পদার্থের গঠন (Structure of Matter)
আমাদের চারপাশে যা কিছু দেখতে পাই, যা জায়গা দখল করে এবং যার ভর ও ওজন আছে, তাকেই পদার্থ বলে। প্রাচীনকাল থেকেই দার্শনিক ও বিজ্ঞানীরা পদার্থের মূল রহস্য উদঘাটনের চেষ্টা করে আসছেন। আধুনিক বিজ্ঞান অনুযায়ী, সকল পদার্থই অত্যন্ত ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র কণা দিয়ে গঠিত।
১. পদার্থের মূল উপাদান: পরমাণু ও অণু
- অণু (Molecule): পদার্থ যে ক্ষুদ্রতম কণিকা দ্বারা গঠিত এবং যার মধ্যে পদার্থের স্বাভাবিক ভৌত ও রাসায়নিক বৈশিষ্ট্যগুলো পূর্ণরূপে বজায় থাকে, তাকে অণু বলে। যেমন: পানির একটি অণু (H_2O) বা অক্সিজেনের একটি অণু (O_2)।
- পরমাণু (Atom): মৌলিক পদার্থের ক্ষুদ্রতম কণা যা রাসায়নিক বিক্রিয়ায় অংশগ্রহণ করে কিন্তু স্বাধীনভাবে মুক্ত অবস্থায় থাকতে পারে না (কিছু নিষ্ক্রিয় গ্যাস ব্যতীত), তাকে পরমাণু বলে। একাধিক পরমাণু একত্রিত হয়ে অণু গঠন করে।
২. পরমাণুর গঠন (Structure of an Atom)
প্রতিটি পরমাণু মূলত দুটি প্রধান অংশ নিয়ে গঠিত:
- নিউক্লিয়াস (Nucleus): পরমাণুর কেন্দ্রস্থলে অবস্থিত অত্যন্ত ক্ষুদ্র, ঘন এবং ভারী অংশ হলো নিউক্লিয়াস। এটি প্রোটন এবং নিউট্রন সমন্বয়ে গঠিত। পরমাণুর প্রায় সমস্ত ভরই নিউক্লিয়াসে কেন্দ্রীভূত থাকে।
- শক্তিস্তর বা কক্ষপথ (Orbit): নিউক্লিয়াসকে কেন্দ্র করে নির্দিষ্ট বৃত্তাকার পথে ইলেকট্রনগুলো অবিরাম ঘুরতে থাকে। এই পথগুলোকে কক্ষপথ বলে।
৩. পরমাণুর মৌলিক কণিকা (Subatomic Particles)
একটি পরমাণু প্রধানত তিনটি স্থায়ী মৌলিক কণিকা দিয়ে গঠিত:
| কণিকার নাম | আধান বা চার্জ (Charge) | আপেক্ষিক ভর | অবস্থান |
| প্রোটন (Proton) | ধনাত্মক (+1) | প্রায় 1 amu | নিউক্লিয়াসের ভিতরে |
| নিউট্রন (Neutron) | আধানহীন বা নিরপেক্ষ (0) | প্রায় 1 amu | নিউক্লিয়াসের ভিতরে |
| ইলেকট্রন (Electron) | ঋণাত্মক (-1) | অতি নগণ্য (\frac{1}{1836} amu) | নিউক্লিয়াসের বাইরের কক্ষপথে |
৪. পদার্থের শ্রেণিবিভাগ
গঠন এবং প্রকৃতির ওপর ভিত্তি করে পদার্থকে প্রধানত দুই ভাগে ভাগ করা হয়:
- মৌলিক পদার্থ (Element): যে পদার্থকে ভাঙলে বা রাসায়নিকভাবে বিশ্লেষণ করলে কেবল সেই পদার্থ ছাড়া অন্য কোনো সরল পদার্থ পাওয়া যায় না, তাকে মৌলিক পদার্থ বলে। যেমন: হাইড্রোজেন, অক্সিজেন, লোহা, তামা ইত্যাদি।
- যৌগিক পদার্থ (Compound): দুই বা ততোধিক মৌলিক পদার্থ নির্দিষ্ট অনুপাতে রাসায়নিকভাবে মিলিত হয়ে যে নতুন পদার্থ গঠন করে, তাকে যৌগিক পদার্থ বলে। যেমন: পানি (H_2O) তৈরি হয় হাইড্রোজেন ও অক্সিজেন দিয়ে, এবং লবণ (NaCl) তৈরি হয় সোডিয়াম ও ক্লোরিন দিয়ে।