সহকারী শিক্ষক
১১ জুলাই, ২০২৬ ০৭:৪৩ পূর্বাহ্ণ
সহকারী শিক্ষক
ধরনঃ সাধারণ শিক্ষা
শ্রেণিঃ নবম
বিষয়ঃ পৌরনীতি ও নাগরিকতা
অধ্যায়ঃ অধ্যায় ৫
সংবিধান হলো রাষ্ট্র পরিচালনার মৌলিক নিয়মের সমষ্টি। সরকারের ক্ষমতা, নাগরিকদের অধিকার ও কর্তব্য এবং শাসক ও শাসিতের সম্পর্ক কেমন হবে—তা সংবিধানে উল্লেখ থাকে। এই বৈশিষ্ট্যের ওপর ভিত্তি করে সংবিধানকে প্রধানত দুটি মানদণ্ডের সাহায্যে ভাগ করা হয়েছে।
সংবিধান
│
┌───────────────┴───────────────┐
▼ ▼
লিপিবদ্ধকরণ বা লেখার ভিত্তিতে সংশোধনের ভিত্তিতে
│ │
┌─────┴─────┐ ┌─────┴─────┐
▼ ▼ ▼ ▼
লিখিত অলিখিত সুপরিবর্তনীয় দুস্পরিবর্তনীয়
সংবিধানের ধারাগুলো লিখিত আকারে আছে নাকি নেই, তার ওপর ভিত্তি করে একে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
ক. লিখিত সংবিধান (Written Constitution): যে সংবিধানের অধিকাংশ ধারা বা নিয়মাবলি দলিল আকারে লিখিত থাকে, তাকে লিখিত সংবিধান বলে। এটি একটি সুনির্দিষ্ট বই বা দলিলের মতো হয়।
বৈশিষ্ট্য: এটি সাধারণত স্পষ্ট ও নিশ্চিত হয়, যার ফলে শাসক ও জনগণের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি কম হয়।
উদাহরণ: বাংলাদেশ, ভারত, পাকিস্তান ও যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান লিখিত।
খ. অলিখিত সংবিধান (Unwritten Constitution): যে সংবিধানের অধিকাংশ নিয়মাবলি কোনো একটি নির্দিষ্ট দলিলে লিপিবদ্ধ থাকে না, বরং দীর্ঘদিনের প্রথা, রীতিনীতি, আচার-আচরণ ও আদালতের সিদ্ধান্তের ওপর ভিত্তি করে গড়ে ওঠে, তাকে অলিখিত সংবিধান বলে।
বৈশিষ্ট্য: এটি পুরোপুরি অলিখিত নয়, কিছু অংশ লিখিত থাকলেও এর মূল ভিত্তি প্রথা ও ঐতিহ্যের ওপর নির্ভরশীল। এটি সময়ের সাথে সহজে পরিবর্তনশীল।
উদাহরণ: যুক্তরাজ্য (গ্রেট ব্রিটেন), নিউজিল্যান্ড ও সৌদি আরবের সংবিধান অলিখিত।
সংবিধানের কোনো নিয়ম বা ধারা কতটুকু সহজে বা কঠিন প্রক্রিয়ায় পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায়, তার ওপর ভিত্তি করে একে দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
ক. সুপরিবর্তনীয় সংবিধান (Flexible Constitution): যে সংবিধানের কোনো ধারা বা নিয়ম খুব সহজে, সাধারণ আইন প্রণয়নের পদ্ধতিতে (সংসদের সাধারণ সংখ্যাগরিষ্ঠতায়) পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায়, তাকে সুপরিবর্তনীয় সংবিধান বলে।
বৈশিষ্ট্য: এ ধরণের সংবিধান পরিবর্তনের জন্য কোনো জটিল প্রক্রিয়ার প্রয়োজন হয় না। তাই এটি পরিবর্তনশীল সমাজের সাথে দ্রুত খাপ খাইয়ে নিতে পারে। তবে ঘন ঘন পরিবর্তনের ফলে রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা নষ্ট হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
উদাহরণ: যুক্তরাজ্যের (ব্রিটেন) সংবিধান সুপরিবর্তনীয়।
খ. দুস্পরিবর্তনীয় সংবিধান (Rigid Constitution): যে সংবিধানের কোনো ধারা বা নিয়ম সহজে পরিবর্তন বা সংশোধন করা যায় না, তাকে দুস্পরিবর্তনীয় সংবিধান বলে।
বৈশিষ্ট্য: এটি সংশোধন করতে হলে একটি জটিল প্রক্রিয়ার আশ্রয় নিতে হয়। সাধারণত বিশেষ সংখ্যাগরিষ্ঠতা (যেমন: দুই-তৃতীয়াংশ ভোট) বা গণভোটের প্রয়োজন পড়ে। এই সংবিধান সহজে পরিবর্তন করা যায় না বলে এটি বেশ স্থায়ী ও দৃঢ় হয়।
উদাহরণ: যুক্তরাষ্ট্রের সংবিধান দুস্পরিবর্তনীয়।
বাংলাদেশের সংবিধান কেমন? বাংলাদেশের সংবিধান লিখিত এবং দুস্পরিবর্তনীয়। এর কারণ হলো, বাংলাদেশের সংবিধানের একটি নির্দিষ্ট ও লিখিত দলিল রয়েছে এবং এর কোনো ধারা সংশোধন করতে হলে জাতীয় সংসদের মোট সদস্য সংখ্যার দুই-তৃতীয়াংশ (২/৩) ভোটের প্রয়োজন হয়, যা সাধারণ আইন পাসের চেয়ে জটিল।
যুক্তরাজ্যের সংবিধান কেমন? যুক্তরাজ্যের সংবিধান একই সাথে অলিখিত এবং সুপরিবর্তনীয়।