থাকে জনগণের নির্বাচিত সরকারের হাতে (যেমন: গ্রেট ব্রিটেন বা যুক্তরাজ্য)।
প্রজাতন্ত্র (Republic): যে শাসন ব্যবস্থায় রাষ্ট্রের প্রধান জনগণের প্রত্যক্ষ বা পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন, তাকে প্রজাতন্ত্র বলে। এখানে কোনো বংশানুক্রমিক শাসক থাকে না। বাংলাদেশ ও ভারত এক একটি প্রজাতন্ত্র (তাই বাংলাদেশের অফিশিয়াল নাম— ‘গণপ্রজাতন্ত্রী বাংলাদেশ’)।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ টিপস:
পরীক্ষায় প্রায়ই প্রশ্ন আসে— "বাংলাদেশ কোন ধরনের রাষ্ট্র?" উত্তর হবে: বাংলাদেশ একটি গণতান্ত্রিক, এককেন্দ্রিক ও প্রজাতান্ত্রিক রাষ্ট্র।
"যুক্তরাজ্য" বা গ্রেট ব্রিটেনে একই সাথে গণতন্ত্র ও নিয়মতান্ত্রিক রাজতন্ত্র বিদ্যমান।
"ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র" হলো যুক্তরাষ্ট্রীয় রাষ্ট্রের বড় উদাহরণ।